করোনায় শিক্ষা অবস্থা ও পরীক্ষা

শুরু করব আশার কথা দিয়ে। অক্সফোর্ডের তৈরি ভ্যাকসিনটি তৃতীয় ধাপেও কার্যকরী বলে প্রতিভাত হচ্ছে। এখন দেখা যাক আমরা কিভাবে পেতে পারি। করোনাভাইরাসের কারণে দেশে-বিদেশে আজ শিক্ষা ব্যবস্থায় ভঙ্গুরতার সৃষ্টি হয়েছে। কোননা, ফিজিক্যালি প্রেজেন্ট না থেকে পড়াশোনা করা সম্ভব হলেও নকলমুক্তভাবে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়াটা অনেকটা অসম্ভব। নকলমুক্তভাবে অনলাইনে পরীক্ষা নিতে হলে অবশ্যই ডিভাইস ব্যবহার করে ছাত্র কিংবা ছাত্রী নকলমুক্তভাবে পরীক্ষা দেয় কিনা, সেটি সন্দেহ হলে দেখা যেতে পারে। অবশ্য ফিজিক্যালি পরীক্ষা নিলেও যে নকলমুক্তভাবে পরীক্ষা শতভাগ সুনিশ্চিত করা যায়, তার ঠিক নেই। আমার এক সহকর্মী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিন্যান্সের প্রফেসর। ভদ্রলোক এক মজার অভিজ্ঞতা গত বছর জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অনেকক্ষণ ধরে খেয়াল করলেন একটি মেয়ে কিছুক্ষণ পর দুধের বোতলের দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে তারপর লেখে। তিনি কাছে গিয়ে বিষয়টা ভাল করে অনুধাবনের চেষ্টা করেন। পরে দেখেন যে, দুধের বোতলে সব প্রশ্নের উত্তর ছোট ছোট করে লিখে এনেছে সে। এহেন অবস্থায় মেয়েটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করলেন। কিন্তু মেয়েটি পাল্টা তার বিরুদ্ধ যৌন নিগ্রহের কমপ্লেন করল। অবশ্য লাল সুতা বা সাদা সুতার দৌরাত্ম্য না থাকায়, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মেয়েটিকে শুধুু তার পরীক্ষা নয়, অন্য দুটো পরীক্ষা থেকেও বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। শে^তাঙ্গ বলে বাড়তি হুমকি-ধমকিও দিয়েছিল।

এখন অনলাইনে ক্লাস নেয়াটা খুবই জরুরী। কম্পিউটার এবং তার পেরিফেরাগুলো অবশ্যই থাকা দরকার। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা অনলাইনে ক্লাস নিলে তা যেন সঠিক মাত্রায় ছাত্রছাত্রীদের মেধা-মনন ও কৌশলে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে থাকে। আমাদের দেশে এইচএসসি পরীক্ষা আটকে আছে। এ পরীক্ষাটি আমাদের এসএসসি পরীক্ষার পর সর্ববৃহৎ পরীক্ষা। এর সঙ্গে জড়িত প্রায় তেরো লাখ পরীক্ষার্থী। বিশাল সংখ্যক পরীক্ষার্থী, তার ওপরে তাদের আত্মীয়স্বজন বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে। এমনিতেই এই পরীক্ষার্থীদের অনেকে আবার শুধু যে করোনাভাইরাসের সমস্যায় জর্জরিত তা নয়। বরং দেশে বর্তমানে যে বন্যা হচ্ছে, প্রায় এক কোটি   বন্যায় আক্রান্ত, তাদের মধ্যেও অনেকেই রয়ে গেছে। এহেন অবস্থায় জীবন ও পড়াশোনার মধ্যে চলছে দ্বন্দ্ব। পরীক্ষাটি কিভাবে নেয়া যাবে সে ব্যাপারেও সরকার বেশ চিন্তাভাবনা করছে। আর পরীক্ষাটি যেহেতু পাবলিক পরীক্ষা, সেহেতু তাতে আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীরাও সংযুক্ত হয়ে থাকেন। মনে পড়ে আমি যখন এইচএসসি পরীক্ষা দেই, আমার বন্ধুদের সবার বাড়ি থেকে আত্মীয়স্বজন ১/২ জন করে আসত। এখনও নিশ্চয়ই সেই ব্যবস্থা বিদ্যমান। পাশাপাশি শিক্ষকম-লী ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং যারা এ কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত তাদের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। সব মিলিয়ে চল্লিশ লাখ লোকের সংযুক্তি ঘটবে। আমাদের সচেতনতার অভাবে সামাজিক দূরত্ব করোনাকালীন সময়ে বজায় রাখা কষ্টকর হবে। অনেকে আবার অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার সুপারিশ করছেন। কিন্তু অনলাইনে ক্লাস নেয়া যায়, মিটিং করা যায়, কিছু ক্লাস টেস্ট গুগুল ডক এবং গুগুল শীটের মাধ্যমেও নেয়া যায়, এ্যাসাইনমেন্ট এবং ট্রাম্প পেপার জমাও নেয়া যায়Ñ নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে। কিন্তু পাবলিক পরীক্ষা নেয়া হলে তাতে বিশাল প্রস্তুতি যজ্ঞের প্রয়োজন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে একই দিনে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব নয়। বিকল্প প্রস্তাবনা রাখছিÑ ধরুন ১০০০ ছাত্রের পরীক্ষা একদিন সকালে একটি প্রশ্নে। যেখানে আগে চার হাজার ছাত্রছাত্রীর পরীক্ষা হতো সেখানে হলো ভিন্ন দিন ভিন্ন সেটে আরেক হাজার ছাত্রছাত্রীর পরীক্ষা। এভাবে চার হাজার ছাত্রছাত্রী এবং পরীক্ষা নেয়ার দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে নেয়া যেতে পারে। শিক্ষক-শিক্ষিকা পাশাপাশি হল পরিদর্শক হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক নিযুক্ত করা যেতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী যেহেতু জোর দিয়েছেন যেগুলো অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়সমূহের ওপর সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর দু’পেপারকে এক পেপারে কনভার্ট করা যেতে পারে। যেমন বাংলা-২০০ নম্বরকে ১০০ নম্বর, ইংরেজী ২০০ নম্বরকে ১০০ নম্বর, অংক ২০০ নম্বরকে ১০০ নম্বর করা যেতে পারে। যদি ১৩ লাখ পরীক্ষার্থীকে মোট ৭/৮টি ভাগে বিভক্ত করে পৃথক দিনে ভিন্ন প্রশ্নে ৬/৭টি বিষয়ের পরীক্ষা নেয়া হয় এবং তার ভিত্তিতে জিপিএ দেয়া যায় এবং যে বিষয়গুলো কম গুররুত্বপূর্ণ সে বিষয়গুলোর নম্বর কলেজ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দেয়া যেতে পারে। ওই নম্বর মূল নম্বরে যুক্ত হবে না (অপশনাল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে)। তাহলে এক ধরনের জীবন বাঁচিয়ে পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। এ ব্যাপারে নিউ নর্মাল সিচুয়েশনের জন্য প্রয়োজনে এইচএসসি পরীক্ষার বিশেষ আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। এদিকে আবার অনেকে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার কথা বলছে। আমি বিদেশে অনলাইনে পরীক্ষা দিয়েছি। কিন্তু সেখানে পরীক্ষা পরিদর্শক না থাকলেও সিসি ক্যামেরা থাকে। আমি অবশ্য এ ব্যাপারে বলতে পারি কোন ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি না নিয়ে যদি অন্যলাইনে পরীক্ষা নিতে হয় তবে অবশ্যই ল্যাপটপ ধার হিসেবে দিতে হবে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আন ইন্টারেপটেড ইন্টারনেট ব্যবস্থা এবং প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে ডিভাইস সরবরাহ করতে হবে, যাতে তাদের নকল করা থেকে বিরত এবং বহিষ্কার করা যায় প্রয়োজনবোধে। গুগল শীট বা গুগল ডকে পরীক্ষা নেয়া গেলেও সর্বক্ষণিক তদারকির প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য অনেক আগেই আমি প্রস্তাব করেছিলাম প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন, তার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করার। আসলে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা যেমন টেনশনে আছেন, তেমনি যারা পরীক্ষা নেবেন, আত্মীয়স্বজনও টেনশানে আছেন। বৈশ্বিক মহামারীর কারণে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে জিআরই/জি মেট এবং টোয়ফেল ছাড়া এ্যাপ্লাই করার পারমিশন দিচ্ছে। কিন্তু এইচএসসি তো জীবনের মূল স্রোতধারা নির্বাচনের পরীক্ষা। নিউ নর্মাল সিচুয়েশনে যাতে ছাত্রছাত্রীরা আগামী অক্টোবর থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পরীক্ষা দিতে পারে সে জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ দরকার। সরকার এ ব্যাপারে নানামুখী চিন্তা করছে। তবে অনলাইনের মাধ্যমে পরীক্ষা নিতে হলে অবশ্যই ছাত্রছাত্রীরা বাসায় থেকে নকলমুক্তভাবে পরীক্ষা দিচ্ছে কিনা সেটা বিবেচনায় আনতে হবে। কেননা, একজন খারাপ ছাত্র কিংবা ছাত্রী যদি নকল করে মেডিক্যাল পড়ার চান্স পায়, তবে সে তো রোগী না সারিয়ে বরং ব্যবসায়িক ধান্ধায় থাকবে। শিক্ষামন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, পরীক্ষার চেয়েও জীবনে অনেক বড় কিছু আছে। সরকার এ ব্যাপারে কাজ করে চলেছে এটা যেমন সত্য, তেমনি দীর্ঘদিন অনলাইন নিয়ে কাজ করার ফলে এ ব্যাপারটির প্রস এবং কনস সম্পর্কে জানি। আমি সর্বপ্রথম ইউক্রেনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এপ্রিলে অনলাইনে পড়াশোনার জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষাবিদদের সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ করেছিলাম। আমি ইতোপূর্বেও লিখেছি ক্লাস নাইন থেকে সবাইকে ধার হিসেবে ল্যাপটপ এবং স্মার্ট ফোন ও সপ্তাহে অন্তত দশ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পড়াশোনার জন্য সিএসআরের আওতায় সুযোগ দেয়ার জন্য। কিন্তু এ ধরনের কার্যক্রমে ওলিগপলিস্টিক নেচারের ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের বড় অনীহা বিদেশে পৌনভাষিকে খরচ কমায়। অবশ্য ফেব্রুয়ারির পর টিএন্ডটির টেলিফোন বিল পাচ্ছি না। যোগাযাগ করেও ফল হচ্ছে না। এদেশে মানুষ কত দ্রুত বড় হতে পারে সে ব্যাপারে কেবল ইচ্ছা পোষণ করে থাকে। আসলে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থাতেও লুণ্ঠনকারী ও প্রলেয়তিয়ারিতদের একটা লাজ-লজ্জা থাকে। যেখানে বর্তমান সরকার অন্যায়কারীদের কোন রকম ছাড় দিচ্ছে না, বরং ধরা পড়া মাত্রই ব্যবস্থা নিচ্ছে, সেখানে বিএনপি-জামায়াতীরা ব্লেইম গেম করছে। ক’দিন আগে আমার এক ছাত্র প্রশ্ন করেছিল, বিএনপি-জামায়াতীদের ব্লেইম গেম এবং গুজব কি সরকার বোঝে না। আসলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করতে গেলে অনেক সমস্যা। কোন বিষয় জ্ঞাত হলেই হয় না, বরং সেটির সুষ্ঠু তদন্ত করে উদঘাটন করতে সময় লাগে। পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণীর পরীক্ষা এখনই বাতিল করা দরকার কোভিডের কারণে। যারা বর্তমানে একাদশ শ্রেণীতে পড়ছে তাদের অবশ্যই অনলাইনে পড়াশোনা জোরদার করতে হবে এবং প্রয়োজনে দ্বাদশ শ্রেণীতে অটোপ্রমোশনও পেয়ে সিলেবাস শেষ করতে হবে। তবে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে অনলাইনে পড়াচ্ছে এটি খুব ভাল উদ্যোগ। তবে ইউজিসিকে কিন্তু পরীক্ষার মূল্যায়ন অনলাইনে করার ব্যাপারে জোরদার তদারকি করতে হবে। সরকার এ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল গঠন করে লোকবলও দিচ্ছে। তাদের কর্মপরিধি এখনও অচল মনে হয়। সচল করার কোন ইচ্ছে আছে? পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করলেই হবে না, বরং দেখতে হবে অধীত বিদ্যা সম্পর্কে কতটুকু জানে? অনেকে মন খারাপ করতে পারেন বলে, ভারতের সাম্প্রতিককালের সেখানের একটি বহুল পঠিত দৈনিকের প্রকাশিত ঘটনা জানাচ্ছি। লকডাউনের সময়ে প্রচ- গরমে মা অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছেন। ইলেক্ট্রিশিয়ান পাচ্ছেন না। মা বাসায় অবস্থানরত চাকরি প্রার্থী ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ছেলেকে ফ্যান ঠিক করে দিতে বললেন। দু/তিন ঘণ্টা চলে গেল অথচ গলদঘর্ম ছেলে কিছুই করতে পারল না। এর মধ্যে ইলেক্ট্রিশিয়ান এসে কয়েক মিনিটের মধ্যে ফ্যানটি ঠিক করে দিল। মা সঙ্গে সঙ্গে ছেলের ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাপ্তির সার্টিফিকেট ছিঁড়ে ফেললেন। আমাদের দেশের ক’জন মা এ ধরনের শাস্তি নিজের ছেলেকে দিতে পারবেন? আমাদের বহু সমস্যা। শিক্ষকদের মধ্যে উচ্চ মার্গ-মধ্যম মার্গ ও নিম্ন মার্গ আছে। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার বিদেশী ডিগ্রী না হলে চলে না। আবার এই বিদেশী ডিগ্রীধারীদের অনেকেই ছাত্রছাত্রীদের ব্রেনওয়াশ করে বলে শোনা যায়। এ ব্যাপারে বেশ কয়েকবার আমেরিকা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার সাদা চামড়ার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। তারা বলেছিল, আসলে এই উপমহাদেশ থেকে যারা বিদেশে যায়, তাদের মূল লক্ষ্য থাকে ডিগ্রী করে ওই দেশে থেকে যাওয়া এবং থাকার সময়ে নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে মনে করে অনেক ক্ষেত্রেই। তার মধ্য থেকে ধর্মীয় সহনশীলতা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে যখন ওই দেশে থাকতে পারে না তখন তার মধ্যে হীনম্মন্যতা কাজ করে। দেশে ফিরে যখন কোথাও যোগদান করে তখন তার ওই হীনম্মন্যতা কোন উদারবাদকে সহ্য করতে পারে না এবং দুর্জনের যেমন ছলের অভাব হয় না, তেমনি তাদের অন্যায় কর্মকা-ের কোন জবাবদিহি নেই। মগজ ধোলাইকারী এরা কেবল তলে তলে নেটওয়ার্কিং করে তাই নয়, বরং মানুষের ঔদার্য নষ্ট করে দেয়। এদিকে ইউজিসি একটি ভ্রান্ত ধারণা করেছে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করলে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ্যাপ্লাই করতে পারবে না। আসলে জ্ঞানই শক্তি। তা বলে কেউ অনার্সে রেফার্ড পেয়ে শিক্ষক হতে পারে না। এদেশে এমনিতেই গবেষণার জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পর্যাপ্ত ফান্ড নেই। বিদেশে বিভিন্ন প্রোগ্রামে ডাকলেও অধিকাংশই যেতে পারেন না। স্কুপাস ইনডেক্স জার্নালগুলোতে লেখা অত্যন্ত দরকার। অথচ এদেশে তা এখন পর্যন্ত হচ্ছে না। সীমিত পরিসরে অনেকে গবেষণা করেন। সুপারভাইজাররা পর্যাপ্ত সময় না দেয়ায় অনেকে বছরের পর বছর ঝুলতে থাকেন। অথচ অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে চারটি ক্রাইটেরিয়ায় পিএইচডি কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া হয়। এর একটি হচ্ছে পিএইচডি বাই পাবলিকেশনস। পিএইচডি বাই রিসার্চ তো আছেই। আবার আমেরিকায় কোর্সওয়ার্কে জোর দেয়া হয়। এ ব্যাপারে আমাদের ইউজিসি কোনমতেই আন্তরিক নয়। গবেষণার জন্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জার্নালের র‌্যাঙ্কিং পর্যন্ত এরা করছে না। এ জন্য বহুবার বলা হয়েছে। এখন পিএইচডি করলেই হবে না। যে রিসার্চ করেছে তা উপযুক্ত জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে কিনা, তাও দেখতে হবে।

পোষ্টটি লিখেছেন: প্রফেসর ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী

প্রফেসর ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী এই ব্লগে 15 টি পোষ্ট লিখেছেন .

তিনি একজন অধ্যাপক এবং ম্যাক্রো ও ফিন্যান্সিয়াল ইকোনমিস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *