যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয় তথ্য

usaবিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশগুলোর অন্যতম একটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকৎসা, সমরাস্ত্র, প্রযুক্তিসহ সব দিকেই দেশটি সবার শীর্ষে। বিশেষ করে যুগোপযোগী আধুনিক ও গুণগত উচ্চশিক্ষার জন্য দেশটির বিকল্প নেই। সেখানে উচ্চশিক্ষার জন্য আছে বিশ্বসেরা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়।

চীনের সাংহাইয়ে অবস্থিত বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়বিষয়ক একটি কেন্দ্র কর্তৃক ‘দ্য একাডেমিক র‌্যাঙ্কিং অব ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিস [এআরডাব্লিউইউ] ২০১৪’ গত ১৫ আগস্ট প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বের সেরা পাঁচশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিং নির্ণয়কারী এই কেন্দ্রটি সাংহাইয়ের জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত। ২০০৩ সাল থেকে সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড-ক্লাস ইউনিভার্সিটিস নামে এ কেন্দ্রটি প্রতি বছর বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা প্রকাশ করে আসছে। প্রতিবারের মতো এবারও তালিকার শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। গত ১২ বছর হার্ভার্ড শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া তালিকায় শীর্ষ বিশের মধ্যে ১৬টিই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত। এর মধ্যে আছে স্টানফোর্ড, এমআইটি, প্রিন্সটন, ক্যালিফোর্নিয়া টেক, কলাম্বিয়া, শিকাগো।

স্বচ্ছ পদ্ধতি ও বিশ্বস্ত তথ্য-উপাত্তের উপর ভিত্তিতে তৈরি বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ তালিকায় বরাবরই একাডেমিক পারফরম্যান্স ও গবেষণা কর্মের কারণে শীর্ষস্থান দখল করে নেয় যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তাই সাংহাই কেন্দ্রটির বিষয়ভিত্তিক বিশ্বের সেরা ২০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায়ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শীর্ষে রয়েছে।

মূলত তালিকায় শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে ৫০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে আলোর নিচে যেমন অন্ধকার থাকে তেমনি দেশটির কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ততটা সন্তোষজনক নয়। ফলে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দের ক্ষেত্রে তাদের র‌্যাঙ্কিং, সুনাম ইত্যাদি ভালোভাবে জানতে হবে। তবে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকটি। এদের সংখ্যা বাদ দিলে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে আপসহীন। এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সনদ তথা ডিগ্রি সারা বিশ্বে গ্রহণযোগ্য। ফলে সারা বিশ্ব থেকেই মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশটিতে পড়াশোনা করতে আসে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও ব্যতিক্রম নয়। নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে নাইন ইলেভেন হামলার পর দীর্ঘ দিন যুক্তরাষ্ট্রের ছাত্র ভিসা খুবই সীমিত ছিল। বর্তমানে নতুন করে দেশটির উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে।

যেসব শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চাচ্ছে তাদের কয়েকটি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে নিতে হবে।

এগুলো হলো- ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ স্বরূপ আইইএলটিএস ও টোফেল পরীক্ষা দিতে হবে। তবে যারা বুয়েট ও দেশের অন্যান্য নামিদামি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছে কিংবা ও/এ লেভেল করেছে তাদের জন্য ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ দেখানো ততটা জরুরি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্ডার-গ্র্যাজুয়েট স্তরে ভর্তির জন্য এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে নূ্যনতম জিপিএ-৭.৫ এবং ইংরেজিতে কমপক্ষে ‘এ মাইনাস’ থাকতে হবে। তৃতীয় প্রস্তুতি হিসেবে স্পন্সরের প্রয়োজনীয় আর্থিক সামর্থ্য থাকতে হয়। এক্ষেত্রে বাবা-মা অগ্রগন্য। তৃতীয় কেউ স্পন্সর হলে (কাজিন, চাচা, মামা…….) সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে ১০ হাজার ইউএস ডলারের সমপরিমাণ টাকা [প্রায় ৮ লাখ] থাকতে হবে। এছাড়া স্পন্সরের আয় সম্পর্কিত বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে হবে।

পঞ্চমত শিক্ষার্থীদের ওই সব বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করতে হবে যেগুলো ওয়ার্ল্ড র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ৬০০-এর মধ্যে রয়েছে এবং যাদের বার্ষিক টিউশন ফি ৮ থেকে ১২ হাজার ডলারের মধ্যে।

বিজ্ঞান ও ব্যবসায় অনুষদে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন করার জন্য জিম্যাট বা জিআরই স্কোর থাকতে হয়। অন্যথায় দেশটিতে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন করা কঠিন। শিক্ষার্থীরা যে সেমিস্টারে পড়তে ইচ্ছুক সে সেমিস্টার শুরুর অন্তত চার মাস আগে ও -২০, I -20, SEVIS fee confirmation সংগ্রহ করতে হবে। কারণ ভিসার জন্য আবেদন করার সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিন পরে সাক্ষাৎকারের তারিখ মিলে। সবশেষে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো ‘ভিসা ইন্টারভিউ’র জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ প্রস্তুতি থাকতে হবে। প্রস্তুতি বলতে বোঝানো হচ্ছে ভর্তি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও এটি যে রাজ্যে অবস্থিত সে সম্পর্কে এবং প্রস্তাবিত কোর্সের বিষয় সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা থাকা আবশ্যক। বিশেষ করে শিক্ষার্থী যে কোর্সে ভর্তি হয়েছে তা কর্মজীবনে কিভাবে সুফল বয়ে আনবে সে সম্পর্কে ধারণা থাকাও অত্যাবশ্যক। একই সঙ্গে স্পন্সর বিশেষ করে তার আয়ের উৎস সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে।

বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে দেশের উচ্চশিক্ষাবিষয়ক কনসালটেন্সি ফার্মগুলো বড় ভূমিকা রাখছে। কারণ বিদেশে পড়াশোনা এবং ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে অনেক বিষয় থাকে যেগুলো সম্পর্কে অনেক শিক্ষার্থীরই জ্ঞান নেই। ফলে এসব ক্ষেত্রে অজ্ঞতা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়। তাই কিছু কিছু বিষয়ে ফার্মগুলোর সহায়তা জরুরি। তবে এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। বিদেশে ছাত্র ভিসা প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত ফার্ম বেছে নিতে হবে। এক্ষেত্রে দেশে অনেক ফার্মই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকার ধানমন্ডিস্থ এনসিসি এমনই একটি প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়া হয়। বিস্তারিত ০১৫৫২-৬৩১৫২৬। মোটকথা, ফার্ম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।

সম্প্রতি প্রকাশিত চীনের সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড-ক্লাস ইউনিভার্সিটির তালিকায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ হতে পারে। উল্লেখ্য, ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে মার্কিন দূতাবাস যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোকে বেশি প্রাধান্য দেয় যাদের বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংস ভালো। কারণ এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত ডিগ্রি একজন শিক্ষার্থীকে পৌঁছে দিতে পারে সাফল্যের শীর্ষে।

ভিজিট করতে পারেন www.nccbd-edu.com.

মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাঙ্কিং সম্পর্কে জানতে ভিজিট http://ShanghaiRanking.com.

পোষ্টটি লিখেছেন: বি.এম. মুন্না

এই ব্লগে 60 টি পোষ্ট লিখেছেন .

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *