পরীক্ষায় ভাল রেজাল্টের রহস্য

একজন জিনিয়াস শিক্ষার্থীর সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীর প্রতিভার কোন পার্থক্য নাই।তা হলে,আপনি ভাল করতে পারছেন না কেন? আপনি হয়তো দেখছেন,মেধাবী শিক্ষার্থী খুব দ্রুত পড়া বুঝতে পারে কোন কঠিন অংক সহজেই সমাধান করে ফেলে এর কারণ কী? আচ্ছা তা হলে আপনি আমাকে বলুন তো,পরীক্ষার ঠিক কতদিন আগে আপনি পড়া শুরু করেন? আপনি কোন পদ্ধতিতে পড়েন? আপনি কয় ধাপে পড়া তৈরী করেন?

এই তিনটা প্রশ্নের উত্তর বিভিন্ন শিক্ষার্থীর বিভিন্নরকম হবে।তবে,তাদের অধিকাংশই পরীক্ষার ১ মাস থেকে ১ দিন আগে পড়া শুরু করেন তাদের পদ্ধতি হলো ঝাড়া মুখস্থ করা।আর তারা এক ধাপে বা তিন ধাপে পড়া তৈরী করেন।যেমন-

১.কিছু শিক্ষার্থী দুই ধাপে পড়েন(৫০%)

ক. তারা পাঠ্যবই বা নোটবই পড়েন

খ. পরীক্ষা দিতে চলে যান।

এদের রেজাল্ট হয় পাসফেলের মার্জিন বরাবর।

২.তিন ধাপে পড়েন(৩৫%)

ক. এরা পাঠ্যবই আর নোট বই পড়েন।

খ. কিছু প্রশ্ন মুখস্থ করেন।

গ. পরীক্ষা দিতে যান।

তারা C বা D গ্রেড পান।

৩.চার ধাপে পড়েন(১২%)

ক. এরা পাঠ্যবই আর নোটবই পড়েন।

খ. পড়া মুখস্থ করেন।

গ. বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর বাসায় লিখে প্র‌্যাকটিস করেন।

ঘ. পরীক্ষা দিতে যান।

এরা B গ্রেড স্টুডেন্ট।খুব সিরিয়াস হলে তারা  A পেয়ে যান।তা হলে নিশ্চয় জানতে ইচ্ছা করছে বাকি ৩% শিক্ষার্থী যারা নিশ্চিতভাবেই  A+ পান তারা কিভাবে পড়েন?

এরজন্য দরকার ৯টি ধাপ এবং প্রতিটি পরীক্ষার কমপক্ষে তিনমাস আগে পড়া শুরু করা।এবং ক্লাসের প্রথম দিন থেকেই পড়া শুরু করা।এখন তাহলে জানিয়ে দিচ্ছি এ ৯টি ধাপ কী কী-

ধাপঃ ১-খুবই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য তৈরী করা

বেশীরভাগ শিক্ষার্থী মনে করেন ,পড়া শুরু করে দিলেই হলো।পড়া চলতে থাকবে।এতে দেখা যায়,কিছুদিন কিংবা কয়েকঘন্টা পড়েই পড়ার কোন উৎসাহ থাকেনা।এর কারন হলো লক্ষ্যহীনতা।কাজেই,প্রথমেই আপনাকে লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট করতে হবে।

আবার অনেকেই ভাবেন,ধীরে ধীরে উন্নতি করব।সামনের পরীক্ষায় ৭০,তারপরে ৮০ এভাবে বাড়াতে হবে।খুবই বাজে ধারণা। কারন তা হলে একটা পরীক্ষায় খারাপ করলেই হতাশা চলে আসবে।ধরুন,আপনি কীভাবে পড়বেন?আমি বলি আপনি সোজা অংক করবেন।

পরীক্ষায় ৫টা চ্যাপ্টার থাকলে ২টা চ্যাপ্টার বাদ দেবেন।ফলে দেখা যায় পরীক্ষায় সেই দুটা চ্যাপ্টারের প্রশ্ন আসলে চোখে অন্ধকার দেখেন।আর,লক্ষ্য যদি কম থাকে,তা হলে আপনার অসীম ক্ষমতাসম্পন্ন ব্রেন অলস বসে থাকে।তাই আপনি ৫০-এর বেশী পাবেন না।এদিকে আপনার লক্ষ্য থাকে ১০০ নম্বর পাওয়া,তা হলে আপনার ব্রেন থাকবে সজাগ ও সজীব।সে তার সমস্ত ক্ষমতা ব্যয় করবে পড়ালেখার পেছনে।কোন তথ্যই তে ছেড়ে দিতে চাইবেনা।একটা বাস্তব উদাহরণ দিই।এখনই আপনার লক্ষ্য ঠিক করুন এই ব্লগের তথ্যগুলোকে আমি সম্পূর্ণ মনে রাখব।এখন দেখুন এই লাইনটা পড়ার সময় আপনার মনোযোগ কতটা বেড়ে গেছে। লক্ষ্য ঠিক করুন যে,জরুরী তথ্যগুলোকে আপনি লালকালি দিয়ে দাগ দিয়ে রাখবেন।লক্ষ্য কিভাবে ঠিক করবেন তা নিয়ে সম্পূর্ণ আলোচনা করা হবে পরবর্তী ব্লগে।তা পড়বার আগে জেনে নিন দ্বিতীয় ধাপটি।

ধাপঃ ২-পরিকল্পনা

আপনার লক্ষ্য চমৎকার হতে পারে,তবে তা বাস্তবায়নের জন্য দরকার সঠিক পরিকল্পনা।এ বিষয়ে বিষদ জানতে পারবেন পরবর্তী ব্লগে।

ধাপঃ ৩-সবসময় সক্রিয়তা

প্রত্যেকেই লক্ষ্য আর পরিকল্পনা করতে পারেন।কিন্তু তা বাস্তবায়নে দরকার সক্রিয়তা।এ বিষয়ে বিষদ জানতে পারবেন পরবর্তী ব্লগের মোটিভেশন অধ্যায়ে।

ধাপঃ ৪-পাওয়ার রিডিং

বর্তমানে উন্নতবিশ্বের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে Power Reading কে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে।এ পদ্ধতিতে মূল তথ্যগুলোকে আলাদা করে ফেলা হয়।পরবর্তীতে আমার Power Reading ব্লগে এ সম্বন্ধে জানতে পারবেন।

ধাপঃ ৫-Super Memory

আপনারা যারা ভেবে থাকেন, মুখস্থ করা বাজে জিনিস তাদের জন্যই রয়েছে Super Memory-র নিয়মকানুন।আপনার যা মনে রাখতে হবে তাকে নানা ভাবে সাজিয়ে সমস্ত ইন্দ্রিয়ের ব্যবহার পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে আমার Super Memory সংক্রান্ত পরবর্তী ব্লগে।

ধাপঃ ৬-Mind Mapping (R)

Mind Mapping (R) এর আবিষ্কর্তা Tony Buzan.তার এ আবিষ্কার পড়ালেখায় বিপ্লব সাধন করেছে।অনেক বিদেশী বইয়ে চ্যাপ্টারের শেষে লেখা থাকে উপদেশ হিসেবে Mind Mapping (R) তৈরী করার।এর মাধ্যমে প্রায় ১০ পৃষ্ঠার তথ্যকে ১ পৃষ্ঠায় নিয়ে আসা সম্ভব। আর তা মনে রাখাও সম্ভব।মনে রাখার ক্ষমতার উপর Tony Buzan একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন প্রতিবছর।গতবছরের প্রতিযোগিতায় একটা বিষয় ছিল প্রত্যেক প্রতিযোগিকে দুমিনিট একটি হলরুমে দেখতে দেওয়া হয়।সেখানে ২৫০টি ভিন্ন আইটেম সাজানো আছে।দু মিনিট পর তাকে ১৫ মিনিট সময় দেয়া হয় Mind Mapping (R) বানানোর।গত বছরের বিজয়ী ২৪১ টি আইটেমের সাম সঠিক লিখতে পেরেছেন।এটা তৈরী করলে কোন তথ্য ভূলে যাওয়াই কঠিন।আর রিভিশন দেওয়া অরেক সহজ হয়ে যায়।Mind Mapping (R) শিখতে হলে আগের দুটো ধাপ জানতে হবে।এর বর্ণনা আছে আমার Mind Mapping (R) ব্লগে।যেটা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

ধাপঃ ৭-মেমরীকে কাজে লাগানো

ধাপঃ ৮-পরীক্ষার প্রস্ততি

ধাপঃ ৯-পরীক্ষা দেওয়ার পদ্ধতি

আপনাকে ভাল ফলাফল নিশ্চিত করতে হলে এ ৯ টি ধাপ অনুশীলন করতে হবে।

ধন্যবাদ সবাইকে

পোষ্টটি লিখেছেন: আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ

এই ব্লগে এটাই আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এর প্রথম পোষ্ট.

আসসালামু আলাইকুম।আমি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, Software Engineering নিয়ে পড়াশুনা করছি।মেধাকে সেবায় রুপান্তরের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।আমার এই পথচলায় আপনাদের সবার কাছে আমি দোয়া প্রার্থী। ধন্যবাদ

3 comments

  1. valo kichu idea pailam ekhane thanks

  2. vai next blog kobe pabo

  3. অনেকে পরীক্ষায় ভালো লিখেও কম নাম্বার পায়। আবার অনেকে কম লেখেও ভালো নাম্বার পেয়ে থাকে। এর জন্য কিছু জিনিস অনুসরণ করা জরুরি। পরীক্ষায় ভালো করার জন্য পড়ালেখার সঙ্গে আরো অনেক বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *