এসএসসি ও এইচএসসি সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্যে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ ২০১৪ বৃত্তির বিস্তারিত তথ্য

এসএসসি / সমমান বৃত্তি ২০১৪ এবং এইচএসসি / সমমান বৃত্তি ২০১৪ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্যে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ ২০১৪ বৃত্তির জন্যে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৪ সকাল ৯টা থেকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ বিকাল ৫ টা পর্যন্ত এই বৃত্তির জন্য আবেদন করা যাবে। এই বৃত্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলোঃ tangail

ক. আবেদনের শর্তাবলী

১. আবেদনকারীকে টাঙ্গাইল জেলার স্থায়ী বাসিন্দা এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে।

২. শিক্ষার্থীকে ২০১৪ সালের এসএসসি/ সমমান অথবা এইচএসসি/ সমমান পরীক্ষায় জিপিএ ৫ (পাঁচ) প্রাপ্ত হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান/ প্রতিবন্ধী প্রার্থীর ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ

৩.৫ (তিন দশমিক পাঁচ) হলেও আবেদন করা যাবে।

৩. শিক্ষার্থীকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। কাগজপত্রে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

৪. আবেদন করার সময় ১৫ ডিসেম্বর ২০১৪ সকাল ৯.০০টা থেকে ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখ বিকাল ৫.০০টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময় অতিক্রমের পর আর কোন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

খ. অনলাইনে আবেদন করার প্রয়োজনীয় উপকরণ

১. ইমেইল একাউন্ট

২. ২০১৪ সালের এসএসসি/ সমমান অথবা এইচএসসি/ সমমান-এর রোল নম্বর (সংশ্লিষ্ট এসএসসি/ সমমানের রোল নম্বরসহ)

৩. পাসপোর্ট আকারের স্ক্যান/ সফট কপি ছবি (আকার: ৪০০x৪০০ পিক্সেল অথবা তার বেশি)

৪. মোবাইল নম্বর

৫. টাঙ্গাইল জেলার নাগরিকত্ব সনদের স্ক্যান কপি (আকার: ৪০০x৪০০ পিক্সেল অথবা তার বেশি)

৬. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পিতা/ মাতার মুক্তিযোদ্ধা সনদের স্ক্যান কপি (আকার: ৪০০x৪০০ পিক্সেল অথবা তার বেশি)

৭. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীতার প্রমাণপত্রের স্ক্যান কপি (আকার: ৪০০x৪০০ পিক্সেল অথবা তার বেশি)

৮. বর্তমানে অধ্যয়নরত প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত ছাত্রত্বের প্রমাণপত্রের স্ক্যান কপি (আকার: ৪০০x৪০০ পিক্সেল অথবা তার বেশি)

৯. ইউপি চেয়ারম্যান/ পৌরসভার কাউন্সেলর/ প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত পিতামাতা/ পিতা/ মাতা/ অভিভাবক এর বার্ষিক আয়ের সনদপত্র (আকার: ৪০০x৪০০ পিক্সেল অথবা তার বেশি)

১০. আবেদনকারীর স্বাক্ষর (তারিখসহ)-এর স্ক্যান কপি (আকার: ২০০x১০০ পিক্সেল অথবা তার বেশি)।

 

গ. আবেদন করার পর্যায়সমূহ

১ম পর্যায়: অ্যাকাউন্ট তৈরি

১.১. নিজ নামে একটি ইমেইল এড্রেস খুলুন (যদি ইমেইল এড্রেস না থাকে)।

১.২. এই লিঙ্কের সাইটে প্রবেশ করুন

১.৩. ‘নতুন অ্যাকাউন্ট’ লিঙ্ক-এ ক্লিক করুন।

১.৪. ‘ইমেইল’ ঘরে আপনার ইমেইল এড্রেসটি দিন।

১.৫. পাসওয়ার্ড এর ঘর পূরণ করুন এবং এখানে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসারে তা নিশ্চিত করুন।

১.৬. সঠিকভাবে ক্যাপচা পূরণ করুন এবং ‘নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন’ এ ক্লিক করুন। আপনার ইমেইল ঠিকানায় অ্যাকাউন্ট তৈরী করা সংক্রান্ত একটি ইমেইল চলে যাবে।

১.৭. আপনাকে পাঠানো ইমেইলে প্রদত্ত লিঙ্কটি ক্লিক করে আপনার অ্যাকাউন্ট অ্যাকটিভ করুন।

 

২য় পর্যায়: লগ-ইন

২.১. ‘লগ ইন’ এর উপর ক্লিক করুন।

২.২. আপনার ইমেইল ঠিকানা দিন যা প্রথম ধাপে রেজিস্ট্রেশন এর সময় ব্যবহার করেছিলেন।

২.৩. আপনার পাসওয়ার্ড দিন এবং ‘লগ ইন’ এ ক্লিক করুন।

২.৪. যদি পাসওয়ার্ড ভুলে যান, তাহলে ‘পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?’ লিঙ্কে ক্লিক করে নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করুন।

 

৩য় পর্যায়: বৃত্তির আবেদন

৩.১. ‘ড্যাশবোর্ড’ লিঙ্কে ক্লিক করুন।

৩.২. যদি আপনি এইচএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষার জন্য বৃত্তির আবেদন করতে চান তাহলে ‘এইচএসসি ২০১৪ বৃত্তির আবেদন’ লিঙ্ক-এ ক্লিক করুন। আর যদি আপনি এসএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষার জন্য বৃত্তির আবেদন করতে চান তাহলে ‘এসএসসি ২০১৪ বৃত্তির আবেদন’ লিঙ্ক-এ ক্লিক করুন।

৩.৪. “প্রথম ধাপ”: এসএসসি বৃত্তি আবেদনের জন্য: আপনার পরীক্ষার ধরন ও শিক্ষাবোর্ড নির্বাচন করুন এবং আপনার এসএসসি রোল নম্বর দিন। এইচএসসি’র আবেদনের ক্ষেত্রে আপনার এইচএসসি পরীক্ষার ধরন ও শিক্ষাবোর্ড নির্বাচন করুন এবং আপনার এইচএসসি রোল নম্বর দিন। তারপর আপনার এসএসসি পরীক্ষার ধরন ও শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করুন এবং আপনার এসএসসি রোল নম্বর দিন।

৩.৫. আপনার আবেদনের ধরন নির্বাচন করুন। আপনি সাধারণ আবেদনকারী হলে ‘সাধারণ’ নির্বাচন করুন। যদি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটায় আবেদন করতে চান তাহলে ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা’ নির্বাচন করুন। আর প্রতিবন্ধী কোটায় আবেদন করতে হলে ‘প্রতিবন্ধী কোটা’ নির্বাচন করুন।

৩.৬. ‘নেক্সট’ এ ক্লিক করুন। আপনি যদি শিক্ষা বৃত্তির আবেদনের জন্য যোগ্য হন, তাহলে আপনার এইচএসসি/ সমমান এবং এসএসসি/ সমমান পরীক্ষার ফলাফল দেখতে পাবেন এবং আবেদনের পরবর্তি অংশসমূহ পূরণ করার সুযোগ পাবেন।

৩.৭. যদি শিক্ষাবোর্ড থেকে আপনার রেজাল্ট না পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতিতে আবেদনের ফর্ম পূরণ করতে হবে। বিকল্প আবেদন ফর্মে সঠিক বানানে আপনার তথ্যাদি প্রদান করুন। ‘নেক্সট’ এ ক্লিক করুন।

৩.৮. “দ্বিতীয় ধাপ”: আপনার জেন্ডার সিলেক্ট করুন। ‘নেক্সট’ এ ক্লিক করুন।

৩.৯. “তৃতীয় ধাপ”: আপনি যে উপজেলার স্থায়ী নাগরিক সেই উপজেলা নির্বাচন করুন। আপনার মোবাইল নম্বর দিন, যে নাম্বারে আপনার সঙ্গে প্রয়োজনে যোগাযোগ করা যাবে। ‘নেক্সট’ এ ক্লিক করুন।

৩.১০. “চতুর্থ ধাপ”: পাসপোর্ট সাইজের আপনার একটি ছবির স্ক্যান কপি আপলোড করুন। ‘নেক্সট’ এ ক্লিক করুন।

৩.১১. “পঞ্চম ধাপ”: আপনার স্থায়ী নাগরিকত্বের সনদপত্র (ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/ পৌরসভার কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত) স্ক্যান কপি আপলোড করুন। মুক্তিযোদ্ধা কোটা-র জন্য, আবেদনকারীর পিতা/ মাতার মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্রের (মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল/ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রদত্ত) স্ক্যান কপি আপলোড করুন। প্রতিবন্ধী কোটা-র জন্য, ‘আবেদনকারী প্রতিবন্ধী’ মর্মে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করুন। আপনার বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সনদপত্র/ আইডি কার্ড (যদি থাকে) স্ক্যান কপি আপলোড করুন। ‘নেক্সট’ এ ক্লিক করুন।

৩.১২. “ষষ্ঠ ধাপ”: ইউপি চেয়ারম্যান/ পৌরসভার কাউন্সেলর/ প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত পিতামাতা/ পিতা/ মাতা/ অভিভাবক এর বার্ষিক আয়ের সনদপত্র/ সনদপত্রসমূহের স্ক্যান কপি আপলোড করুন এবং ‘বার্ষিক আয়ের পরিমাণ’ ঘরে সনদপত্রে লিখিত বার্ষিক আয়ের পরিমাণটি লিখুন। যদি একাধিক স্ক্যান কপি আপলোড করেন, তাহলে ‘বার্ষিক আয়ের পরিমাণ’ ঘরে মোট পরিমাণ দিন। ‘নেক্সট’ এ ক্লিক করুন।

৩.১৩. “সপ্তম ধাপ”: ‘প্রদত্ত সমস্ত তথ্য আমার জানামতে সঠিক’ বক্সে টিক দিন। আপনার স্বাক্ষর (তারিখসহ) এর স্ক্যান কপি আপলোড করুন। সবশেষে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করুন (আপনার ইমেইল ঠিকানায় আবেদন গ্রহণ সংক্রান্ত একটি ইমেইল চলে যাবে। মেইলটি প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। এছাড়া আপনার প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে একটি এসএমএস যেতে পারে, সেটি সংরক্ষণ করুন)।

৩.১৪. “সতর্কতা”: অসত্য তথ্য দিয়ে আবেদন করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।

 

৪র্থ পর্যায়: ফলাফল

৪.১. বৃত্তির ফলাফল প্রকাশ হলে ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হবে। এছাড়া জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মোবাইল নাম্বারে এসএমএসের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হতে পারে।

৪.২. বৃত্তির অর্থ গ্রহণের বিষয়ে নির্দেশনা পেতে ফলাফল প্রকাশের পর ফলাফলের পৃষ্ঠা দেখুন। তাছাড়া, নোটিশ পৃষ্ঠা নিয়মিত লক্ষ করুন।

৪.৩. বৃত্তি গ্রহণের সময় এসএসসি’র বৃত্তির ক্ষেত্রে এসএসসি’র রেজিস্ট্রেশন কার্ড/ এইচএসসি’র বৃত্তির ক্ষেত্রে এইচএসসি’র রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও অধ্যয়নরত সম্পর্কিত প্রমাণপত্র (আবেদনের সময় না দেওয়া থাকলে) প্রদর্শন করতে হবে।

৪.৪. নিজ আবেদন নিজেই প্রেরণ করা উত্তম। প্রয়োজনে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, যে কোনো সাইবার ক্যাফে অথবা টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সহযোগিতা গ্রহণ করে আবেদন করা যেতে পারে।

ফলাফল

বৃত্তির ফলাফল প্রকাশ হলে আপনাদের ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হবে। প্রয়োজনে এসএমএসের মাধ্যমেও যোগাযোগ করা হতে পারে। এছাড়া, এই লিঙ্কে খেয়াল রাখুন।

পোষ্টটি লিখেছেন: আল মামুন মুন্না

আল মামুন মুন্না এই ব্লগে 605 টি পোষ্ট লিখেছেন .

আল মামুন মুন্না, বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমিউনিটি ব্লগ সাইট "লেখাপড়া বিডি"র প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন যশোর সরকারী এম. এম. কলেজ থেকে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিষয় নিয়ে বি.বি.এ অনার্স সম্পন্ন করে আজম খান সরকারী কমার্স কলেজে এমবিএ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *