স্মৃতি ঘরে ঝরা ফুল ৪৯তম নোবেল জয়ী মার্কিন সাহিত্যিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের আত্মা হনন

মো. ইকবাল হোসেন, বশেমুরবিপ্রবি : আজ ২রা জুলাই এদিনে আত্মহত্যা করেছিলেন মার্কিন ফিকশনকর্মী লেখক, সাংবাদিক এবং ৪৯তম নোবেল জয়ী শক্তিশালী সাহিত্যিক আর্নেস্ট মিলার হেমিংওয়ে (জুলাই ২১, ১৮৯৯ -জুলাই ২, ১৯৬১)।

“মানুষ কখনোই পরাজয় বরন করে না, প্রয়োজনে লড়াই করতে করতে ধ্বংস হয়ে যায়”– বিখ্যাত এই উক্তিটি বিংশ শতাব্দীর ১মার্ধের মার্কিন সাহিত্যিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে বিখ্যাত কালজয়ী উপন্যাস “দ্যা ওল্ড ম্যান এন্ড সী ” (The Old Man and The Sea) (১৯৫২) তে জীবন যুদ্ধে সংগ্রামশীল মানুষের চিত্র রূপায়ন করতে অবতারণা করেছিলেন। কিন্তু সেই অদম্য শক্তিমাল লেখক মাত্র ৬১ বছর বয়সে আত্মহত্যা করে পরকালে পাড়ি দেন।

আর্নেস্ট হেমিংওয়ের সমগ্র জীবন কেটেছে কিঞ্চিত উচ্ছ্বাস আর অধিকাংশ সময়ে গভীর বিষণœতার মধ্য দিয়ে। শিকার করা ছিল তাঁর বড় শখ। কেউ বিশ্বাস করতে পারিনি সেই শিকার করা বন্দুক হবে তাঁর জীবন প্রদীপ নিভানোর মরণাস্ত্র। ৬২ বছর পূর্ণ হওয়ার মাত্র ১৯ দিনে আগে ১৯৬১ সালের ২রা জুলাই নিজের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে আত্ম হননের পথ বেচে নেন এই বিখ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের কালজয়ী লেখক।

জন্ম পরিচয় :

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ইলিনয়ের, ওক পার্কে ১৮৯৯ সালের ২১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা পেশায় ছিলেন ডাক্তার আর মা সঙ্গীত শিল্পী। তাঁর নানার নামানুসারে হেমিংওয়ের নামকরণ করা হয়। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তিনি নামটি পছন্দ করতেন না। কারণ, “The Importance of Being Ernest” নাটকের প্রধান চরিত্র, আর্নেস্ট ছিল বোকা ও সহজ-সরল। আর্নেস্ট মায়ের অনুপ্রেরণাতে সেলো বাজানো শিখেন, কিন্তু বাস্তব জীবনে তাঁর খুব বেশি চর্চা তিনি করতে পারেন নি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, গান শেখার কারণেই “ফর হোম দি বেল টোলস” (For Whom The Bell Tolls) (১৯৪০) রচনায় তিনি বেশ উৎসাহ পেয়েছিলেন।

প্রাথমিক শিক্ষা ও বাল্যকাল :

তিনি ১৯১৩ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত ওক পার্ক এন্ড রিভার ফরেস্ট হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন বিভিন্ন খেলাধুলায়। এখানে পড়ার সময়েই সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হয়ে উঠেন। স্কুলে থাকতেই জড়িয়ে পড়েন সাংবাদিকতায়। যা পরবর্তীতে তাঁর লেখক জীবনের ভীত গড়ে দিয়েছিল। ট্রাপেজি এন্ড টাবুলা (Trapeze and Tabula) ম্যাগাজিনে খেলাধুলা নিয়ে নিয়মিত লিখতেন তিনি। স্কুল জীবন শেষে যুক্ত হন “দি ক্যানসাস সিটি স্টার” পত্রিকায়। লেখক জীবনে সাংবাদিকতার প্রভাব নিয়ে হেমিংওয়ে বলেছিলেন,

On the Star you were forced to learn to write a simple declarative sentence. This is useful to anyone. Newspaper work will not harm a young writer and could help him if he gets out of it in time.” (স্টারে আপনাকে সহজ ঘোষণামূলক বাক্য লিখতে বাধ্য করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই যে কেউ দরকারী। সংবাদপত্রের কাজটি একজন তরুণ লেখকের ক্ষতি করবে না এবং সে সময় থেকে বের হয়ে গেলে তাকে সাহায্য করতে পারে।)

সাহিত্য জীবনের সূচনা:

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে আর্নেস্ট হেমিংওয়ে ১৯১৮ সালে আমেরিকায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। হেমিংওয়ে সাংবাদিকতায় ব্যস্ত, হঠাৎ রেড ক্রসের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যান ইতালির মিলানে শহরে। একজন এম্বুলেন্স চালক হিসেবে শুরু করলেন মানবতার সেবা। যুদ্ধরত অবস্থায় ইতালির এক সৈন্য মারাত্মকভাবে আহত হন, হেমিংওয়ে দ্রুত ছুটে গেলেন, তাকে এম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু মর্টারের আঘাতে মারাত্মকভাবে আঘাত প্রাপ্ত হন হেমিংওয়ে। তাঁর এই সাহসিকতার জন্য ইতালির সরকার তাঁকে “ইতালিয়ান সিলভার মেডেল অব ব্রেভারী” তে ভূষিত করেন।

ইতালির সেই স্মৃতি স্মরণ করে হেমিংওয়ে বলেছিলেন, “যখন বালক হিসেবে যুদ্ধে যাও তখন অমরত্ব লাভের জন্য একটা মোহ কাজ করে। অন্য যোদ্ধারা মারা যাবে, আমি মরবো না। এমন মনোভাব থাকে। কিন্তু যখনই প্রথম বারের মত মারাত্মকভাবে আহত হবে তখনই সেই মোহ কেটে যাবে এবং ভাবতে শুরু করবে, আমিও মরে যেতে পারি”।

আহত হয়ে হেমিংওয়ে যখন হাসপাতালে ভর্তি ছিল তখন তাঁর সেবায় নিয়োজিত ছিল রেড ক্রসের নার্স এগনেস ভন কোরস্কি (Agnes von Kurowsky) । রেড ক্রসে থাকাকালীন সময়েই তিনি অ্যাগণেস ভন কুরোভস্কির প্রেমে পড়েন, এগনেস রেড ক্রসের একজন নার্স ছিলেন এবং বয়সে হেমিংওয়ের চেয়ে ৭ বছরের বড় ছিলেন। হেমিংওয়ে তাকে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেন। দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন আমেরিকায় গিয়ে বিয়ে করবেন তাঁরা। সুস্থ হয়ে জানুয়ারিতে আমেরিকায় ফিরে গেলেন হেমিংওয়ে, অপেক্ষা করতে থাকেন এগনেসের জন্য। কিন্তু এগনেস এলেন না। হঠাৎ একটি বার্তা এলো, এগনেস হেমিংওয়ের প্রেমকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এগনেস ইতালির এক সরকারি কর্মকর্তাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে প্রেমে প্রত্যাখ্যান হয়ে মানসিকভাবে প্রচন্ড ভেঙ্গে পড়েন হেমিংওয়ে।

বিবাহ ও ফ্রান্সে গমন:

তিনি লেখনীর পাশাপাশি সাংবাদিকতাকে পরিপূর্ণ পেশা হিসেবে গ্রহণ করলেন। “টরেন্টো স্টার” নামক পত্রিকায় রিপোর্টার হিসেবে যোগ দিলেন। ১৯২১ সালে তিনি এলিজাবেথ হ্যাডলি রিচার্ডসনকে বিয়ে করলেন। তাদের মধ্যে অল্প কিছু দিনের প্রেম ছিল। পরে দু’জন সরাসরি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। শুরু করলেন নতুন সংসার। হঠাৎ টরেন্টো পত্রিকা তাঁকে ফ্রান্সে প্রেরণ করলেন। হেমিংওয়ে প্যারিস শহরে স্থানান্তরিত হলেন। প্যারিস শহরেই জীবনের নানা রূপ দেখতে শুরু করেন হেমিংওয়ে। ১৯২৩ সালে প্যারিস থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম স্বরচিত বই Three Stories and Ten Poems । এ বছরই হেমিংওয়ে-হ্যাডলি দম্পতির প্রথম সন্তান জন জন্মগ্রহণ করে। সন্তানকে দেখতে হেমিংওয়ে টরেন্টোতে চলে যান। এ সময় তিনি সংসার জীবন নিয়ে খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে সংসারের দায়িত্ব পালন করতে তিনি সাংবাদিকতা থেকে ফিরে আসেন।

উপন্যাসের জগতে তাঁর প্রবেশ ঘটে In Our Time (১৯২৫) নামক ছোট গল্পের বই লিখে। প্যারিসে এসেই তাঁর পরিচয় ঘটে স্কট ফিটজেরাল্ড, জেমস জয়েস, পাবলো পিকাসো, এজরা পাউন্ডের মতো বিখ্যাত লেখকদের সাথে। ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর অন্যতম বিখ্যাত উপন্যাস, The Sun Also Rises|

হেমিংওয়ে আবারো প্রেমে পড়েন, এবার তার প্রেমিকা আমেরিকান সাংবাদিক পলিন পাইফার। ফাটল ধরে তাঁর সংসারে, ১৯২৭ সালে তিনি ডিভোর্স দেন তাঁর প্রথম স্ত্রী হ্যাডলি রিচার্ডসনকে। পলিন পাইফার এবং হেমিংওয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। বিবাহের পরবর্তী সময়ে তিনি লেখা শুরু করেন। তাঁর অন্যতম সাহিত্য কর্ম প্রকাশিত হয় Men Without Women (1927)|

আর্নেস্ট হেমিংওয়ের বাবার আত্মহত্যা:

হেমিংওয়ের জীবনে সবচেয়ে করুণ মুহূর্ত ছিল তাঁর বাবার আত্মহত্যা। ১৯২৮ সালে তাঁর বাবা ক্লারেন্স হেমিংওয়ে আত্মহত্যা করেন। অনেকের ধারণা ডায়াবেটিস ও আর্থিক অনটন থেকে মুক্তি পেতে তিনি আত্ম হননের পথ বেছে নেন তিনি। আর্নেস্ট হেমিংওয়ের বাবার মৃত্যুর পর তাঁর শ্বাশুড়ি মেরি পাইফারকে এক চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন–I’ll probably go the same way”|
বাবার মৃত্যুর পর হেমিংওয়ে অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন শুরু করেন। তিনি প্রচুর পরিমাণে মদ্য পানে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। ইতিমধ্যেই তিনি কয়েকবার প্লেন ক্রাশ ও সড়ক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন এবং অল্পের জন্য বেঁচে যান। তবে তাঁর মাথায় ক্ষত সৃষ্টি হয়। তারপরও তিনি লেখালেখি চালিয়ে যেতে থাকেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি লেখেন তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় উপন্যাস “এ ফেয়ার ওয়েল টু আর্মস” (A Farewell to Arms) (1929)|

স্পেন ও কিউবার জীবন:

হেমিংওয়ে আবারও সাংবাদিকতা পেশায় ফিরে এলেন। ১৯৩৭ সালে তিনি স্পেনের গৃহ যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করতে স্পেন ভ্রমণ করেন। স্পেনে গিয়ে তিনি এক নারী সাংবাদিক মার্থা গেলহর্নের সাথে পরিচিত হয়। তিনি আবারো প্রেমে পড়েন মার্থা গেলহর্নের । মার্থা তাঁকে লেখালেখিতে অনুপ্রেরণা যোগাতেন। মার্থা গেলহর্নের অনুপ্রেরণাতেই হেমিংওয়ে সিভিল ওয়ারের ভয়াবহতা নিয়ে লিখে ফেললেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস For Whom The Bell Tolls । মার্থার সাথে হেমিংওয়ের প্রণয় তাঁকে আবারো ডিভোর্সের দিকে নিয়ে যায়। পাইফারকে ডিভোর্স দিয়ে তিনি তৃতীয় বার ১৯৪০ সালে বিয়ে করেন মার্থা গেলহর্নকে।

১৯৪০ সালে হেমিংওয়ে কিউবাতে ফিরে আসেন। সেখানেই তিনি সমুদ্রের কাছাকাছি একটি বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। নিয়মিত মাছ শিকারে যেতেন। এই সময় তিনি জেলেদের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তাঁর এই বিচিত্র অভিজ্ঞতা থেকেই লিখে ফেলেন কালজয়ী The Old Man and the Sea । ১৯৫২ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি দিয়েই তিনি পাঠক মনে চিরস্থায়ী আসন গড়ে নেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে, ১৯৪৪ সালের মার্চ থেকে ১৯৪৫ সালের মে পর্যন্ত সময়টা হেমিংওয়ে লন্ডন ও ইউরোপে ছিলেন। খবর সংগ্রহ করার জন্য হেমিংওয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। এ সময় তাঁর সাথে পরিচয় হয় টাইম ম্যাগাজিনের সাংবাদিক ম্যারি ওয়েলসের। আগের মতই প্রেমে পড়েন হেমিংওয়ে। ৩য় স্ত্রী মার্থা গেলহর্নকে ১৯৪৫ সালে ডিভোর্স দেন এবং দুই বছর ম্যারি ওয়েলসের সাথে প্রেম করার পর ১৯৪৬ সালে ম্যারিকে বিয়ে করেন হেমিংওয়ে। এটি ছিল তার চতুর্থ ও শেষ বিয়ে। কোন এক সাক্ষাতকারে তার একাধিক বিয়ে নিয়ে হেমিংওয়ে বলেছিলেন, ÒFunny how it should take one war to start a woman in your damn heart and another to finish her. Bad luckÓ (মজার ব্যাপারটা কীভাবে আপনার দুষ্ট হৃদয়ে একজন মহিলা শুরু করতে এবং অন্যকে শেষ করার জন্য এক যুদ্ধ করা উচিত। দূর্ভাগ্য।)
আর্নেস্ট হেমিংওয়ে তিন সন্তানের জনক ছিলেন জ্যাক হেমিংওয়ে (১৯২৩-২০০০), প্যাট্রিক হেমিংওয়ে (১৯২৮-) এবং গ্রেগরি হেমিংওয়ে (১৯৩১-২০০১)।

হেমিংওয়ের আত্মহত্যা:

১৯৬০ সালে হেমিংওয়ে তাঁর স্ত্রীসহ আমেরিকাতে স্থায়ীভাবে ফিরে আসেন। তিনি কিছুটা অসুস্থ ছিলেন এসময়ে। নিয়মিত সকাল বেলা শিকারে বের হতেন। তাঁর শিকার করার জন্য একটি প্রিয় বন্দুক ছিল। এই বন্দুক দিয়েই তিনি ১৯৬১ সালের ২ জুলাই ৬২ বছর পূর্ণ হবার ১৯ দিন আগে মাত্র ৬১ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন। অকালে ঝরে যায় সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আর্নেস্ট হেমিংওয়ে।

তাঁর স্ত্রী মেরি হেমিংওয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “আর্নেস্ট সকালে শিকার করতে যাবার পূর্বে বন্দুক পরিষ্কার করছিলেন, হয়তো ভুল ক্রমে বন্দুক থেকে গুলি বেরিয়েছে”। তাঁর শারীরিক অসুস্থতাকে তিনি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি নোবেল পুরষ্কার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেন নি।

তবে সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হল, হেমিংওয়েসহ তাঁর পরিবারের মোট ৪জন সদস্য আত্মহত্যা করেন। তাঁর বাবা ক্লারেন্স হেমিংওয়ে, ভাই লিস্টার হেমিংওয়ে আর বোন উরসালা হেমিংওয়েও আত্মহত্যা করেছেন।

হেমিংওয়ে পরিবারের রক্তেই মিশে আছে আত্মহত্যার ভয়ানক ব্যাধি। বিজ্ঞানীদের মতে, “বাইপোলার মোড ডিসঅর্ডার” নামক এক ধরনের জিনের কারণে আত্মহত্যা করেছিলেন হেমিংওয়ে। এই রোগ বংশ পরম্পরায় বাসা বেঁধেছিল হেমিংওয়ের শরীরে। এই রোগের দুটি প্রধান লক্ষণ হলো, অতি মাত্রায় উচ্ছ্বাস কিংবা গভীর বিষণ্ণতায় ভোগা। হেমিংওয়ে গভীর বিষণœতা থেকেই আত্মহত্যা করেছিল বলে ধারনা করা হয়।

রচানবলী :

তিনি ৭টি উপন্যাস, ৬টি ছোট গল্প সংকলন এবং ২টি নন-ফিকশন গ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরে আরও ৩টি উপন্যাস, ৪টি ছোট গল্প সংকলন এবং ৩টি নন-ফিকশন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের অনেকগুলোই আমেরিকান সাহিত্যের চিরায়ত (ক্লাসিক) গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে-

উপন্যাস :

The Torrents of Spring (১৯২৪), The Sun Also Rises (১৯২৬) , Fiesta (১৯২৭), A Farewell to Arms (১৯২৯), To Have and Have Not (১৯৩৭) , For Whom The Bell Tolls (১৯৪০) , Across The River and Into The Trees (১৯৫০), The Old Man and The Sea (১৯৫২) , Islands in The Stream (১৯৭০) , The Garden of Eden (১৯৮৬), True At First Light (১৯৯৯) এবং Under Kilimanjaro (২০০৫)।

অন্যান্য রচনা :

Death in The Afternoon (১৯৩২), Green Hills of Africa (১৯৩৫), Hemingway, The Wild Years (১৯৬২), A Moveable Feast (১৯৬৪), By-Line: Ernest Hemingway, Ernest Hemingway: Club Reporter (১৯৭০), Ernest Hemingway Selected Letters 1917-1961 (১৯৮১), The Dangerous Summer (১৯৮৫), Dateline: Toronto (১৯৮৫)।

ছোট গল্প সংকলন:

Three Stories and Ten Poems (১৯২৩), Cat in The Rain (১৯২৫), In Our Time (১৯২৫), Men Without Women (১৯২৭), Winner Take Nothing (১৯৩৩), The Snows of Kilimanjaro (১৯৩৬), The Fifth Column and The First Forty-Nine Stories. (১৯৩৮), The Fifth Column and Four Stories of The Spanish Civil War (১৯৬৯), The Nick Adams Stories (১৯৭২), The Complete Short Stories of Ernest Hemingway (১৯৮৭), Everyman’s Library: The Collected Stories (১৯৯৫)।

মাত্র ৬১ বছরের নানা ঘটনাবহুল জীবন, সাহিত্যের ধারাকে করেছে সমৃদ্ধ এবং ইতিহাসকে করছে গতিময়। হেমিংওয়ে তাঁর সাহিত্য অসাধারণ কর্মের জন্য চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন কোটি সাহিত্য প্রেমী আর ভক্তদের হৃদয়ে।

লেখক : মো. ইকবাল হোসেন, শিক্ষার্থী: বাংলা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ -৮১০০।

পোষ্টটি লিখেছেন: MD. IQBAL HOSSAIN

এই ব্লগে 16 টি পোষ্ট লিখেছেন .

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *