নির্বাচন কমিশনের ইফতার ও সুজনের রাষ্ট্র মেরামতের ১৮ দফা প্রস্তাব

মোঃ খাইরুল ইসলাম: আমি যে প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করি, তাতে ২৫ মে ২০১৯ ইং তারিখ শনিবার ২টি আয়োজন ছিল। ক) মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের ১০০তম সাপ্তাহিক সমন্বয় সভা উদযাপন হয় ও খ) মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের ইফতার পার্টি। দুটোতে নেতৃত্ব দেন বিজ্ঞ মহাব্যবস্থাপক জনাব একলাছুর রহমান মুকুল। এর ঠিক আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছয়টি জেলার তথা টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও জামালপুর প্রভৃতি অঞ্চল থেকে দেশের উৎপাদনমুখী কারখানা বিশেষ করে পোশাক শিল্পে কর্মরত মানবসম্পদ, প্রশাসন ও কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তাগণ সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর ময়মনসিংহ মানবসম্পদ, প্রশাসন ও কমপ্লায়েন্স প্রফেশনাল এর ইফতার মাহফিল ও কমিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত ও পুলকিত বোধ করছি।

শনিবার রাতে এশার সালাত ও তারাবীহ শেষে বিছানায় গড়াগড়ি করছি। আমার সহধর্মিনী তার বাপের বাড়ীতে মার্চের মাঝামাঝি হতে থাকায় খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছি। প্রবাসীদের মত নিজেরাই (আমার ছোট ভাই আতিক ও আমি) রান্না করে কোন রকমে খেয়ে ধেয়ে দিন পার করছি। তথাপি রমজান মাসটাকে খুব উপভোগ করছি, যদিও ইতিমধ্যে ২ দিন সাহরী না খেয়ে সিয়াম পালন করেছি, সঠিক সময়ে জাগতে পারিনি বলে।

পত্রিকা পড়া আমার খুব ভাল একটি অভ্যাস। মতামত কলামগুলোতে আমার নজর সেই মাধ্যমিককাল থেকেই। এসময় ভারতীয় লেখক রজত রায়ের লেখা “মমতার কৌশলেই বিজেপি এগিয়ে গেল” এবং তার আগে সোহরাব হোসেনের “রাষ্ট্রের মেরামত, সামাজিক চুক্তি ও ইসির ইফতার” কলামটিও পড়েছি। এপর্যন্ত লেখার পর কামাল আহমেদের লেখা “মোদীর ফিরে আসা যেসব কারন ভাবায়” কলামটিও পড়ে নিলাম এবং তার আগে সুশাসনের জন্য নাগরিক(সুজন) এর গোলটেবিল বৈঠকের সংবাদটি আগের দিনের পত্রিকা খুঁজে বের করে দেখে নিলাম।

(এক)

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব যে রাজনৈতিক চর্চা তাতে আমার মাঝে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বহুদিন যাবৎই। আজ যেন প্রবল হলো মনের মাজারে। প্রশ্ন প্রবল হওয়ার পেঁছনে একটি কারণ তো আছেই। তাই এবিষয়ে লিখার ইচ্ছা জাগলো। প্রশ্নটি হলো বাংলাদেশ জন্মের অর্ধশতাব্দি পরেও দুটি পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের বাইরে কি কেও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য আছেন? সেরকম সম্মোহনী ব্যক্তির কাউকে আমি অন্ততঃ দেখছিনা বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবর্তে বা তার পরিবার বাদ দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য কেউ আছেন? অপরদিকে কারাবন্দী বিএনপি নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বা তার পরিবারের বাইরে থেকে কি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য আর কেউ আছেন? আমি এর উত্তরে বিকল্প কোন নেতাকে বা ব্যাক্তিকে দেখিনা যিনি নিজ দলে ঐক্য ধরে রেখে দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। তেমন যদি থেকে থাকেন তবে এখনই তার আলোচনা হওয়া বা জনগণের মধ্যে সেই নেতৃত্বেও স্ফুলিঙ্গ প্রস্ফুটিত হওয়া জরুরী।

(দুই)

গত বৃহস্পতিবার সুজনের গোলটেবিল বৈঠকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যুতে আলোচনা হয়, যা আমাকে ও দেশের মানুষকে সম্ভবত: আলোড়িত করেছে এবং কলম জগতে লেখনির খোড়াক জুগিয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক(সুজন) “রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংস্কার” শিরোনামে উত্থাপিত প্রস্তাবে ব্যাপক আলোচনা করেছে এবং স্বৈরাচার বিরুধী আন্দোলনের সময় ১৯৯০ সালে তৎকালীন “তিন জোটের রূপরেখা” রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পর আচরণ বিধি স্বাক্ষর সফল হলেও গত ২৯ বছরে তা বাস্তবায়ন তো হয়-ই নি উপরন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরো নড়বড়ে হয়েছে ও রাষ্ট্র কাঠামোর কোন পরিবর্তন আসেনি। ফলে সংগঠনটি ঐ তিন জোটের রূপরেখার আদলে রাষ্ট্রের মেরামত নিমিত্তে ১৮ দফা সংস্কার প্রস্তাবের খসড়া তুলে ধরে। তাতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, নির্বাচন পদ্ধতি, সংবিধান, স্থানীয় সরকার, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের দাবী জানানো হয়। বৈঠকে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দেশ যেভাবে চলছে এভাবে চলতে থাকলে দেশ অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

বর্তমান সরকারের স্লোগান “উন্নয়নের গণতন্ত্র শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র” এর মধ্যে গণতন্ত্রের মুখোমুখি উন্নয়নকে দাঁড় করার একটা পায়তারা বৈ কিছু নয়। গণতন্ত্র মজবুত থাকলে উন্নয়ন হবেই। তাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।

(তিন)

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে সদ্য লোকসভা নির্বাচনে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিজেপী বিপুল ভোটে ও আসনে বিজয়ের ঘটনাটি বিশ্বরাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে, যদিও এমনটিই পূর্বানুমান ছিল। ভারতীয় লেখক রজত রায় মোদীর নতুন সরকার গঠন নিয়ে যে সারবক্তব্য দিয়েছেন তাতে ভারতীয় মুসলমানদের বা বহিরাগত বাংলাভাষাভাষীর জন্য ভবিষ্যৎ কত কন্টক হবে তার শংকা প্রকাশ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে এবার তৃনমূল কংগ্রেসের দূর্গে বিজেপি আগের চেয়ে ১২টি বেশী আসন পেয়েছে যা তৃনমুলের প্রায় সমান বা কাছাকাছি। ফলে আশঙ্কা বাড়ছে রাজ্যের মুসলমানদের মধ্যেও যা তৃনমুল কংগ্রেস আমলে অহেতুক ভয় পেতে হয়নি মুসলমানদের। যদি আসামমের মত এনআরসি বা জাতীয় নাগরিক পঞ্জি করে বাংলাদেশী বাংলা ভাষাভাষী ও মুসলমানদের হয়রানির স্বীকার হতে হবে। তখন আসামের ৪০ লাখের বেশি বাংলা ভাষী মুসলমানদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে।

আর এটা সবারই জানা বিজেপি ভারতের হিন্দু মৌলবাদকে চরমভাবে সমর্থন করে। বিজেপি ৬৫ জন মুসলমান হত্যা মামলার আসামী প্রজ্ঞা ঠাকুরকেও মননোয়ন দিতে কুন্ঠাবোধ করেন নি। ফলে ভারতীয় মুসলমানগণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এটা না মনে করার কারন নেই।

(চার)

সোহরাব হোসেন গত ২১ মে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আয়োজিত ইফতারের আয়োজনে আমন্ত্রিত অতিথির মধ্যে দুই রকমের ইফতার পরিবেশন করে, যা নোংড়া মনমানষিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তা তুলে ধরে বলেন, নির্বাচন কমিশন ইফতার অনুষ্ঠানের নামে যা করেছে, তাতে তারা লজ্জিত হয়েছে কিনা জানি না। তবে দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা অপমানিত বোধ করছি। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলেও তারা যা খুশি করতে পারে না । অনুষ্ঠানে উঁচু পদের অতিথিদেও জন্য ১৪ আইটেম আর সাধারন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকদের জন্য ১১ আইটেমের খাবার দেয়। আবার সালাদের মধ্যেও ছিল পার্থক্য।

সত্যিই আমিও অবাক হলাম সর্বশেষ বিষয়টি ভেবে।

পোষ্টটি লিখেছেন: Md. Khairul Islam

এই ব্লগে 7 টি পোষ্ট লিখেছেন .

মোঃ খাইরুল ইসলাম ইতিহাস বিভাগে অধ্যয়ন করেছেন ময়মনসিংহের প্রখ্যাত আনন্দ মোহন কলেজে। তিনি পড়ালেখা অবস্থায় লেখালেখির সাথে যুক্ত রয়েছেন। ফেসবুকে নানান ধরণের লেখালেখি করে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে বেশ ভালভাবেই যুক্ত রয়েছেন। ফেসবুক ব্যবহার করে সামাজিক উন্নয়নমূলক প্লাট ফর্ম তৈরি করেছেন। ঈদ্গাহ বন্ধু সমাজ(ইবিএস) সংগঠনের চীফ কোঅরডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পোশাক শিল্পে মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগে একটি কারখানায় সহ ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকুরী করেন।

আমদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন পেইজে লাইক দিন গ্রুপে যোগ দিন


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *