বেসকারি শিক্ষকদের আর কত হয়রানি?

Mujakkirশিক্ষা ব্যতিত একটি জাতি, একটি রাষ্ট্র কখনও চলতে পারে না। শিক্ষা বিতরণের কেন্দ্রস্থল হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো । প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের সরকারে গভীর দৃষ্টি থাকে। কারণ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোই প্রতিটি প্রজন্মের শিক্ষক। শিক্ষা খাতের বিশাল একটি জায়গা দখল করে আছে সরকারি বেসকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো। এই প্রতিষ্ঠান গুলোর পেছনে জনগনের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের টাকা দিয়ে চলে প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কার্যক্রম। কারন সরকার প্রতিটি জনগনের কাছ থেকে ট্যাক্স নিয়ে তা প্রতিটি খাতে বন্টন করে এবং একটি অংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করে সরকার। যাই হোক শিক্ষা খাতে আমাদের অর্থনীতির ভাষায় অনুৎপাদনশীল একটি খাত। যাতে অধিক ব্যয় বৃদ্ধি করেও উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায় না তবে শিক্ষিত মানুষ বৃদ্ধি করা যায়। সভ্য একটি জাতি উৎপাদন করা যায়। এই শিক্ষিত জাতি একটি শিক্ষিত সমাজ তথা শিক্ষিত রাষ্ট্র তৈরি করে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিও সরকারের নিয়ন্ত্রনাধীন তবে সরকারের কাছ থেকে যে সুযোগ সুবিধা পায় তা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুযোগ সুবিধার চাইতে নগন্য? কতটা নগন্য? কতটুকু অবহেলিত? তা কি পরিমাণ কিংবা অনুমান করার ক্ষমতা আমাদের মত সাধারণ জনগণের নেই? আমাদের ভাই-বোন কি বেসকারি কলেজে পড়ে না? তাহলে এই প্রতিষ্ঠান এত অবহেলিত কেন? আসি আসল কথায়, কেন আমার এত ক্ষোভ আর জ্বালা। “সৃষ্ট পদ ও শূণ্য পদ” দুটিই পদ দুটির মধ্যে একটি মিল রয়েছে তা হলো দুই পদের শিক্ষক প্রভাষক। বেসরকারি কলেজের প্রভাষক হতে হলেও নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নির্দিষ্ট বিধি মোতাবেক বিভিন্ন কলেজে নিয়োগ হয়। এখন আসি সৃষ্টপদ কি? আর শূণ্য পদটাইবা কি? আমি সংক্ষেপে বলি, কলেজে যখন নতুন একটি পদের সৃষ্টি হয় তাকে সৃষ্ট পদ এবং যেই পদে আগে কোন শিক্ষক ছিলেন কিন্তু এই পদ শূণ্য হওয়াতে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হলে সেই পদকে শূণ্য পদ বলে। শূণ্য পদে কোন সম্মানিত জাতি গঠনের কারিগর শিক্ষকের নিয়োগ হলে কয়েক মাস কিংবা বছর খানিক সময় লাগে বেতন পেতে যাকে আবার এমপিও বলা হয় থাকে। আর যদি কোন সৃষ্টপদে কারও নিয়োগ হয় তবে এমপিও বা বেতন পেতে কতদিন লাগবে তার কোন হিসেব আমার জানা নেই।

নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিয়োগ পাওয়ার পরও সারা দেশের বেসরকারি কালেজের তিন শতাধিক বেতন এমপিও হচ্ছে না। কেন এই প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষকের নিয়োগ দিয়ে এত হয়রানি করা হচ্ছে? তারা কি শিক্ষকের সম্মানি পাওয়ার যোগ্য নয়? বিধি মোতাবেক যে ভাবে নিয়োগ হয়েছে বিধি মোতাবেক বেতন এমপিও সেভাবে দেওয়াটা যৌত্তিক। ৭ মে ২০১৬ শনিবার বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রত্রিকার কিছু তথ্য নিম্নে দেওয়া হলোঃ

শিক্ষা মন্ত্রনালয় ২০১১ সালের ১৩ নভেম্বর একটি পরিপত্র জারি করে। পরিপত্রে বলা হয়, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত বিভাগ/শ্রেনী শাখা খোলার ক্ষেত্রে নিযুক্ত বেতন ভাতা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বহন করবে। সরকার এটি বহন করবে না। ২০১৩ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরকার জানায়, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা অথবা উৎপাদন ব্যবস্থপনা ও বিপনন আবশ্যিক হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। এরপর ২০১৩ সালের ১১ ডিসেম্বর আরেক পরিপত্রের মাধ্যমে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্টানে কয়েকটি বিষয় সংযোজন, বিয়োজন ও বিষয়ের নাম পরিবর্তনের ফলে এমপিও শর্তাবলি পরিমার্জন করা হয়। পরিপত্রের মাধমে ১১টি বিষয়ের নাম পরিমার্জন করা হয়। অর্থায়ন ও উৎপাদন এবং বিপননকে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপনন, ফিন্যান্স ব্যাকিং ও বিমাকে ফিন্যান্স অথবা ব্যাকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স, উপৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপনন মার্কেটিং, অথবা ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অথবা ম্যানেজমেন্ট নামে অবহিত করা হয়। পরিপত্রে আরও বলা হয়, বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের এমপিও প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না। গত বছর ১ জানুয়ারি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সরাসরি ও এমপিভূক্ত বিভিন্ন কলেজে এসব বিষয় অনুমোদন দেয়। বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকের স্বাক্ষরিত বার্তায় জানানো হয়, ছয় মাসের মধ্যে কলেজগুলোতে নিবন্ধন সনদকারী শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। এমন পরিপত্রের পর এমপিভূক্ত বিভিন্ন উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে এসব বিষয়ে তিন শতাধিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়।

কিন্তু এই পদের শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার পরও তাদের এমপিও হচ্ছে না । শর্তে পর শর্ত আরোপ করে আজ এই সম্মানিত জাতি গঠনের কারিগরদের তেঁতলিয়ে দিচ্ছে। এমপিও না হওয়ায় বেতন না পেযে আজ এই শিক্ষকদের র্দুদশার শেষ নেই। তাদের পরিবার তাদের স্বপ্ন আজ অন্ধকারাচ্ছন্ন। না পারছেন চাকরি ছাড়তে না পারছেন চাকরি করতে। অনেকের অন্য চাকরিতে আবদেন করার বয়স শেষ হওয়ার পথে। আমি সরকারের কাছে আবেদন করি তাদের এমপিও পাওয়ার যত বাঁধা রয়েছে সবগুলো বাঁধা শেষ করে তাদের হাতে বেতন তুলে দেন। তাদের আর হয়রানি চাকার নিচে পিস্ঠ করবে না। মো: খুরশীদ আলম, জগৎসী গোপালকৃষ্ণ এম.সাইফুর রহমান কলেজ, মৌলভীবাজার উৎপাদন ব্যবস্থপনা ও বিপণন পদের প্রভাষক তার সাথে আমার পরিচয় রয়েছে। তিনি ও এই সমস্যায় জর্জরিত। তার মুখে নেই হাসি। আছে এক বুক জ্বালা। পরিবার ও নিজের খরচ বহন করতে আজ তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। আমি তাকে বার বার সান্তনা দিচ্ছি একদিন এমপিও হবে চিন্তা করবেন না। আর কতদিন এইভাবে সান্তনা দিব? একবার তাদের সাথে যোগাযোগ করে দেখেন তাদের মানসিক কি অবস্থা? এই শিক্ষকরাই সাধারণ জনগণের মত আপনাদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে, পরিয়েছে বিজয়ের মালা। তাদের এই বিপদে তাদের কেও বিজয়ের মালা পড়িয়ে প্রমাণ করে দেন-

এই দেশের সরকার এখনও শিক্ষকদের পাশে আছে

শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

এই জাতি শিক্ষকদের একটি ফুলের টুকাও স্পর্স করতে দিবে না। শিক্ষকরাই জাতি গঠনের এক মহান শিক্ষক । শিক্ষক জাতির দু:খ দুর্দশার সমস্ত জাতির দু:খ দুর্দশার কারণ।

পোষ্টটি লিখেছেন: মুজাক্কির হোসাইন সিদ্দিকী

মুজাক্কির হোসাইন সিদ্দিকী এই ব্লগে 9 টি পোষ্ট লিখেছেন .

তিনি বর্তমানে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিভাগে মাষ্টার্স করছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *