বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে

এ বছর ১৪টি বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি), স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ক্যালটেক, কর্নেল ইউনিভার্সিটি, ডিউক ইউনিভার্সিটি এবং ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি অন্যতম। বৃষ্টি শিকদার এই লেখায় জানিয়েছেন কীভাবে তিনি সুযোগ পেলেন এই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, আর সেই সঙ্গে দিয়েছেন নতুনদের জন্য পরামর্শ।

ab73f71605367528da18aedb01cfcd82-13ছোটবেলা থেকেই বিদেশের বড় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার শখ ছিল আমার। আমি আমার লক্ষ্য চূড়ান্ত করি, কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়েই পড়ব।
দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকেই শুরু করি ইন্টারনেট নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি। জানতে পারি, এ লেভেল/এইচএসসি শেষ করে বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য আবেদন করা যায়। এ ছাড়া লাগে টোয়েফল এবং স্যাট, স্যাট টু-এর ভালো স্কোর। এ ছাড়া আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিজ্ঞান/গণিত শিক্ষক এবং ইংরেজি/সমাজবিজ্ঞান শিক্ষকের ‘রিকমেন্ডেশন লেটার’। আর সবচেয়ে জরুরি, অন্যের কাছে নিজেকে চেনাতে নিজের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত একটি নিবন্ধ। ভালো জিপিএর চেয়েও এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। তাই কেউ যদি গান-নাচ বা খেলাধুলায় ভালো হও এবং কোনো পুরস্কার পেয়ে থাকো, সেগুলো উল্লেখ করতে ভুলো না। তবে সবকিছুরই প্রমাণপত্র থাকতে হবে। আমার ক্ষেত্রে ছবি আঁকা এবং ২০১২ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জ পদক প্রাপ্তিও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেতে আমার দারুণ কাজে লেগেছিল।
একাদশ শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকেই একাউন্ট খুলে যোগাযোগ শুরু করা যায়। আমি ২০১৩ সালের জুলাই মাস থেকে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি। পরীক্ষার সনদ ও প্রশংসাপত্র আমি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দিই। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিভিন্ন কাগজপত্র স্ক্যান করে অনলাইনে আপলোড করে দিই। অনলাইন ফরম পূরণের সময় বাবা-মায়ের ইনকাম ট্যাক্সসংক্রান্ত কাগজপত্র ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট লাগে। এসব কাগজপত্র পরবর্তী সময়ে ভিসা আবেদনের কাজেও লাগবে। তাই এগুলো আগে থেকেই জোগাড় করে রাখা ভালো।

আমার ক্ষেত্রে এমআইটির রেজাল্ট দিয়েছিল মার্চের ১৫ তারিখ এবং অন্যান্য সব ভার্সিটির রেজাল্ট দিয়েছিল ২৭ মার্চ থেকে ১ এপ্রিলের মধ্যে। সার্বিক সুযোগ বিবেচনায় আমি এমআইটিকেই বেছে নিই।

নতুনদের জন্য পরামর্শ
এসএসসি/ও–লেভেল পরীক্ষার পর থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করা উচিত। সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ভর্তি-সংক্রান্ত সব তথ্য সহজ ভাষায় লেখা থাকে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকা নির্ধারণ করে ফেলা উচিত। স্যাট আর টোয়েফল পরীক্ষার মাধ্যমে যতটা সম্ভব ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। স্যাট পরীক্ষায় গণিত, ক্রিটিক্যাল রিডিং ও রাইটিং বিভাগে পরীক্ষা দিতে হয়। প্রতি বিষয়ে ৮০০ করে মোট ২৪০০ নম্বর পরীক্ষা। আমি গণিতে ৮০০, ক্রিটিক্যাল রিডিংয়ে ৬৯০ আর রাইটিংয়ে ৭৬০ নম্বর পাই। কেউ যদি ক্রিটিক্যাল রিডিংয়ে ৬০০ নম্বরের বেশি পায় এবং মোট ২০০০-এর বেশি নম্বর পায়, তাহলে তা ভালো স্কোর। স্যাটে গণিত একটু সহজ হলেও ইংরেজির অংশ কিছুটা কঠিন। ইংরেজিতে ভালো করতে নিয়মিত ইংরেজি অনুশীলন, প্রচুর শব্দ শেখা আর ইংরেজি বই পড়তে হবে।
স্যাট টুতে গণিতসহ রসায়ন, পদার্থ, জীববিজ্ঞানের যেকোনো দুই বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। আমি স্যাট টু পরীক্ষায় ২৪০০ নম্বরে পুরো ২৪০০ পাই। বছরের অক্টোবর থেকে মার্চ মাসে স্যাট পরীক্ষা হয়। একই সঙ্গে স্যাট আর স্যাট টু পরীক্ষা দেওয়া যায় না। শিক্ষাবর্ষে ডিসেম্বর মাসের আগে স্যাট, স্যাট টু এবং টোয়েফল পরীক্ষা শেষ করা ভালো। কারণ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে জানুয়ারির ফলাফল গ্রহণ করে না। পরীক্ষার নিবন্ধনের জন্য স্যাটের অফিশিয়াল সাইটে নাম নিবন্ধন করে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দেওয়া যায়। স্যাটের জন্য বই: Official SAT Blue Book। Barrons, Princeton Review, Kaplan
শব্দ শেখার জন্য Direct Hits Vocabulary, Barrons High Frequency, Barrons 3500 Word list গুরুত্বপূর্ণ।

টোয়েফল
টোফেলের সব তথ্য অনলাইনেই পাওয়া যায়। প্রতি মাসেই টোফেল পরীক্ষা দেওয়া যায়। টোফেল পরীক্ষায় চারটি ভাগ আছে-রিডিং, রাইটিং, লিসেনিং ও স্পিকিং। ৩০ নম্বর করে মোট ১২০ নম্বর পরীক্ষা হয়। আমি টোয়েফলে ১১৬ নম্বর পেয়েছিলাম। এমআইটিতে আবেদন করতে টোয়েফলে ন্যূনতম ৯০ নম্বর থাকতে হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে ন্যূনতম ১০০ নম্বর পেতে হয়।

অন্যান্য কাগজপত্র
স্কুল/কলেজ থেকে প্রশংসাপত্র, সনদ ও নম্বরপত্র তুলতে হবে। অল্প কথায় নিজেকে নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখতে হবে। তোমার নিবন্ধ পড়ে যেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বোঝে তুমি কেমন মানুষ, তোমার কী করতে ভালো লাগে।
তোমার যদি ছবি আঁকতে কিংবা ফুটবল বা ক্রিকেট খেলতেও যদি ভালো লাগে, তাও তোমার নিবন্ধে লিখবে। সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করাকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রচণ্ড গুরুত্ব দেয়।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হয়। এমআইটির জন্য MyMit (my.mit.edu/uaweb/login.htm) তে একটা অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় আর যুক্তরাষ্ট্রের বাকি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য Common Application (www.commonapp. org/Login) এ অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। Cambridge , Oxford সহ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন ইউনিভার্সির জন্য (www.ucas.com) আলাদা আবেদন করতে হয়।
নতুন শিক্ষার্থীরা, এ ছাড়া আরো কোনো তথ্য জানতে আমাতে লিখতে পারো আমার ইমেইলে।
বৃষ্টি শিকদার: [email protected]

পোষ্টটি লিখেছেন: বৃষ্টি শিকদার

এই ব্লগে এটাই বৃষ্টি শিকদার এর প্রথম পোষ্ট.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *