প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা জানুয়ারিতে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক’ নিয়োগের পরীক্ষা আগামী ২০১৯ সালের  জানুয়ারিতে হতে পারে। ২০১৮ সালের মধ্যে এই পরীক্ষা শেষ করার ইচ্ছে থাকলেও সময় পেছানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

চলতি বছরের নভেম্বর মাসে শুরু হচ্ছে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ কারণে পরীক্ষার আয়োজনে হল সংকট দেখা দিতে পারে। এছাড়া আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। সবদিক বিবেচনা করে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা এমন তথ্য জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এফ এম ড. মনজুর কাদির বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শেষ করতে। কিন্তু অক্টোবরে হল সংকট রয়েছে। আবার নভেম্বরে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এসব বিবেচনায় আমরা আগামী বছরের জানুয়ারিতে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের যৌক্তিক সময় হিসেবে নির্ধারণ করেছি। আশা করছি, সব ঠিকঠাক থাকলে ওই সময়ের মধ্যে পরীক্ষা নেয়া হতে পারে।’

মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, এবারের পরীক্ষা একসঙ্গে নেয়া হবে না। রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থীর আবেদনের কারণে জেলায় জেলায় কয়েক ধাপে পরীক্ষা নেয়া হবে। হল পাওয়া-সাপেক্ষে ৩-৪টি করে জেলার পরীক্ষা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ওএমআর ফরমসহ অন্যান্য দ্রব্যাদি কেনাকাটায় সরকারি ক্রয় আইন (পিপিআর) অনুসরণ করতে গিয়ে গতিও একটু কমে গেছে।

এ বছর প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ১২ হাজার আসনের বিপরীতে ২৪ লাখ ৫ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। সে হিসেবে প্রতি আসনে লড়বেন ২০০ জন।

প্রার্থীরা http://dpe.teletalk.com.bd ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। ওএমআর শিট পূরণের নির্দেশাবলি এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য ওয়েবসাইট (www.dpe.gov.bd) থেকে পাওয়া যাবে।

গত ৩০ জুলাই ‘সহকারী শিক্ষক’ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পুরনো নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। গত ১ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়। সারা দেশ থেকে মোট ২৪ লাখ ৫টি আবেদন এসেছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৫টি, রাজশাহী বিভাগে ৩ লাখ ৬২ হাজার ৯২৫টি, খুলনা বিভাগে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৩০টি, বরিশাল বিভাগে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৭টি, সিলেট বিভাগে ১ লাখ ২০ হাজার ৬২৩টি, রংপুর বিভাগে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৩৬৮টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪৩৭টি আবেদন জমা হয়েছে।

নারী আবেদনকারীদের ৬০ শতাংশ কোটায় এইচএসসি বা সমমান পাস এবং পুরুষের জন্য ৪০ শতাংশ কোটায় স্নাতক বা সমমান পাস রাখা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় প্রতি আসনের বিপরীতে তিনজনকে (একজন পুরুষ ও দুইজন নারী) নির্বাচন করা হবে। মৌখিক পরীক্ষার পর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

পোষ্টটি লিখেছেন: লেখাপড়া বিডি ডেস্ক

লেখাপড়া বিডি ডেস্ক এই ব্লগে 938 টি পোষ্ট লিখেছেন .

লেখাপড়া বিডি বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমিউনিটি ব্লগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *