এ কেমন ছাত্রশিক্ষক চড়ুইভাতি খেলা

teacher-vs-studentসরকার যা কিছু প্রবর্তন করেন কল্যাণের জন্যই করেন। কিন্তু আমদের জাতীয় চরিত্রের সমস্যার কারণে তা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। বিরূপ পরিণতিগুলোর জন্য সরকারকে দায়ী দেয়া চলবে না। দায়ী আমাদের জাতীয় চরিত্র। জেডিসি ও জেএসসি পরীক্ষা চালু করা হয়েছে উন্নতির দিকগুলো বিবেচনা করে। উন্নতির দিকগুলো হচ্ছেঃ সকল ছেলেমেয়েকে বিদ্যালয়মুখী করা, শিক্ষার হার বৃদ্ধি করা, বাল্য বিবাহ দূর করা, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে শিক্ষার আগ্রহ বৃদ্ধি করা প্রভৃতি। জেডিসি ও জেএসসি পরীক্ষা প্রবর্তনের ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে যাবে না। পরীক্ষায় তিন বিষয় অকৃতকার্য হলেও নবম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হবে কিন্তু ঐ তিন বিষয়ের জন্য পুনরায় জেডিসি বা জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। তাও সব বিষয়ে নয়, যে তিন বিষয় অকৃতকার্য হয়েছে সেই বিষয় শুধু পরীক্ষা দেবে। কেউ এক বিষয়ে, কেউ দুই বিষয়, কেউ তিন বিষয়। তিন বিষয়ের অধিক ফেল করলে সব বিষয়গুলোর পরীক্ষা দিতে হবে। ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়মুখী করার জন্যে সরকারের চেষ্টার পাশাপাশি আমাদের আন্তরিক সহযোগিতা থাকতে হবে। সরকারের উপর নির্ভর না করে সমাজের অর্থশালী ব্যক্তি বা শিক্ষক এগিয়ে আসতে পারে। যার যার নিজ গ্রাম, পাড়া-মহল্লায় যেসব ছেলেমেয়ে স্কুলগামী হচ্ছে না, তাদেরকে স্কুলগামী করার জন্য বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে পারে। কতিপয় শিক্ষক ক্লাসে ঠিকমতো পাঠদান করতে চায় না। তাদের চরিত্রে কিছুটা সমস্যা আছে। তারা প্রাইভেট পড়ানোর জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের জোর করে উদ্বুদ্ধ করেন। এতে অনেক গরিব ছাত্র- ছাত্রী মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। কিন্তু সরকার এসব বিবেচনা করে নিজ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র- ছাত্রীদেরকে প্রাইভেট পড়ানো যাবে না বলে যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তা একটি ইতিবাচক দিক। যদিও কিছু গরিব শিক্ষকের আর্থিক সমস্যা হচ্ছে। এমন হওয়া উচিত ছিলো যে, যেসব দুর্বল ছাত্র- ছাত্রী আছে তারাই শুধু নিজ ইচ্ছানুসারে প্রাইভেট পড়বে। কিন্তু কতিপয় শিক্ষকের জাতীয় চরিত্রের কারণে তা সম্ভবপর হয়ে উঠছে না। যেখানে ছাত্র- ছাত্রীরা প্রাইভেটের কথা শিক্ষকদেরকে বলবে, সেখানে শিক্ষকরাই ক্লাসে বা ক্লাসের বাইরে ছাত্র- ছাত্রীদেরকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলেন। এমনকি তাদেরকে লোভনীয় কথাবার্তা বলে প্রাইভেটের ফাঁদে ফেলাতে চেষ্টা করেন ওই সব দুর্বৃত্ত শিক্ষকরা। এহেন নিচু মন- মানসিকতা পরিহার করে ছাত্র- ছাত্রীদেরকে সঠিক পাঠদান এবং বিদ্যালয়গামী করার জন্য সরকারকে অবশ্যই সহযোগিতা করতে হবে। না হয় সরকারের পদক্ষেপগুলো ভেস্তে যাবে। সকল ক্ষেত্রে রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োগ করা ঠিক না। দল মত নির্বিশেষে এমন কিছু পদক্ষেপ আছে তা দেশের স্বার্থে, দশের স্বার্থে সরকারের সাথে সহযোগিতা করা উচিত। জেডিসি ও জেএসসি পরীক্ষা প্রবর্তনের ফলে যেহেতু ছেলেমেয়েরা স্কুলগামী হচ্ছে সেহেতু শিক্ষার হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেলেই দেশ উন্নতি হবে না। সঠিক শিক্ষা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত দেশ ও জাতি উন্নতির চরম সীমায় পৌঁছবে না। ধানের সাথে ধানের চিটা অবশ্যই থাকবে। কিন্তু ধানের চেয়ে চিটা বেশি থাকবে তা কাম্য নয়। ছাত্র-ছাত্রীরা সঠিক শিক্ষা পাচ্ছে কি পাচ্ছে না এজন্যে সরকারকে দোষারোপ করা ঠিক না। দোষ আমাদের জাতীয় চরিত্র। পরীক্ষা হলগুলোতে আভ্যন্তরীণ যেসব দুর্নীতি হচ্ছে, তা আমাদেরকে সমস্যা সমাধান করতে হবে। কিন্তু এ কথা সত্য যে, আমাদের দেশে এমন কিছু পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তা বেহায়ার মতো আকড়ে থাকবে। এর সমস্যা নিরসনে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে। বাল্যবিবাহ শিক্ষার মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায়। যেসব মেয়েদের অল্প পড়া অবস্থায় বাল্য বিবাহ হয়ে যাচ্ছে তাদের শারীরিক সমস্যা ছাড়াও শিক্ষারও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে বা ঘটতে থাকবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। একটি শিক্ষিত নারীর ছেলেমেয়েরা কখনো অশিক্ষিত থাকতে পারে না। শিক্ষিতবিহীন বা অল্প শিক্ষিত একজন নারীকে উদ্ভিদের পোকার সাথে আমি তুলনা করতে পারি। তারা সমাজের পোকা। সবুজ সতেজ উদ্ভিদকে পোকা যে ভাবে ক্ষতিসাধন করে তারাও তেমনি তাদের সন্তান সন্ততিকে পোকার মতো ক্ষতি সাধন করবে। বাল্যবিবাহ শুধু সামাজিক সমস্যা নয়, জাতীয় সমস্যাও বটে। জেডিসি ও জেএসসি পরীক্ষা প্রবর্তনের ফলে ছাত্রীদের সার্টিফিকেটে সঠিক জন্ম তারিখ থাকে। সেখানে কোনো মতে ১৮ বছর দেখিয়ে বাল্য বিবাহ দেয়ার সুযোগ নেই। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ছাত্র-ছাত্রীদের চেতনা বৃদ্ধি করতে পাঠ্য বইতে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরতে হবে। কোরআন এবং হাদীসে এমন কথা বলেনি যে, তোমাদের ছেলেমেয়েদের তাড়াতাড়ি বিবাহ দিয়ে দাও। বরং বলা হয়েছে, স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ করো না। প্রয়োজন হলে রোজা রাখ। মেয়েদের শিক্ষা সর্ম্পকে বলা হয়েছে, যার তিন কন্যা রয়েছে তাদেরকে যদি তোমরা বিদ্যা অর্জন করাও এবং তোমরা ইসলামের যাবতীয় কর্মকাণ্ড সম্পন্ন কর তবে অবশ্যই বেহেস্তে যেতে পারবে। কাজেই সহজে উপলদ্ধি করা যায় ইসলামে নারীর শিক্ষার প্রতি কতটুকু প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। প্রাচীনকালে বাল্যবিবাহ হতো। তখনকার পরিবেশের জন্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে উপযোগী ছিলো। কিন্তু এখন আর ওই পরিবেশ নেই। এখন আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়েছে। খাদ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আগেরকার শারীরিক গঠন এখনকার শারীরিক গঠনে পার্থক্য অনেক। অতীতের সাতকাহন স্মরণে এনে বাল্যবিবাহ কিছুতেই দেয়া যাবে না। এখন যদি সচেতনতার মধ্যে বাল্যবিবাহ হয় তবে তা বাল্য বিবাহ বলা যাবে না। তা হবে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা মানে মৃত্যু বা কোনো শারীরিক বিকলাঙ্গ যা মরণ পর্যন্ত ভোগ করতে থাকবে এবং সমাজ, দেশ ও জাতিকেও ভোগাবে। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহের ফসল অর্থবহ করে তুলতে হবে। অর্থহীন আগ্রহ সফলতার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। কোনো ছাত্র-ছাত্রী আগ্রহের সাথে কোনো শিক্ষকের কাছে বিদ্যার জন্য হাত বাড়ালে তাকে যদি বিরাটাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আকর্ষণীয় মোড়কে একটি মিষ্টি উপহার দেয়, তা হবে হাস্যকর। বিরাটাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আকর্ষণীয় মোড়কে একটি মিষ্টি মানে সামান্য বিদ্যা। কাজেই ছাত্র- ছাত্রীদের ফলবান আগ্রহ সৃষ্টিতে সরকারের পাশাপাশি আমাদের যা যা করণীয় তা আন্তরিকতার সাথে অংশগ্রহণ করে বেগবান করতে হবে। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা নিয়ে সম্পাদক, সাংবাদিক, কলামিস্টগণ যে যে বিরূপ সমালোচনা করে চলেছেন, তাতে শিক্ষামন্ত্রী কাউকে ভৎসনা না করে সদুপদেশের পাশাপাশি গঠনমূলক মতামত প্রদানের জন্য যেসব বিবৃতি বা কলাম লিখেছেন, তাতে তিনি প্রজ্ঞা, সহিষ্ণুতা ও পারঙ্গমতার পরিচয় দিয়ে নিজেকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। যদিও তিনি ভৎসনা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি এমনটি করেননি। এখানেই তাঁর সফলতা নিহিত বলে আমি মনে করি। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা প্রর্বতনে যেসব কুফল প্রস্ফুটিত হচ্ছে তা আমাদের আমাদের জাতীয় চরিত্রের কারণেই হচ্ছে। তা সংশোধন করার এখনি সময়। না হয় সকল পদক্ষেপ গড্ডালিকায় প্রবাহিত হবে।  আমাদের জাতীয় চরিত্রের কারণে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা প্রবর্তনের কুফলের কিছু বাস্তব চিত্র নিম্নে আমি তুলে ধরছি :  ২০১০ সালে প্রবর্তন করা হয় জেডিসি ও জেএসসি পরীক্ষা। এ পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্র- ছাত্রীরা অর্জন করে বোর্ড কর্তৃক সনদপত্র। এ সনদপত্র কতটুকু সফলতার পর্যায় এনে দিয়েছে এবং সঠিক মেধার যাচাই হচ্ছে কিনা তা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। আচার আচরণের পরিবর্তনকে শিক্ষা বলে। কিন্তু যে শিক্ষার দ্বারা যদি আচার- আরণের মারাত্মক অবনতি ঘটে তবে ঐ শিক্ষাকে কি অভিহিত করা যায়? তা অবশ্যই শিক্ষাবিদরা বলতে পারবে। এ কথা নির্জলা সত্য যে, জেডিসি ও জেএসসি পরীক্ষার ফলে শিক্ষার হার বৃদ্ধি দেখানো যাবে। কিন্তু মেধার যে বিপর্যয় ঘটেছে তা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে। উপরের কভার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। কিন্তু ভেতরে যে আবর্জনা ফেটে উপরের কভারকে আবর্জনায় ডেকে দেবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। ছাত্র-ছাত্রীরা বিনা টাকায় শুধুমাত্র বোর্ডের বইগুলো পায়। ১শ’ টাকার বই পাওয়া সত্ত্বেও ছাত্র- ছাত্রীদের শিক্ষা খরচের হার আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বোর্ড বইগুলোর সহায়ক গ্রন্থগুলো কিনতে অভিভাবকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব কিনতে প্রতি ছাত্র-ছাত্রীর খরচ হয় দুই হাজার টাকার উপরে। ইংরেজি সহায়ক গ্রন্থগুলো কিনতে হাজার টাকার উপরে চলে যায়। আবার একের মধ্যে দশ নামে নোট, বাংলা ব্যাকরণ, সৃজনশীল, নৈব্যক্তিক গাইড, সাজেশন প্রভৃতি বইগুলো কিনতে লেগে যায় আরো হাজার টাকার উপরে। এ বাড়তি বোঝার উপর জেডিসি বা জেএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রাইভেট শিক্ষকের সন্ধান করে। যদিও তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং বা অতিরিক্ত ক্লাসে অংশগ্রহণ করে। প্রথমে ছাত্র- ছাত্রীরা হতাশায় ভোগে যে, বোর্ড কর্তৃক পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়া যাবে কি যাবে না। বিভিন্ন চিন্তা-ভাবনা ও উদ্বিগ্ন তাদের মাথায় বোঝা হয়ে বিরাজ করে। কোচিং ও ফরম ফিলাপে দিতে হয় অনেক টাকা। মডেল টেস্টের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাতিয়ে নেয় অবাঞ্চিত টাকা। জেডিসি বা জেএসসি পরীক্ষার দ্বারা যদি ক্ষতির চেয়ে উপকারই বেশি হতো তাহলে বিপক্ষে মতামত প্রকাশ করতাম না। আমি সারাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষক ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের উপর প্রশ্ন ছুড়ে মারতে পারি এ পরীক্ষা প্রবর্তনের উপকারিতা কতটুকু? প্রায় সারা দেশে পরীক্ষার হলগুলোকে আমি ‘ক্রীড়া হল’ বলে আখ্যা দিতে পারি। এখানে ছাত্র- ছাত্রীরা তামাশা করে। ইচ্ছামতো খাতার মধ্যে লিখে, তাও একজনে আরেকজনের উত্তরপত্র দেখে। মাঝে মাঝে নকল করতেও দ্বিধাবোধ করে না। পরিদর্শকরা ছাত্র-ছাত্রীদের খেলা দেখে কেউ মজা পায়, আবার কেউ ঘৃণা আর দুঃখে ফুলে উঠে। প্রতিবাদ করতে পারে না। যদি করে এতে ঐ ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিষ্ঠানের প্রধান এসে ধমকা- ধমকি শুরু করে দেবে। পরীক্ষা শেষে সে সুস্থভাবে বাসায় ফিরে যেত পারবে না। এসব ভেবে ঐ শিক্ষক চুপ থাকে। বলার কিছু নেই, করার কিছু নেই। আবার অনেক শিক্ষক আছে তারা ম্যাজিস্ট্রেট, এসিল্যান্ড টিএনও শিক্ষা অফিসারকে পাহারা দেয়। শিক্ষকরা উঁকি-ঝুঁকি মারে, এদিক- ওদিক দেখে এবং চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকে যদি ‘ওরা’ আসে। যখন ওরা আসে তখন ছাত্র- ছাত্রীদেরকে বলে, এদিক- ওদিক কোনোমতেই তাকাবে না। ওরা আসছে। পরিদর্শক এসে দেখে, পরীক্ষার হল চুপচাপ। খুব স্বচ্ছ পরীক্ষা হচ্ছে। পরিদর্শক আরেক হলে গেলে শুরু হয় দেখা-দেখি ও নকল করা। পরিদর্শকের এক হল থেকে শেষ হল পর্যন্ত পরিদর্শনে কেটে যায় প্রায় ১ ঘণ্টা। একজন পরিদর্শক একই সাথে সকল পরীক্ষার হল সামাল দিতে পারে না। ১নং হল পরিদর্শন শেষ হলে যখন পা বাড়ান ২নং হলে তখন প্রথম হল থেকে শুধু ২য় হল ছাড়া শেষ হল পর্যন্ত চলে দেখাদেখি ও নকলের খেলা। এই তো গেলো ছাত্র-ছাত্রীদের কাণ্ডকীর্তি। এবার আসুন কিছু শিক্ষক আছে তাদের কর্মকাণ্ড কি? ঐ বেহায়া শিক্ষকরা এক হল থেকে আরেক হলে যায়। নিজ ছাত্র- ছাত্রীরা যে হলে পরীক্ষা দেয় সেখানে গিয়ে প্রশ্নের উত্তর বলে দেয় এবং নকল সরবরাহ করে নিজের আদর্শকে জলাঞ্জলি দেয়। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, এ প্লাস পাওয়ার এবং শতকরা পাসের আসায় প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অন্ধ প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে। এটাও একটি কারণ যে, এ প্লাস বৃদ্ধি করতে ও শতকরা পাসের আসায় শিক্ষকরা তাদের আদর্শকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করে। পরীক্ষা হলে দেখাদেখি, নকলের খেলা, শিক্ষকদের সহায়তায় ছাত্র- ছাত্রীরা আনন্দে ফেটে পড়ে। পরবর্তীতে যখন ৯ম শ্রেণীতে উঠে তখন ঐ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অনেকেই পড়ালেখা করতে চায় না। এমনকি দশম শ্রেণীতেও উঠলে একই অবস্থা। ছাত্র- ছাত্রীরা ক্লাসে আসে আর যায়। এটাই তাদের রীতি। শিক্ষকের পাঠদানে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। শিক্ষকদের আদেশ তারা ঠিক মতো পালন করতে চায় না। মোবাইল ফোনে টিপাটিপি করে তারা কি যেনো মজার জিনিস দেখে। অতিরিক্ত খেলাধুলা, ঘুরাফেরার প্রতি মনোযোগ থাকে বেশি। কেনো তারা এমনটি হলো? পাঠক! আমি বলতে পারি। তাদেরকে এমন এক ভ্যাকসিন পুশ করা হয়েছে তা হল জেডিসি বা জেএসসি পরীক্ষা। এ ভ্যাকসিন পুশ করার ফলে তাদের অন্তরে টেলিভিশনের মিনি পর্দার ছবির মতো ভেসে উঠে পরীক্ষার হলে ক্রীড়ার মজাদার স্মৃতিগুলো। পড়ালেখা না করেই বোর্ড কর্তৃক সনদ অর্জন করা যায়। তাদের কণ্ঠে শুধু একটি ধ্বনি উচ্চারিত হয় ঐ পরীক্ষা খুবই সহজ হয়েছে। কাজেই সামনের এসএসসি বা দাখিল পরীক্ষাটা এমনটিই হবে। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষাগুলোতে সমচিত্র লক্ষ্যণীয়। তবে পাঁচ বছর পর সমাপনী পরীক্ষা বহাল থাকুক। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা বাদ দেয়া যুক্তিসঙ্গত। সমাপনী পরীক্ষার পর আবার পাঁচ বছর পর দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষা তা বিজ্ঞানসম্মত এজন্যে যে, অর্থনৈতিক দৈন্যতা ও দুর্নীতিগুলো এড়ানোর জন্য।

পোষ্টটি লিখেছেন: অরণ্য সৌরভ

অরণ্য সৌরভ এই ব্লগে 47 টি পোষ্ট লিখেছেন .

আমি অরণ্য সৌরভ, লেখাপড়া করছি সরকারী সফর আলী কলেজ আড়াইহাজার, নারায়নগঞ্জ। পাশাপাশি কবি ও সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছি মাসিক "হাতেখড়ি"তে [email protected]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *