সফলদের কাছ থেকে নিন ৩৫ তম বিসিএস এর টিপস

৩৫তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস)-এর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর। সাধারণ ৪৫৫, টেকনিক্যাল ও প্রফেশনাল ৪৮৪, শিক্ষা ৮২৯ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ ক্যাডারে ৩৫-এ মোট ১৮০৩ জন ক্যাডার নিয়োগ দেয়া হবে এবার। আবেদনের শেষ তারিখ ৩০ অক্টোবর। এর মধ্যে অনেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বিসিএসের জন্য। আপনার প্রস্তুতি সহায়ক হতে পারে এমন দুজনের পরামর্শ তুলে ধরা হলোঃ1_99233

বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিন
ফারহানা জাহান উপমাঃ ৩১তম বিসিএস পরীক্ষায় (প্রশাসন) প্রথম

 ৩৫তম বিসিএস নতুন সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সিলেবাসটা আমাদের সময়ের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসের সংক্ষিপ্ত ভার্সন বলা যেতে পারে। এদিক থেকে পরীক্ষার্থীদের জন্য ভালো হয়েছে। কেননা প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য আর আলাদা করে প্রস্তুতি নিতে হবে না। লিখিত পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করলেই প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি হয়ে যাবে। প্রস্তুতি নিতে চাইলে ব্রড আকারে পড়াশোনা করতে হবে। তার মানে যে টপিকটা পড়া হবে সেটা খুঁটিনাটি, আদ্যোপান্ত পড়তে হবে।

এবারই যেহেতু প্রথম, তাই কঠিন হলে সবার জন্য কঠিন হবে। এই চাপটা নেয়ার দরকার নেই, নতুন সিলেবাস কী হবে! এবার প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে নৈতিকতা, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি। এ বিষয়গুলো আগে শুধু লিখিত পরীক্ষায় ছিল। এগুলোরও খুঁটিনাটি জানতে হবে। আর প্রতিটি বিষয় পড়তে হবে সুনির্দিষ্টভাবে। যিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিসিএসের জন্য তার আগাগোড়া জেনে নেয়া উচিত সিলেবাসে কী কী আছে এবং কোন কোন বিষয়ে তার দুর্বলতা আছে। এরপর সেই দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য সে বিষয়ের ওপর নজর দিন। এক এক করে প্রতিটি বিষয় শেষ করুন।
এবার আসা যাক বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিতে। বাংলার ক্ষেত্রে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর ওপর নজর দিতে হবে। বাংলা সাহিত্যের ওপর অনেক লেখকের বই আছে সেগুলো পড়া যেতে পারে। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির জন্য পত্রিকা পড়া জরুরি। অনেকেই মনে করেন, ইংরেজি পত্রিকা পড়া ভালো, আমার মনে হয় এটা জরুরি নয়। বাংলা পত্রিকা পড়া যেতে পারে। উপসম্পাদকীয়গুলো পড়লে অনেক তথ্য জানা যায়, সমসাময়িক সময়ের ঘটনার বিবরণও জানা যায়। এগুলো কাজে লাগে। অঙ্কের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেয়া খুব সহজ। অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর গণিত বইগুলো ফলো করা যেতে পারে। একটা অসুবিধা অনেকের হয়_ অঙ্ক করতে সময় বেশি লাগে। এর পেছনে কারণ হলো অঙ্কের চর্চা না করা। যদি নিয়মিত চর্চা করা যায় তাহলে সময় বেঁচে যাবে।

বাংলাদেশ বিষয়াবলির মধ্যে সংবিধানের ওপর নজর দিতে হবে যদি বিগত বছরে প্রশ্নপত্রে সংবিধানের ওপর প্রশ্ন কম হয়ে থাকে।
এবার ভাইভার কথায় আসা যাক। ভাইভার জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি হলো আত্মবিশ্বাস। আপনি কোনো প্রশ্নের উত্তর নাও জানতে পারেন, এটা দোষের কিছু নয়। সেটাও স্বাভাবিকভাবে বলুন। একটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার, যেদিন পরীক্ষা সেদিন সকালে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় মূল খবর কী, শিরোনাম কী হয়েছে এগুলো একটু মাখায় রাখতে হবে। ভাইভা বোর্ডে সব সময় মুখে একটু স্মিত হাসি থাকা ভালো। একইসঙ্গে দুজন শিক্ষক প্রশ্ন করলে একটি একটি করে উত্তর দিতে হবে। প্রয়োজনে আরেকজনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে উত্তর দিন। যারা ভাইভা বোর্ডে থাকেন তারা কিন্তু এ বিষয়টি লক্ষ্য করেন আপনি কতটা কনফিডেন্টলি সিচুয়েশনটা হ্যান্ডেল করছেন। আর কিছু প্রশ্নের উত্তর ইংরেজিতে দিতে হতে পারে। এ জন্য আগে থেকেই বন্ধুর সঙ্গে অল্প সময়ের জন্য ইংরেজিতে কথা বলার চর্চা করুন কিংবা আয়নায় দাঁড়িয়ে চর্চা করুন। আবার বাংলাদেশের ইতিহাসটা যেন একেবারে নখদর্পণে থাকে। কেননা আমরা বাঙালি, এই বাংলার ইতিহাস জানব না কেমন করে হয়!

প্রস্তুতি শুরু করে দিন এখনই। সাফল্য আসবেই।

অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দিয়ে পড়ুন

সুশান্ত পালঃ ৩০তম বিসিএস পরীক্ষায় (কাস্টমস) প্রথম

বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেছেন, খুব চিন্তার মধ্যে আছেন কীভাবে সফল হবেন। আর যারা এরই মধ্যে দু’একবার পরীক্ষার টেবিলে বসেছেন তারা বোধহয় আরও চিন্তাগ্রস্ত। ‘কম সময়ে অনেক কিছু করতে জানাটা বড় একটা আর্ট,’ এটা আপনিও জানেন। আর একটা কথা খুব সত্য, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভালো ছাত্র হলেই ক্যারিয়ার ভালো হবে এমনটা নয়। শেষ হাসিটা হাসার চেষ্টা করুন।
বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির কথায় আসা যাক। খুব সত্য কথাটা হলো, সত্যিকারে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার মতো পরীক্ষার্থীর সংখ্যা খুব বেশি নেই, থাকেও না। এ পরীক্ষাগুলোতে কিছু পরীক্ষার্থী ঘুরতে এবং বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। প্রতিযোগিতায় আসার মতো প্রতিযোগীর সংখ্যা সাত থেকে দশভাগের মতো।

বিসিএস পরীক্ষার কোনো সিলেবাস নেই, তাই এ পরীক্ষায় শতভাগ প্রস্তুতি নেয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। পরীক্ষায় ভালো করার জন্য কী কী পড়বেন, সেটা জানার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, কী কী বাদ দিয়ে পড়বেন, সেটা ঠিক করা। ১০তম থেকে ৩৪তম বিসিএস, পিএসসির নন-ক্যাডার প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সমাধান করে ফেলুন। এতে করে আপনার প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা জন্মাবে। কীভাবে অপ্রয়োজনীয় টপিক বাদ দিয়ে পড়া যায়, সেটা শিখতে পারবেন। এটা প্রস্তুতির প্রথম ধাপ। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী প্রথমে রেফারেন্স বই পড়েন, পরে প্রশ্ন সমাধান করেন। এতে দুটি সমস্যা আছে। এক. বেশি বেশি প্রশ্ন সলভ করার সময় পাওয়া যায় না। যত বেশি প্রশ্ন সলভ করবেন, ততই লাভ। দুই. রেফারেন্স বইগুলোর বেশিরভাগ অংশই বিসিএস পরীক্ষার জন্য কাজে লাগে না, অথচ পুরো বই পড়তে গিয়ে সময় নষ্ট হয় এবং বিসিএস নিয়ে অহেতুক ভীতি তৈরি হয়।
একটা বুদ্ধি দিই। বিসিএস পরীক্ষার জন্য যে কোনো বিষয়ের রেফারেন্স পড়ার একটা ভালো টেকনিক হচ্ছে, জ্ঞান অর্জনের জন্য না পড়ে মার্কস অর্জনের জন্য পড়া। প্রিলি আর রিটেনের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে দেখে রেফারেন্স বই থেকে অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দিয়ে পড়ুন। আর একটা বিষয় মাথায় রাখবেন, প্রিলিমিনারি সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার পরীক্ষা নয়, স্রেফ পাস করার পরীক্ষা। বিসিএস পরীক্ষায় ভালো করা মূলত নির্ভর করে ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও বাংলা_ এ চারটি বিষয়ের ওপর। এ চারটি বিষয় জোর দিয়ে পড়ুন। যে প্রশ্নগুলো কঠিন মনে হবে সেগুলো একাধিকবার পড়ুন। আবার কিছু কঠিন প্রশ্ন থাকে যেগুলো বারবার পড়লেও মনে থাকে না। সেগুলো মনে রাখার চেষ্টা বাদ দিন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি_ এ বিষয়গুলোতে প্রয়োজনীয় চিহ্নিত চিত্র ও ম্যাপ অাঁকুন? যথাস্থানে বিভিন্ন ডাটা, টেবিল, চার্ট, রেফারেন্স দিন। নিয়মিত পত্রিকা পড়ুন। সম্ভব হলে অন্তত ৫-৬টি। অনলাইনে পড়তে পারেন। খুব দ্রুত চোখ বুলিয়ে যা যা বিসিএস পরীক্ষার জন্য দরকার, সেগুলো ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করে রাখতে পারেন।

এবার আসা যাক ভাইভার কথায়। যারা ভাইভা বোর্ডে থাকেন, তারা সত্যিই অনেক বেশি অভিজ্ঞ আর পারদর্শী। তারা খুব ভালো করেই বোঝেন আপনি কী বলছেন, কী লুকাচ্ছেন। তাই কোনো কিছু লুকানোর চেষ্টা করবেন না। আপনি যেরকম, সেরকমই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করুন। এ সময় আই কনট্যাক্ট রাখুন। অন্যদিকে তাকিয়ে কথা বলা কোনো কাজের কথা নয়। তাছাড়া, স্যারদের ইনস্ট্যান্ট এঙ্প্রেশন জানতেও এটা জরুরি। সিভিল সার্ভিস, আপনার সাবজেক্ট, ক্যাডারের ফার্স্ট আর সেকেন্ড চয়েস সম্পর্কে ধারণা রাখুন।

কৃতজ্ঞতাঃ আলোকিত বাংলাদেশ

পোষ্টটি লিখেছেন: আল মামুন মুন্না

আল মামুন মুন্না এই ব্লগে 617 টি পোষ্ট লিখেছেন .

আল মামুন মুন্না, বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমিউনিটি ব্লগ সাইট "লেখাপড়া বিডি"র প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন যশোর সরকারী এম. এম. কলেজ থেকে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিষয় নিয়ে বি.বি.এ অনার্স ও আজম খান সরকারী কমার্স কলেজ থেকে এমবিএ করছেন।

2 comments

  1. সুন্দর একটি পোস্ট করার জন্য অনেক ধন্যবাদ.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *