শিশুদের ভবিষ্যৎ কোন দিকে???

আজকের শিশুরাই আগামী দিনের সুনালী প্রজন্ম। এই শিশুরাই একদিন জাতির উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আলো দিবে। কিন্তু এই শিশুদেরকে বেড়ে ওঠার সঠিক পরিবেশ কি আমরা দিচ্ছি? একটি শিশু বড় হয়ে কি হবে? শিক্ষিত না, ডাকাত না,সন্ত্রাসি না, দাগী খুনি? তা নির্ভর করে শিশু কোন পরিবেশে সে বেড়ে ওঠছে। কারণ পরিবেশ হচ্ছে শিশু-কিশোরদের প্রথম শিক্ষক। বর্তমানে সবাই সচেতন সবাই তাদের শিশুদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি কড়া দৃষ্টি ভয়ংকর দৃষ্টি তারপরও কেন আমার এই মারাত্মক অরুচি সম্পুর্ণ কথা!! কারণ আমি আশাবাদী যে, এই বর্তমান শিশুরাই বেশ আধুনিক হবে।বেশ পন্ডিত হবে অনেক কিছু জানবে তারা। জানবেই না কেন? বয়সের চেয়ে বড় মোবাইল ফোন, কথা বলার চেয়ে অধিক মেগাবাইট খরচ বহনে তারা সক্ষম। এই শিশু পন্ডিত মশাই হবে না তো কে হবে? যে শিশু বাবা-মার বকা,দুষ্টুমীর জন্য পাশের বাড়ীর চাচীর বিচার শুনতে হয় না বাবা-মাকে । কারণ তারা সময়ই পায় না দুষ্টুমী করার। সারাক্ষন ষ্কুল,কোচিং তারপর ইন্টারনেট সবমিলিয়ে শিশুর মেধা বিকাশের সময়টুকু পায় না। খুব ভোরে সূয্যি মামা উঠার আগে শিশু জাগবে,বিকেল হলে খেলতে যাবে-এই রকম পরিবেশ বোধহয় আর ফিরে আসবে কি না? সন্দেহ। তাই তো আজকের শিশুর সঠিক মেধা বিকাশ হচ্ছে না। তাদের মুখে নেই মায়াকারা হাসি, ভদ্রসূলভ কথা। মানুষের সাথে, পরিবেশের সাথে খাপ খাইতে তারা ব্যর্থ। কোনটি সঠিক কোনটি ভুল তারা পরিমাপ করতে পারে না। তাই আমাদের সঠিক পরিবেশ তাদেরকে সৃষ্টি করে দিতে হবে-যেই পরিবেশে কোচিং দূষন থাকবে না। এই কোচিং দূষন আজ প্রতিটি শিশুর খেলার সময়,বিনোদনের সময়কে টেনেহেচড়ে নিয়ে গেছে। অবুঝ শিশু আজ এই পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই কোন শিশুই বিনোদন ব্যতীত থাকতে পারে না –তার অবুঝ মন খেলতে চায়,বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে চায়।কিন্তু সেই বিনোদনের অধিকার কি আমরা তাদের কে দিচ্ছি? খেলার বাহানা করলে,বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার কথা বললে মা-বাবা যে ঘাড়ে ধরে শিশুকে কম্পিউটারে গেইম অপেন করে দেন। কারন একটাই, বন্ধুদের সাথে মিশা ঠিক নয় বাইরে খেলা ভাল নায়, পড়া-লেখায় যে মারাত্মক ক্ষতি হবে। তাই আজকের শিশু অরুণরাঙা প্রভাব চেনে না, দেখেনা আবিররাঙা সন্ধাকাশ। রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিন, নক্ষত্রখচিত নভোমন্ডল বিস্ময়কর চন্দ্রকলা। কিন্তু বাবা-মা কি একটিবার চিন্তা করেছেন শিশুর হাতে কি ধরিয়ে দিয়েছেন? আমি মনে করি তার হাতে মউস ধরিয়ে দেন নি দিয়েছেন “রিমোট” কম্পিউটারের সামনে বসিয়ে দেন নি দিয়েছেন জ্বনন্ত এটম বোমার সামনে। কারন এই শিশুই একদিন আস্তে আস্তে কম্পিউটার গেইমের প্রতি আসক্ত হয়ে যাবে। গুলা-গুলি আর পিস্তল নিযে ধ্বংসযক্ষের গেইম খেলে শিশুটি মারাত্মক এক বিকৃত মন-মানসিকতা তৈরি হবে। এই শিশু কিশোররা এখন আর পিস্তললের গুলা-গুলি ভয় পায় না। তাদের মন-মগজে গুলা-গুলির শব্দ মোবাইল ফোনের রিংটনের মত হয়ে গেছে। তাই শিশু-কিশোরদেরে কম্পিউটার গেইম নয় বাস্তব গেইম খেলার সুযোগ দিতে হবে এমন কি ধাক্কা দিয়ে খেলার মাঠে পাঠিয়ে দিতে হবে। এই খেলার মাঠের শিশুটি একদিন হয় ক্রিকেটার মুশফিক হবে না হয় ড.ইউনূস মত হবে।‍ আমরা তো চাই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এমন বিশ্ব বিখ্যাত মানুষের কাতারে তাকবে।

Mujakkir

বতর্মান সময়ে পত্র-পত্রিকা একটি গুরুত্বর্ণ বিষয়। দেশ-বিদেশের খবরা খবর জানতে আমরা পত্র-পত্রিকার উপর নিভর করি। পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে কতইনা নান্দনিক খবর আমরা পড়ি তার হিসেব নেই। স্কুল জীবনে কত বার যে“নিউজ পেপার”কম্পজিশন শিখেছি তার হিসেব আছে? মুখস্ত করেছি

Newspaper reading is a good habit….

Newspaper is a wonder of modern science..

আর কত কি। এই কথাগুলো সবাই অকাট্য ভাবে বিশ্বাষ করে এবং জানে। কিন্তু আমি আজ একটু ভিন্ন পথে হেটে যাব। পত্র-পত্রিকা শুধু যে বড়দের জন্য তা কিন্তু নয় এই পত্র-পত্রিকা এখন বতর্মান সময়ে তরুণ-তরুণীদের কাছে জনপ্রিয় একটি বিষয়।তারা নিয়মিত পত্র-পত্রিকা পড়ে না পড়লেও পত্রিকার প্রতিটি পৃষ্টা তারা দশন করে। পাবলিক লাইব্রেরি সব সময় তারা ওয়র্কিং করে।এ তো ভাল একটি অভ্যাস। কিন্তু সমস্যা টি হলো অন্য জায়গায়।পত্র-পত্রিকার প্রথম-ওশেষ পৃষ্ঠা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর দেয়া হয। কিন্তু প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠা কি দেয়া হয়? “গ্রেফতার, হত্যা, টার্গেট কিলিং, বোমা হামলা, নারী নির্যাতন, ঈদের জামাতে গুলা-গুলিক, স্বামীর হাতে স্ত্রী নির্যাতিত, সড়ক দুর্ঘটনা একই পরিবারে সাত জন নিহত, চোর সন্দেহে যুবককে গাছের সাথে বেধেঁ পিটিয়ে হত্যা, শিশু নির্যাতন,প্রকাশ্য শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা,“ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ২০ জনকে জবাই করে হত্যা”এই মারাত্মক আর ভয়ংকর সংবাদের সাথে ভয়ংকর ছবি দেয়া হয়।কয়েক বছর আগে আমি দেখেছি পত্র-পত্রিকা ও টেলিভিশনে যখন হত্যা কিংবা দূঘটনার নিহত ব্যক্তির লাশ দেখানোর সময় স্পষ্ট ছবি দেখানো হত না, কিন্তু এ্‌খন স্পষ্ট ছবি প্রায় সময় পত্র-পত্রিকায় দেখানো হয় এমনকি টিভি চ্যানেলও।জানি না এরকম স্পষ্ট ছবি দেখানোর কোন নিয়ম আছে কি না?? তবে এই রকম মারাত্মক খবর ও ছবি দেখানোর ফলে কি হচ্ছে জানেন? শিশু-কিশোররা এখন এসব খবর দেখে আতকে উঠেনা,চমকে উঠেনা এসব যেন নানার বাড়ির খবর।

আমি আমার এক ছাত্রকে একটি পত্রিকায় ক্রসফায়ারে নিহত এক ব্যক্তির ছবি দেখিয়ে বললাম“তুমি কি ভয় পেয়েছ?”সে হাসলো আর বলল-কি বলেন স্যার এটা কি ভয় পাবার ছবি? এরকম ছবি আমি প্রতিদিন পত্রিকায় দেখি। আমি মনে মনে ভাবলাম। সে এখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ছে অথচ এই মারাত্মক ছবি দেখে সে ভয় পায়নি। যে কিশোর-কিশোরীরা এরকম খবর দেখে ভয় পায় না তারা মনে করে এসব নিত্য দিনের একটি ঘটনা। অথচ তারা আমাদের পরবর্তী  প্রজন্ম। যে প্রজন্ম হত্যা, কিংবা মারাত্মক ছবি দেখে ভয় পায় না তারা কি করে হত্যকারীর বিচার করবে? এসব তাদের কাছে নিত্য দিনের একটি ঘটনা।আগে সামান্য হাত কাটলে রক্ত দেখে ভয় পেতাম আজ জবাই করা মানুষের ছবি দেখে ভয় পাইনা। তাই আমি মনে করি প্রতিটি পত্র-পত্রিকা, যে সময এসব ছবি বা খবর প্রকাশ করবে তা যেন ২য় পৃষ্টায় দেয়া হয়। আর প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠায় এমন খবর প্রকাশ করতে হবে যাতে শিশু-কিশোররা কিছু শিখতে পারে। তারা যেন মনে করে পত্রিকা পড়া উচিত। শিক্ষা সম্পর্কিত যেন প্রথমও শেষ পৃষ্ঠায় দেয়া হয়। আর যত মারাত্মক খবর সবগুলো ভিতরের পাতায় দেয়া উচিত। এতে আমাদের আর একটি লাভ হবে তা হলো-শিশু-কিশোররা পত্রিকা না পড়লেও প্রথম পৃষ্ঠায় শিক্ষা সম্পর্কিত লেখা দেখে কিছু হলেও শিখতে পারবে। যাতে আমাদের দেখতে না হয় শুধু আমাদের দেশের সন্তানরা জঙ্গির কাতারে। রাতভর ২০ জনকে জবাই করা তাদের কাছে কিছু নয়। তারা বাঙ্গালি হয়েও কি করে মানুষ জবাই করা শিখল? ভাবতেই অবাক লাগে।

সারা বিশ্বের একটি জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল সি এন এন সারা বিশ্বকে দেখিয়ে ছিল কিভাবে “কূটনৈতিক পাড়ায় যেখানে সব সময় নিরাপত্তার চাদরেঢাকা থাকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি” রেস্তোরায় এক রাতে ২০ জন কে জবাই করে হত্যা করেছে। হত্যাকারী কারা? হউক জঙ্গি বা অন্য কিছু কিন্তু তারা তো বাঙ্গালি।আমরা বুক চাপড়িয়ে আর বলতে পারব কি না সন্দেহ “আমরা বাঙ্গালি, আমরা গর্বিত এক জাতি”। যে ২০জনকে হত্যা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে ১৭ জনই ছিল বিদেশী। তিনজন বাঙ্গালি তথা বাংলাদেশী। ৯ জন ছিল ইতালী ও সাতজন জাপানি। তারা এসেছিল আমাদের দেশের সাথে ব্যবসা করবে। আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে অথচ আমাদের এই সোনার বাঙ্গালি সন্তানরা তাদের কি করল? আর চাই না এসব হত্যাকান্ডের পুনরাবৃত্তি। আবার আমরা ফিরে যেতে চাই সেই জায়গায যে সময়ে সামান্য হাত কাটার রক্ত দেথে জাতি ভয়ে কেঁপে উঠবে। অজ্ঞান হয়ে মাঠিতে লুটে পরবে ।

পোষ্টটি লিখেছেন: মুজাক্কির হোসাইন সিদ্দিকী

মুজাক্কির হোসাইন সিদ্দিকী এই ব্লগে 9 টি পোষ্ট লিখেছেন .

তিনি বর্তমানে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিভাগে মাষ্টার্স করছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *