হিসাব সমীকরণঃ নবম-দশম শ্রেণীর হিসাববিজ্ঞান

হিসাব সমীকরণ

যে সমীকরণের মাধ্যমে ব্যবসায়ের মোট সম্পত্তি ও মোট দাবি/ দায়ের সমতা প্রকাশ করা হয়, তাকে হিসাব সমীকরণ বলে। হিসাব সমীকরণের মাধ্যমে সম্পত্তি, দায় ও মালিকের স্বত্বাধিকারের পরিমাণ জানা যায়। অর্থাৎ, হিসাব সমীকরণটি নিম্মলিখিত উপায়ে প্রকাশ করা যায়…

Assets= Equity

 

Equity আবার দুই ধরণের… ১। বাইরের পক্ষের দাবি ২। মালিক পক্ষের দাবি। বাইরের পক্ষের দাবিকে বলে Liability(দায়) ও মালিক পক্ষের দাবিকে বলা হয় মূলধন বা capital.

যাইহোক, হিসাব সমীকরণটিকে আমরা নিম্মিলিখিত উপায়ে বর্ধিত করতে পারি…

সম্পত্তি= দায়+ মালিকানা স্বত্ব

Assets= Liabilities+ Owners Equity

 

হিসাব সমীকরণের উভয় পার্শ্ব সর্বদা সমান হবে। নতুবা, উভয় পার্শ্ব অসমান হলে, এটি হিসাবে ভুল রয়েছে বুজাবে।

সুতরাং, আমরা বলতে পারি, দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির উপর নির্ভর করে হিসাব শাস্ত্রবিদগণ যে গাণিতিক সমীকরণ উপস্থাপন করেছেন, তাকে হিসাব সমীকরণ বলে।

 

হিসাব সমীকরণের উপাদানসমূহ

কোন লেনদেনের ফলে হিসাব সমীকরণের এক বা একাধিক উপাদান প্রভাবিত হতে পারে। নিচে ঐ সকল উপাদানসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করা হল…

১। সম্পত্তিঃ সম্পত্তি হচ্ছে ব্যবসায়ের অধিকারসমূহ যা হতে ভবিষ্যতে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে। অন্যভাবে, সম্পত্তি হল কোন সংঘটিত লেনদেনের ফলে সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত স্বত্বা যা হতে ভবিষ্যতে সুবিধা পাওয়া যাবে।

 

২। দায়ঃ ব্যবসায়ের নিকট যে সকল পক্ষ বা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান টাকা পাবে তাদেরকে পাওনাদার বলে। ব্যবসায়ের উপর ঐ সকল পক্ষের দাবিকেই দায় বলে। এই দায় বিভিন্নভাবে সৃষ্টি হতে পারে… যেমন- পণ্য ধারে বা বাকীতে ক্রয় করে, কোন ব্যক্তির নিকট হতে টাকা ধার নিয়ে, কারো কাছ হতে অগ্রিম নিয়ে বা সুবিধা গ্রহণ করে ইত্যাদি।

 

৩। মূলধনঃ মালিক দ্বারা ব্যবসায়ে প্রদত্ত যে কোন আর্থিক সুবিধাকে মালিকের মূলধন বলে। এটা বিভিন্নভাবে প্রদত্ত হতে পারে। যেমন- নগদ টাকা, সম্পত্তি, পণ্যদ্রব্য প্রদানের মাধ্যমে। তাছাড়াও ব্যবসায়ের কোন খরচ বা দায় পরিশোধ করে মালিক ব্যবসায়ে আর্থিক সুবিধা দিতে পারে। সুতরাং, ব্যবসায়ের উপর মালিক পক্ষের দাবিকে মূলধন বলে।

 

যে সকল উপাদান মূলধনকে প্রভাবিত করেঃ

আয়ঃ পণ্য বিক্রয় বা সেবা প্রদানের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান যে অর্থ উপার্জন করে তাকে আয় বলে। এই আয়ের দ্বারা মূলধন প্রভাবিত হয়। আয় বাড়লে মূলধন বাড়ে আবার আয় কমলে মূলধন কমে।

 

খরচঃ কোন পণ্য বা সেবা গ্রহণের বিনিময়ে যে অর্থ প্রদত্ত বা প্রদেয় হয়েছে তাই খরচ। অন্যভাবে বলা যায়, আয় অর্জনের জন্য সম্পত্তি বা সেবার ব্যাবহারকে খরচ বলে। এই খরচ দ্বারাও মূলধন প্রভাবিত হয়। খরচ বাড়লে মূলধন কমে, আবার খরচ কমলে মূলধন বাড়ে।

 

উত্তোলনঃ মালিক দ্বারা ব্যবসায় হতে কোন পণ্য, টাকা, সম্পত্তি বা সেবা অর্থাৎ কোন প্রকার সুবিধা গ্রহণ করলে তাকে উত্তোলন বলে। এ উত্তোলনের কারনেও মালিকের মূলধন প্রভাবিত হয়। উত্তোলন বাড়লে মূলধন কমে আবার উত্তোলন কমলে মূলধন বাড়ে।

 

সুতরাং, আয়, খরচ ও উত্তোলন ইত্যাদি কারনে মূলধন হ্রাস বা বৃদ্ধি পেতে পারে।

পোষ্টটি লিখেছেন: সালাউদ্দিন ব্যাপারী

এই ব্লগে 28 টি পোষ্ট লিখেছেন .

সালাউদ্দিন ব্যাপারী পেশায় একজন এডুক্যাশনাল ব্লগার এবং শিক্ষক। তিনি হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে বিবিএ এবং এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। লিখতে ভালোবাসেন। শিক্ষামূলক বিষয় ভালোমানের লেখা দিয়ে ফুটিয়ে তোলাই তার শখ এবং লক্ষ্য।

2 comments

  1. ধন্যবাদ স্যার।
    হিসাব সমীকরণের খুব সুন্দর একটি ব্যাখ্যা পেলাম।

    • আপনাকেও ধন্যবাদ
      হিসাববিজ্ঞানের উপর আরও অনেক লিখা শিগ্রই আসছে।
      সাথেই থাকুন। 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *