কানে না শুনেও প্রথম নিকেল!

নিকেলকয়েক মাস আগে সামান্য শুনতে পেত, কিন্তু এখন প্রায় শুনতেই পায় না। তবু বরকল মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র নিকেল চাকমা কানের সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে এখনো পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। কেবল তা–ই নয়, শ্রেণিতে প্রথম স্থানও অধিকার করেছে সে।
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের কথা শুনতে না পাওয়ায় নিকেল মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে। বোর্ডের লেখা ও শিক্ষকের ভাবভঙ্গি দেখে পড়া বোঝার চেষ্টা করে সে। তার শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে যাবে কি না, পরিবারের মধ্যে এমন সংশয় থাকলেও নিকেল পিছু হটতে রাজি নয়। সে লেখাপড়া করে অনেক বড় হতে চায়।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রবর্তিত চতুর্থ শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় (জেএসসি) সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে নিকেল। বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। এরপর ধীরে ধীরে বধির হয়ে যেতে থাকে। চিকিৎসকদের পরামর্শমতো শ্রবণযন্ত্র ব্যবহার করেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
সম্প্রতি কথা হয় তার সঙ্গে। কাগজে লিখে প্রশ্ন করলে, লিখেই জবাব দেয় নিকেল। শারীরিক সমস্যা সত্ত্বেও সে অনেক পড়াশোনা করতে চায় বলে জানায়। নিকেল বলে, বিদ্যালয়ে তার সমস্যা হচ্ছে। আগে শিক্ষকদের কথা সামান্য শুনলেও এখন কিছুই শুনতে পায় না। তার পরও সে তাদের শ্রেণির মানবিক বিভাগে প্রথম স্থান পেয়েছে। ভবিষ্যতেও এভাবে পড়ালেখা করে যাবে।
নিকেলের বোন রীপ্তি চাকমা জানায়, নিকেলের মনে অনেক কষ্ট। সে শিক্ষকদের কথা আকার–ইঙ্গিতে বুঝতে চেষ্টা করে। কথা শুনতে পেলে নিকেল আরও অনেক ভালো ফল করত।
বরকল উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রতিময় চাকমা বলেন, নিকেল খুবই মেধাবী ছাত্র। কিন্তু এখন সে অমনোযোগী হয়ে পড়েছে। আগে সামান্য শুনতে পেত, এখন তাও পায় না। বধিরতা বেড়ে যাওয়ায় এখন কথা বলাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
নিকেল চাকমার বাবা পুষ্পধন চাকমা জানান, নিকেল ছোটবেলায় পরিষ্কারভাবে কথা বলতে পারত। ২০০৬ সালে নিজ গ্রাম বরকল উপজেলার ভূষণছড়ায় একটি সরকারি প্রথামিক বিদ্যালয়য়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। ওই বছরই অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। অসুখের মধ্যে একদিন হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে। তখন থেকে কম শুনতে পাওয়া শুরু হয়। তার পরও সে সব পরীক্ষায় প্রথম স্থান লাভ করত। চতুর্থ শ্রেণিতে বৃত্তিও পায়। পুষ্পধন চাকমা বলেন, ‘এক সময় আমাদের খেয়াল হয় ছেলের শ্রবণশক্তি ধীরে ধীরে কমছে। রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁরা শ্রবণযন্ত্র ব্যবহারে ভালো হওয়ার কথা বলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহার করার পরও সে শুনতে পায়নি। টাকার অভাবে ছেলেকে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না।’

সূত্রঃ প্রথম আলো

পোষ্টটি লিখেছেন: লেখাপড়া বিডি ডেস্ক

লেখাপড়া বিডি ডেস্ক এই ব্লগে 839 টি পোষ্ট লিখেছেন .

আমদের পেইজে লাইক দিন গ্রুপে যোগ দিন

Ads by Wizards

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।