পবিত্র মাহে রমজান মাস ১৪৪০ এর সাহরী ও ইফতারের সময়সূচি ২০১৯

সাহরী (সেহরি) ও ইফতারের সময়সূচি ২০১৯ঃ পবিত্র রমযান হল ইসলামিক বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে নবম মাস। এটি সংযমের মাস। এই মাসে বিশ্বব্যাপী মুসলিমগণ সাওম পালন করে থাকেন। রমজান মাসে সাওম বা রোজা পালন ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়তম। রমজান মাসের শেষদিকে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে মুসলমানগণ ঈদুল-ফিতর পালন করে থাকেন।

আপনাদের সুবিধার্থে লেখাপড়া বিডি’তে  বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার জন্য সাহরী ও ইফতারের সময়সূচী (হিজরী ১৪৪০, ইংরেজি ২০১৯) তুলে ধরা হল। প্রদত্ত প্রথম ছকে সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী শুধুমাত্র ঢাকা জেলার জন্য প্রযোজ্য। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার সাথে ঢাকা জেলার সময়ের কিছুটা পার্থক্য আছে। ঢাকার সময়ের সাথে কিছু সময় যোগ বা বিয়োগ করে অন্যান্য কতিপয় জেলার সেহরী ও ইফতারের সময়সূচী পাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে, ঢাকার সময়ের সাথে কত মিনিট যোগ বা বিয়োগ করলে অন্য জেলার সেহরি ও ইফতারের সময় পাওয়া যাবে তা জানতে এই পোস্টের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছক দেখুন।

ঢাকা জেলার পবিত্র মাহে রমজান ১৪৪০ সাহরী ও ইফতারের সময়সূচি ২০১৯

হিজরি ১৪৪০ রমজানমে/জুন
২০১৯ ইং
বারসাহরির শেষ সময়ইফতারের সময়
০১ ০৭ মেমঙ্গল৩-৫২৬-৩৪
০২   ০৮ মেবুধ৩-৫১৬-৩৪
০৩০৯ মেবৃহস্পতি৩-৫০৬-৩৫
০৪১০ মেশুক্র৩-৫০৬-৩৫
০৫১১ মেশনি৩-৪৯৬-৩৬
০৬১২ মেরবি৩-৪৯৬-৩৬
০৭১৩ মেসোম৩-৪৮৬-৩৬
০৮১৪ মেমঙ্গল৩-৪৮৬-৩৭
০৯১৫ মেবুধ৩-৪৭৬-৩৭
১০১৬ মেবৃহস্পতি৩-৪৭৬-৩৮
     
১১১৭ মেশুক্র৩-৪৬৬-৩৮
১২১৮ মেশনি
৩-৪৬৬-৩৯
১৩১৯ মেরবি৩-৪৫৬-৩৯
১৪২০ মেসোম৩-৪৪৬-৪০
১৫২১ মেমঙ্গল৩-৪৪৬-৪০
১৬২২ মেবুধ৩-৪৩৬-৪১
১৭২৩ মেবৃহস্পতি৩-৪৩৬-৪২
১৮২৪ মেশুক্র৩-৪২৬-৪২
১৯২৫ মেশনি
৩-৪২৬-৪২
২০২৬ মেরবি
৩-৪১৬-৪৩
     
২১২৭ মেসোম৩-৪১৬-৪৩
২২২৮ মেমঙ্গল৩-৪০৬-৪৪
২৩২৯ মেবুধ
৩-৪০৬-৪৪
২৪৩০ মেবৃহস্পতি৩-৪০৬-৪৫
২৫৩১ মেশুক্র৩-৩৯৬-৪৫
২৬০১ জুনশনি
৩-৩৯৬-৪৬
২৭০২ জুনরবি৩-৩৯৬-৪৬
২৮০৩ জুনসোম৩-৩৯৬-৪৬
২৯০৪ জুনমঙ্গল
৩-৩৯৬-৪৭
৩০০৫ জুনবুধ৩-৩৯৬-৪৭

ঢাকার সাথে বিভিন্ন জেলার সাহরী ও ইফতারের সময়ের পার্থক্য

ঢাকার সময়ের সাথে একই হবে

সাহরী: নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার। 

ইফতার: গাজীপুর, নেত্রকোনা, বাগেরহাট।

সাহরী ও ইফতারঃ

ঢাকার সময়ের সঙ্গে যোগ (+) করতে হবে

জেলাসাহরীজেলাইফতার
মানিকগঞ্জ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পঞ্চগড়, নীলফামারী১ মিনিটমানিকগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ১ মিনিট
শরীয়তপুর, ভোলা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল২ মিনিটটাঙ্গাইল, নড়াইল২ মিনিট
নওগাঁ, ঝালকাঠি৩ মিনিটশেরপুর, জামালপুর, যশোর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ৩ মিনিট
নাটোর, পাবনা, রাজবাড়ী, মাগুরা, পটুয়াখালী, গোপালগঞ্জ৪ মিনিটরাজবাড়ী, ঝিনাইদহ৪ মিনিট
কুষ্টিয়া, রাজশাহী, পিরোজপুর, বরগুনা, নড়াইল, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ৫ মিনিটকুষ্টিয়া, পাবনা, গাইবান্ধা, বগুড়া, চুয়াডাঙ্গা৫ মিনিট
চাপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, খুলনা৬ মিনিটনাটোর, কুড়িগ্রাম৬ মিনিট
 মেহেরপুর৭ মিনিটমেহেরপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, জয়পুরহাঁট, রংপুর, লালমনিরহাট৭ মিনিট
সাতক্ষীরা৮ মিনিট ৮ মিনিট
৯ মিনিট নীলফামারী, দিনাজপুর, চাপাইনবাবগঞ্জ৯ মিনিট
 –১০ ১০ মিনিট
 – ১১ মিনিটপঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও১১ মিনিট
 –  ১২ মিনিট

ঢাকার সময় থেকে কমাতে (-) হবে

জেলাসাহরীজেলাইফতার
গাজীপুর, জামালপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, নোয়াখালী১ মিনিটশরীয়তপুর, মাদারীপুর, পিরোজপুর, কিশোরগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, খুলনা, ঝালকাঠি, নারায়ণগঞ্জ১ মিনিট
শেরপুর, কুমিল্লা, ফেনী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, চট্টগ্রাম, নরসিংদী২ মিনিটবরিশাল, পটুয়াখালী, নরসিংদী, বরগুনা, সুনামগঞ্জ২ মিনিট
ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ৩ মিনিটবি.বাড়িয়া, চাঁদপুর, ভোলা৩ মিনিট
নেত্রকোনা, বি.বাড়িয়া, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন৪ মিনিটকুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, হবিগঞ্জ৪ মিনিট
খাগড়াছড়ি৫ মিনিটনোয়াখালী, সিলেট, মৌলভীবাজার৫ মিনিট
হবিগঞ্জ৬ মিনিটফেনী৬ মিনিট
সুনামগঞ্জ৭ মিনিট৭ মিনিট
মৌলভীবাজার৮ মিনিটখাগড়াছড়ি৮ মিনিট
 সিলেট৯ মিনিটচট্টগ্রাম৯ মিনিট
  বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও কক্সবাজার১০ মিনিট

সূত্রঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

 [সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ডাউনলোড]

রোজার নিয়তঃ

نويت ان اصوم غدا من شهر رمضان المبارك فرضا لك ياالله فتقبل منى انك انت السميع العليم

উচ্চারণঃ নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আগামীকাল পবিত্র রমযান মাসে তোমার পক্ষ হতে ফরজ করা রোজা রাখার নিয়ত করলাম, অতএব তুমি আমার পক্ষ হতে কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

ইফতারের দোয়াঃ

اللهم لك صمت و على رزقك افطرت

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।

অর্থঃহে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক্ব দ্বারা ইফতার করছি।

রোজা ভঙ্গের কারণঃ
০১. ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে।
০২. স্ত্রী সহবাস করলে।
০৩. কুলি করার সময় হলকের নিচে পানি চলে গেলে (অবশ্য রোজার কথা স্মরণ না থাকলে রোজা ভাঙবে না)।
০৪. ইচ্ছকৃত মুখভরে বমি করলে।
০৫. নস্য গ্রহণ করা, নাকে বা কানে ওষুধ বা তেল প্রবেশ করালে।
০৬. জবরদস্তি করে কেউ রোজা ভাঙালে।
০৭. ইনজেকশান বা স্যালাইনের মাধ্যমে দেহে ওষুধ পৌঁছালে।
০৮. কংকর, পাথর বা ফলের বিচি গিলে ফেললে।
০৯. সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে ইফতার করার পর দেখা গেল সূর্যাস্ত হয়নি।
১০. পুরা রমজান মাস রোজার নিয়ত না করলে।
১১. দাঁত থেকে ছোলা পরিমান খাদ্যদ্রব্য গিলে ফেললে।
১২. ধূমপান করা, ইচ্ছাকৃত লোবান বা আগরবাতি জ্বালিয়ে ধোঁয়া গ্রহণ করলে।
১৩. মুখ ভর্তি বমি গিলে ফেললে।
১৪. রাত আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর পানাহার করলে।
১৫. মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে সুবহে সাদিকের পর জাগরিত হলে।

রোজার মাকরুহঃ
০১. অনাবশ্যক কোনো জিনিস চিবানো বা চাখা।
০২. কোনো দ্রব্য মুখে দিয়ে রাখা।
০৩. গড়গড়া করা বা নাকের ভেতর পানি টেনে নেয়া। কিন্তু পানি যদি নাক দিয়ে গলায় পৌঁছে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।

তারাবীহ নামাজের নিয়ত

বাংলা উচ্চারণ: (নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তা আলা রাকয়াতাই সিলাতিৎ তারাবীহী সুন্নাতু রাসূলিল্লা-হি তাআলা মুতাওয়াজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

অর্থ : আমি ক্বিলামুখী হয়ে দুই রাকাআ’ত তারাবিহ সুন্নাত নামাজ আল­াহর জন্য আদায়ের নিয়্যত করছি, আল­াহু আকবার। (যদি জামাআ’তের সহিত নামাজ হয় তবে- এই ইমামের ইমামতিতে জামাআ’তের সহিত)।

তারাবীহ নামাজের দোয়া:

বাংলা উচ্চারণ: (সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি সুবহানা জিল্ ইজ্জাতি ওয়াল আজমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারুতি সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদান সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বানা ওয়া রাব্বুল মালা-ইকাতি ওয়াররুহ।)
(প্রত্যেক চার রাকয়াত নামাযের পর এই মোনাজাত পড়িতে হইবে।)

তারাবি নামাজের মোনাজাত:

বাংলা উচ্চারণ: (আল্লা-হুম্মা ইন্না নাস আলুকাল্ জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনান্নারি ইয়া খালিকাল জান্নাতা ওয়ান্নারি বিরাহমাতিকা ইয়া আজীজু, ইয়া গাফ্ফারু, ইয়া কারীমু, ইয়া সাত্তারু, ইয়া রাহিমু ,ইয়া জাব্বারু ইয়া খালেকু, ইয়া রাররূ, আল্লাহুমা আজির না মিনান্নারি, ইয়া মূজিরু ইয়া মুজিরু, বিরাহ্মাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।)

পোষ্টটি লিখেছেন: আল মামুন মুন্না

আল মামুন মুন্না এই ব্লগে 619 টি পোষ্ট লিখেছেন .

আল মামুন মুন্না, বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমিউনিটি ব্লগ সাইট "লেখাপড়া বিডি"র প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন যশোর সরকারী এম. এম. কলেজ থেকে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিষয় নিয়ে বি.বি.এ অনার্স ও আজম খান সরকারী কমার্স কলেজ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন।

One comment

  1. labiba Afrin/Online Shopping Bangladesh

    সবার জন্য উপকারি পোস্ট ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *