টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই বৈষম্যহীন ও উন্নত শিক্ষা

বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন করতে গেলে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির সঙ্গে স্থায়িত্ব এবং দক্ষতা ও উৎকর্ষ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। দেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে গতিমান তখন যাতে বৈশ্বিক কর্মকান্ডের ভিন্নতর প্রভাব দেশে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার। দেশের নাগরিকরা যাতে অর্থনৈতিক মুক্তির সুফল পায় সে জন্য সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধি এখন সময়ের চাহিদা। রাষ্ট্র ব্যবস্থায় তরুণ-তরুণীদের অবদানকে আরও গভীরভাবে কাজে লাগাতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শীসম্পন্ন নেতৃত্বগুণে বাংলাদেশ মুক্ত ও স্বাধীন বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের মর্মান্তিক এবং নৃশংস হত্যাকান্ডের পর পাকিস্তানী দোসররা বহুদিন ক্ষমতার বলয়ে ছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে কতটুকু সাম্প্রদায়িক করা যায়। অর্থনৈতিক মূল উদ্দেশ্যকে বিএনপি-জামায়াত শোষণ ও বঞ্চনার ইতিহাস গড়ে তুলেছিল। পাকিস্তানী শোষকদের স্থলে দেশী শোষকেরা ক্ষমতায় অবস্থান গ্রহণ করেছিল। ফলে যে ধরনের ব্যবস্থাপনার আওতায় বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন তা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। ছিয়ানব্বইতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সামাজিক-অর্থনৈতিক-মানবিক ক্ষেত্রসমূহে নতুনত্বের ধারা দিয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে যায়। ডুডলি সিয়ারস উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন : একটি দেশের দারিদ্র্য কি হ্রাস পেয়েছে? কর্মহীনতার পরিবর্তনের হার হ্রাস পেয়েছে কি? বৈষম্যের ক্ষেত্রে কোন ধরনের পরিবর্তন কি সূচিত হয়েছে? আসলে ওই প্রশ্নসমূহের উত্তর যতক্ষণ পর্যন্ত ইতিবাচক থাকবে, ততক্ষণ একটি দেশের উন্নয়নের গতিধারা সূচিত ও বহাল থাকবে। নারীদের অবস্থান বর্তমান সরকারের আমলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপযোগী হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী আয় বৈষম্য ও ধন বৈষম্য বেড়ে চলেছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুযোগপ্রাপ্ত উন্নত দেশসমূহ উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ করে তার দেশের ধন-আয় বৈষম্য ক্রমশ প্রকট থেকে প্রকটতর করে তুলেছে। আমাদের দেশেও ধন ও আয় বৈষম্য ক্রমশ বাড়ছে। তবে তা কিন্তু উন্নত দেশের মতো মাত্রাতিরিক্ত নয়। তথাপি আমাদের এখন থেকে সতর্ক হতে হবে যেন গিনি সহগ বর্তমানের ০.৪৮ থেকে হ্রাস করা যায়। যথাযথ তথ্য-উপাত্ত যাতে পরিকল্পনা কমিশন প্রদান করে সে জন্য তাদের কার্যক্রমের ওপর তদারকি করতে একটি সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে তাদের তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করতে হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অনেক তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করতে গেলে দেখা যায় যে, স্ববিরোধী। যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান তথ্য-উপাত্ত প্রদানের ক্ষেত্রে কন্ট্রাক্ট, সাব কন্ট্রাক্ট পায়, তারাও যথাযথভাবে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থাকে বিবেচনায় এনে কার্যক্রম পরিচালনা করেন কিনা তাতে জনমনে যাতে সংশয় না হয় সে জন্য আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় সত্যিকার চিত্র সব সময় সঠিকভাবে দেয়া প্রয়োজন। নচেৎ ভুল তথ্য-উপাত্তে জনমনে বিভ্রান্তির সূচনা করতে পারে।

বাংলাদেশে অবশ্যই দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়েছে। আমরা ২০২৪ সাল নাগাদ এলডিসি গ্র্যাজুয়েট হতে যাচ্ছি। আর এ সব সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণে। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট অনুসারে বাংলাদেশ দারিদ্র্য দূরীকরণে সমগ্র বিশ্বে একটি অর্থবহ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছে। ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আট মিলিয়ন লোক দারিদ্র্যের হার থেকে বেরিয়ে এসেছে। ৯০% দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে গ্রামীণ এলাকায়। এখন মোট দেশজ প্রবৃদ্ধির হার ৮.৩৮% বেড়েছে। সরকার সর্বাত্মকভাবে দারিদ্র্য দূরীকরণে চেষ্টা করে চলেছে। তবে বেসরকারী খাতের কর্মকা-কে আরও বেগবান করা দরকার। এদিকে গ্রাম থেকে শহরে আগমনের ক্ষেত্রে বাধা সঞ্চার করা দরকার। সরকার গ্রামকে স্মার্ট নগর করতে চাচ্ছে। সেক্ষেত্রে গ্রামীণ এলাকায় তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নের জন্য একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বনির্ভর আন্দোলন প্রেরণা হিসেবে কাজ করে থাকে। দেশ স্বাধীনের পর অতি দরিদ্র কৃষকদের বিনামূল্যে সার, সেচের ব্যবস্থা, উন্নত বীজ, কৃষি উপকরণাদি সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। কৃষকদের উন্নয়নের জন্য গঠন করেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। কৃষি ব্যাংক সে সময় কৃষকদের অর্থায়ন ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। এখন অবশ্য ব্যবস্থাপনা পরিষদ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথ থেকে সরে গিয়ে বৈদেশিক ব্যবসার ক্ষেত্রে মনোনিবেশ করতে দেখা যায়। যদি তাই হয় তবে বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের আদৌ কি প্রয়োজন আছে? স্বল্পমূল্যে নতুন ধরনের উদ্ভাবনী শক্তি কৃষি ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের জন্য নিরন্তর প্রয়াস বিকেবি এবং রাকাবকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে করতে হবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, এ দুটো ব্যাংক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চিন্তা-চেতনা থেকে সরে আসতে চাচ্ছে। এটি কোনমতেই চলতে দেয়া যায় না। এর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংককে কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু উচ্চতর কৃষি গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বঙ্গবন্ধু আয় ও ধনবৈষম্য হ্রাসে সুস্পষ্ট নীতিমালা গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমান সরকারও সেফটি নেটওয়ার্ক বাড়িয়ে দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সচেষ্ট রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ বেয়ে সরকার মানবসম্পদের উন্নয়নে চেষ্টা করছে আর একই সঙ্গে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড গ্রহণ করতে প্রয়াস নিয়েছে। এ জন্য কেবল প্রাথমিক শিক্ষা নয়, উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রেও গুণগতমানসম্পন্ন শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। যদিও কিছুটা বাণিজ্যিক হয়ে গেছে, তবুও দেশে বিশেষত ঢাকা, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, শাহজালাল এবং খুলনা ছয়টি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে গুণগতমানসম্পন্ন ইভনিং প্রোগ্রাম চালু করেছে। সেটি অর্থনীতি বিষয়ে হোক, বাণিজ্য বিষয়ে হোক কিংবা বিজ্ঞান বিষয়ে হোক। তবে তা গুণগত মান ঠিক রেখে এবং বাণিজ্যিক ও অতিরিক্ত অর্থ খরচের পরিমাণ হ্রাস করে পরিচালনা করা দরকার। এদিকে রাঙ্গামাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপযুক্ত শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে। দেশে কেবল রেগুলার পদ্ধতিতে পড়াশোনা করলে টেকসই মানবসম্পদ তৈরি করা দুষ্কর হয়ে পড়বে। দুঃখজনক হলেও সত্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত কিউএস র‌্যাঙ্কিং, টাইমস হায়ার এডুকেশন কর্তৃক র‌্যাঙ্কিংয়ের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এটি অতিসত্বর গ্রহণ করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। নচেৎ একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে কেবল দুঃখই থেকে যাবে। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উপযোগী শিক্ষা প্রণয়ন করা উচিত। শিক্ষার মান উন্নয়নের সঙ্গে র‌্যাঙ্কিং কিছুটা হলেও যুক্ত। শিক্ষকেরা কতটুকু নিবেদিতপ্রাণ, তাদের প্রবন্ধসমূহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকাশিত হচ্ছে তা দেখভাল করা প্রয়োজন। শিক্ষক রাজনীতি কল্যাণের পথে ততক্ষণই বহাল থাকা উচিত, যতক্ষণ শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে প্রত্যেকে কাজ করবেন।

আবার চলে আসে আন্তর্জাতিকীকরণের প্রসঙ্গ। নিজেদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি এবং দেশের মানুষের উন্নয়নে আত্মনিবেদিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষা প্রদানের সময় তত্ত্বীয়ের সঙ্গে বাস্তবসম্মত শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। নচেৎ বিদেশে দক্ষ মানবসম্পদ প্রেরণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের জন্য বর্তমানে দেশে-বিদেশে অনেকেই একাধিক বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন। মানসম্মত নয় এমন সব বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হতে হয়। যখন কোন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তা যেন অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা করে গ্রহণ করা হয়। যেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী দেশে উচ্চমানসম্পন্ন শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেখানে দোকানের ওপর প্রতিষ্ঠিত নামসর্বস্ব বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসির কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত আমলার সহায়তায় এক ধরনের কার্টেল করে পরিচালিত হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিন্তু বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষাকে মোটেও প্রাধান্য দেয় না। ‘ডেমোগ্রাফিক ডিসেস্টার’ থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই গুণগতমানসম্পন্ন শিক্ষার বিকল্প নেই। ইউজিসির উচিত এ ব্যাপারে প্রবীণ শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে একটি দিকনির্দেশনা দেয়া। গত আমলে ইউজিসি শিক্ষক নিয়োগের যে অভিন্ন নীতিমালা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল তা কিন্তু এখনও অনেক সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় মেনে নেয়নি। সেখানে যেমন একটি ধারা আছে, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেউ পাস করলে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ্যাপ্লাই করতে পারবে না। এ ধরনের সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্ত মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশে অন্তত বারো থেকে পনেরোটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যেগুলোর শিক্ষার মান অত্যন্ত উন্নত। সে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেট করার অনুমতি দেয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। শিক্ষার প্রতি গভীর মমত্ববোধ, দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা করার প্রতি গভীর অনুরাগ থাকা বাঞ্ছনীয়। বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে ভাল শিক্ষকের পরিমাণ ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়ে আসছে, যারা জ্ঞান-গরিমা-গবেষণা কর্মে সর্বদা ব্যাপৃত রয়েছেন। এ ব্যাপারে সামাজিকভাবে উৎসাহ প্রদান করা বাঞ্ছনীয় হয়ে পড়েছে। শিক্ষার মৌল উদ্দেশ্য মনুষ্যত্ববোধকে জাগ্রত করা। দুঃখজনকভাবে সত্য, পারিবারিকভাবে সে শিক্ষাটি কোমলমতি শিশুদের মনে গেঁথে দেয়া উচিত। সেটি আজ ইঁদুরদৌড় প্রতিযোগিতার কারণেই বাবা-মা দিচ্ছেন না। সামাজিক সহিংসতা এবং বিএনপি-জামায়াতীদের ঘৃণ্য নোংরা রাজনীতি একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে এখানে। এটি বন্ধ হওয়া দরকার। মুক্ত মনের অসাম্প্রদায়িক চেতনাপুষ্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থায় দরকার। আজকের কোমলমতি শিশুদের এ ব্যাপারে সজাগ হতে হবে। তাদের শিশু বয়স থেকেই নানা প্রলোভন, সামাজিক অসঙ্গতির হাত থেকে রক্ষার ব্যবস্থা করা দরকার। পঞ্চম শ্রেণীর পরীক্ষাটি পূর্বের মতো কেবল স্কুলকেন্দ্রিক করে বৃত্তি পরীক্ষার মতো করা যেতে পারে। শিক্ষানীতি-২০১০ ছিল দেশের উন্নয়নে একটি চালিকাশক্তি। কিন্তু সৃজনশীল প্রশ্নমালা বর্তমানে ছাত্রছাত্রীদের ভীতির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। সময়ের বিবর্তনে এটিকে আরও সময়োপযোগী করা দরকার। বাংলাদেশে এ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল স্থাপন করা হলেও এটির তৎপরতা এখনও চোখে পড়ে না। বাংলাদেশ ন্যাশনাল এডুকেশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেম-ওয়ার্ক তৈরি এবং পার্লামেন্টে পাসের উদ্যোগ সরকার কর্তৃক গ্রহণ করা দরকার। কেননা, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বারংবার গুণগতমানসম্পন্ন শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একটি সহজাত প্রবৃত্তি হয়েছেÑশিক্ষকদের ওপর আমলাদের ছড়ি ঘোরানো। বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়Ñ যাদের লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়ার কথা তারাও শিক্ষকদের ওপর ছড়ি ঘোরায়। আসলে শিক্ষকেরা যদি সৎভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারেন তবে তা দেশের জন্য মঙ্গল হবে।

গত ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে চট্টগ্রামে পরিবারসহ অবস্থান করছিলাম। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ যখন ফয়স লেকে পরিবারসহ যাচ্ছিলাম, তখন পাহাড়তলীর কাছে একদল পুলিশ ভারতীয় কিনা বলে তর্জন-গর্জন করছিল। উবারওয়ালা দেখলাম ভয় পেয়েছে। আসলে কে ভারতীয় আর কে বাংলাদেশী- এটা যারা জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় বেতন-ভাতাদি পেয়ে বুঝতে পারে না, সেই স্বল্প সংখ্যক ব্যক্তির জন্য করুণা হয়। দেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে কর্তব্য জ্ঞানসম্পন্ন উপযুক্ত সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদায়ন দরকার। নচেৎ তারা ভুল থেকে শিক্ষা নেবে না। দেশের অগ্রযাত্রা জননেত্রী শেখ হাসিনার বিজ্ঞজনোচিত নেতৃত্বগুণে এগিয়ে চলুক, আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের আস্তা অটুট থাকুক- এ প্রত্যয় থাকল।

পোষ্টটি লিখেছেন: প্রফেসর ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী

প্রফেসর ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী এই ব্লগে 10 টি পোষ্ট লিখেছেন .

তিনি একজন অধ্যাপক এবং ম্যাক্রো ও ফিন্যান্সিয়াল ইকোনমিস্ট।

আমদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন পেইজে লাইক দিন গ্রুপে যোগ দিন


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *