ক্যারিয়ার কিভাবে ঠিক করবেন

মানুষ বাঁচে স্বপ্নে। স্বপ্ন মানুষকে ধাবিত করে নতুন কিছু করার। নতুন উদ্যমে কাজ করার। অজানাকে জানার। স্বপ্ন আমাদের মাঝে আশা তৈরি করে বড় কিছু করার। আমাদের মাঝে এই স্বপ্ন তৈরী হয় কিভাবে? ব্যাপারটা হুট করে মাথায় চলে আসল বিষয়টা কি এরকম?

আমরা ছোটবেলা থেকে যা দেখেছি, যা শুনেছি, যা অনুভব করেছি, যেমন আমাদের পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা ছিল – সেসবগুলোই আমাদের স্বপ্ন তৈরি হওয়ার পেছনে অনুঘটকের মত কাজ করে। এমনকি আপনি যে মুভিটা দেখছেন, যে বইটি পড়ছেন তাও আপনার ব্রেনে যেটাকে আমরা বলি সাবকন্সাস মাইন্ড সেখানে স্টোর হয়ে রইল। ভবিষ্যতে কোন না কোন দিন কোন না কোন মুহূর্তে এই মুভি বা গল্পের বিষয়গুলোই আপনাকে স্বপ্ন দেখাতে ইন্সেন্টিভ হিসেবে কাজ করবে।

একটা ছোট্ট সিম্পল উদাহরণ দিই। কুয়ার ব্যাঙ সারাজীবন কুয়ার ভিতরেই তার গন্ডিকে সীমাবদ্ধ রাখে। সে ভাবছে তার কুয়ার পানিটুকুকেই পানি বলে আর উপরে তাকিইয়ে যখন আকাশ দেখে তখন ভাবে এটাকেই আকাশ বলে। এর বাইরে তার দৃষ্টি যায় না তাই এর বাইরেও যে কত বড় জগত রয়েছে তা তার মাথায় আসে না। তাই সমুদ্রের কোন মাছ যখন কুয়াতে আসে আর এসে বলে সমুদ্রের পানি অনেক বেশি আর আকাশ অনেক বড় তখন কুয়ার ব্যাঙ বিশ্বাস করতে চায় না। এখন সমুদ্রে মাছ যে স্বপ্ন দেখবে কুয়ার ব্যাঙ তা জীবনেও দেখা সম্ভব নয় যদি না সে সমুদ্রে গিয়ে একটু ঘুরে আসে।

আমরা যখন স্বপ্ন দেখি কোন বড় কিছু করব। স্বপ্ন পূরণ হলে জীবন পাল্টে যাবে। তখন বুঝে নিতে হবে যে আমাদের ঐ স্বপ্ন তৈরি হয়েছে আমাদের ভিতরে যা ফিডেড আছে তার উপর। এর বাইরে আমরা কিছু চিন্তাই করতে পারি না আর স্বপ্ন দেখা তো দূরে থাক। আর এজন্যই ভিন্ন মতাদর্শের কোন ব্যক্তি যখন আপনাকে ভিন্ন কিছু বোঝাতে আসে তখন আপনি ভাবেন যে আপনার ধারণাটাই সঠিক আর বাকি সব পাগল।

ধর্ষক যেভাবে দিনের পর দিন পর্নোগ্রাফির ভিডিও দেখেছে যেভাবে তার মাকে নির্যাতিত হতে দেখেছে, যেভাবে শুনে এসেছে যে মেয়ে মানুষ মানেই ভোগ্যপণ্য- সেভাবে আমি আপনি শুনিনি বা দেখিনি। আর তাই তার পক্ষে ধর্ষন করা সম্ভব হয়েছে। হয়তো আপনিও দেখেন বা শোনেন। যদি তা-ই হয়ে থাকে তাহলে জেনে রাখুন আপনিও একজন ধর্ষক। ধর্ষকের চিন্তাধারা মনমানসিকতা আপনিও বহন করেন।

সমাজে যা দেখছেন যা শুনছেন তা-ই নিজের জীবনে ইমপ্লিমেন্ট করছেন। বিসিএস/জুডিশিয়ারী বা প্রথম শ্রেণির সরকারী চাকুরীকে যেভাবে আপনার পরিবার বা সমাজ আপনার মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে সেই অনুপাতেই স্বপ্ন দেখছেন। অথচ পাশের দেশ ভারতেই প্রাইভেট এবং বিদেশী কোম্পানীগুলোর সিইও হওয়ার যে স্বপ্ন তারা দেখে সে ব্যাপারে মাথায়ই আসে না।

মোদ্দাকথা হচ্ছে স্বপ্ন যখন দেখবেন, বড়টাই দেখেন। সবথেকে বড়। এই দুনিয়ার সবথেকে বড়। আর সেটার জন্য আপনার চিন্তাধারা বদলাতে হবে। আর চিন্তাধারা বদলাতে হলে আগে ভাল কিছু দেখতে হবে। ভাল কিছু শুনতে হবে।

এখন কথা হচ্ছে আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা তো আমরা চেঞ্জ করতে পারব না। এখানে আমাদের বুঝতে হবে আপনিও এই সমাজের বাইরে নন। আপনি আমিও এই সমাজেরই অংশ। আপনি যখন ভাল কিছু বলবেন তখনই তো আপনার আশেপাশের মানুষ ভাল কিছু শুনবে। কাউকে না কাউকে তো বলতে হবে তাহলেই তো বাকিরা শুনবে। আর যখন বাকিরা শুনবে তাদের চিন্তাধারারও পরিবর্তন ঘটবে। তাদের চিন্তাধারা পরিবর্তন হলে তারাও ভাল কথা বলবে। আর তারা ভাল কথা বললে আপনিও তাদের থেকে ভাল কথা শুনবেন। আর আপনি যখন ভাল কথা শুনবেন তখন আপনার চিন্তাধারারও আবার প্রসার ঘটবে। আর এভাবেই চলতে থাকবে। শুরুটা করতে হবে আমি আপনি নিজে।

আপনি যে বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন তার আদ্যোপান্ত সকল দিক জেনে নিয়ে ক্যারিয়ার ঠিক করুন। ধরুন, আপনি আইন বিষয়ে পড়েছেন। এখন আপনার ভিতরে যা ফিডেড আছে আর আশেপাশের পরিবেশ থেকে যা শুনছেন তাতে আপনি হুট করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিবেন যে আপনি জুডিশিয়ারী দিবেন। তবে আপনি যদি চান বড় কিছু করার, এমন কিছু করার যাতে ইতিহাস রচিত হবে আপনাকে দিয়ে, তাহলে আপনাকে সময় নিয়ে একটু ভাবতে হবে। একটু চিন্তা হবে। নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে। জানার চেষ্টা করতে হবে যে আপনার ইন্টারেস্ট কোন জায়গায়? কি করতে আপনার ভাল লাগে?

এখন এতেও সমস্যা আছে। আপনি চিন্তা করবেন যে আপনার কোন বিষয়টাতে ইন্টারেস্ট আছে- তখনও আপনার মধ্যে ফিডেড বিষয়গুলোই চলে আসবে। আপনি যেটা করতে পারেন সেটা হচ্ছে আপনার মত সাবজেক্টে আরও যারা পড়েছেন এবং সফল হয়েছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তাদেরকে অবজার্ভ করতে পারেন। তাদের দেখে বা কথা বলে বুঝতে পারেন যে তারা যে কাজগুলো সারাদিন করছে সেটাতে আপনার ইন্টারেস্টের সাথে ম্যাচ হতে পারে। আপনি গুগল সার্চ করতে পারেন। আপনার সাবজেক্টে কোন কোন ব্যক্তি পৃথিবীতে ইতিহাস রচনা করে গেছেন। তাদের দেখে ইন্সপায়ারড হতে পারেন। মোটকথা আপনার মাথা খুলতে হবে। শুধু এক গন্ডির মধ্যে ক্যারিয়ারকে সীমাবদ্ধ না রেখে একটু ফ্লেক্সিবল হতে হবে।

আপনাকে যেটা বুঝতে হবে সেটা হচ্ছে আপনার কাজে আগ্রহ নিয়ে আসতে হবে এবং কাজকে ভালবাসতে হবে। টাকা বা সুনামকে সামনে রেখে ক্যারিয়ার ঠিক করতে গেলে যে সমস্যাটা হবে সেটা হচ্ছে এগুলো ক্ষণস্থায়ী। অর্থের সাথে নেসেসিটির সম্পর্ক তো আছে কিন্তু হ্যাপিনেসের কানেকশন খুব বেশি নয়। আবার আজ আপনার সুনামে যে পঞ্চমুখ হয়ে আছে সেই আবার দুদিন পর দ্ররনাম করতে পিছপা হবে না। তাই ক্যারিয়ার ঠিক করতে হবে কাজের প্রতি আগ্রহ বা ভালবাসা থেকে। যে ক্যারিয়ারই বাছাই করুন না কেন সেই কাজটিকে ভালবাসলে কোনদিন দুঃখ করবেন না।

পোষ্টটি লিখেছেন: Sakura

এই ব্লগে এটাই এর প্রথম পোষ্ট.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *