বশেমুরবিপ্রবিতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন

মো. ইকবাল হোসেন, বশেমুরবিপ্রবি: আগামী ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। শাহাদত বরণ ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুসহ নিহত তাঁর পরিবারের সকল সদস্যের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করেছে ।

আজ ৩০ জুলাই, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোঃ নুরউদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় শোক দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচী ঘোষনা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় শোক দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচী উল্লেখ করা হয়। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ১লা আগস্ট ক্যাম্পাসে কালো ব্যাচ ধারন। ১৫ আগস্ট সকালে টুঙ্গিপাড়ায় ভাইস চ্যান্সেলর এর নেতৃত্বে জাতীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন এবং বাদ আছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল।

২০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়। ২১ আগস্ট দুপুর ১.০০ টায় শোক র্যালি। ২৭ আগস্ট বিকাল ৪.৩০ মিনিটে নতুন একাডেমিক ভবনের কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভা। ২৯ আগস্ট দুপুর ১ টায় ভাইস চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীর টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন। এবং বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের শিশুদের বঙ্গবন্ধু বিষয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।

তাছাড়া ১লা আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর ভাষন প্রচার করার কথা ঘোষনা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উক্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর দীর্ঘ নয় মাস এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালি বিজয় অর্জন করেন। বঙ্গবন্ধু সদ্য জন্ম নেওয়া বাংলাদেশকে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাঠামো গঠন করেন। কিন্তু ১২ই জানুয়ারি ১৯৭২ থেকে ২৫ই জানুয়ারি ১৯৭৫ পর্যন্ত মাত্র ৪ বছর শাসন কাঠামো পরিচালনাকালীন দেশি ও বিদেশি যৌথ ষড়যন্ত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট নৃংশসভাবে খুন হলেন। শুধু তিনিই নন, ঢাকা শহরের ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও দশ বছরের শিশু শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালও নিহত হন ঘাতকের বুলেটে।

সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপদগামী উচ্চাভিলাষী সদস্য ১৯৭৫-এর ১৫ অগস্ট ভোর রাতে বাংলাদেশের স্থপতিকে পরিবার-সহ হত্যা করে। সেদিন বিদেশে থাকাতে প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। এদিনে প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর বেশ কয়েক জন স্বজন ও রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদসহ কর্মরত কয়েক জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং কর্মচারী।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১৩ জুলাই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যথাযথ মর্যাদার সাথে জাতীয় শোকদিবস পালিত হচ্ছে ৩৪ টি বিভাগে প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে আসন সংখ্যায় দেশের ৪র্থ বৃহত্তম জাতির পিতার পুণ্যজন্মভূমিতে প্রতিষ্ঠিত তাঁরই নামাঙ্কিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

পোষ্টটি লিখেছেন: MD. IQBAL HOSSAIN

এই ব্লগে 16 টি পোষ্ট লিখেছেন .

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *