পবিত্র মাহে রমজান মাস ১৪৪১ এর সাহরী ও ইফতারের সময়সূচি ২০২০

সাহরী (সেহরি) ও ইফতারের সময়সূচি ২০২০ঃ পবিত্র রমযান হল ইসলামিক বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে নবম মাস। এটি সংযমের মাস। এই মাসে বিশ্বব্যাপী মুসলিমগণ সাওম পালন করে থাকেন। রমজান মাসে সাওম বা রোজা পালন ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়তম। রমজান মাসের শেষদিকে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে মুসলমানগণ ঈদুল-ফিতর পালন করে থাকেন।

আপনাদের সুবিধার্থে লেখাপড়া বিডি’তে  বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার জন্য সাহরী ও ইফতারের সময়সূচী (হিজরী ১৪৪১, ইংরেজি ২০২০) তুলে ধরা হল। প্রদত্ত প্রথম ছকে সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী শুধুমাত্র ঢাকা জেলার জন্য প্রযোজ্য। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার সাথে ঢাকা জেলার সময়ের কিছুটা পার্থক্য আছে। ঢাকার সময়ের সাথে কিছু সময় যোগ বা বিয়োগ করে অন্যান্য কতিপয় জেলার সেহরী ও ইফতারের সময়সূচী পাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে, ঢাকার সময়ের সাথে কত মিনিট যোগ বা বিয়োগ করলে অন্য জেলার সেহরি ও ইফতারের সময় পাওয়া যাবে তা জানতে এই পোস্টের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছক দেখুন।

ঢাকা জেলার পবিত্র মাহে রমজান ১৪৪১ সাহরী ও ইফতারের সময়সূচি ২০২০

হিজরি ১৪৪১ রমজান এপ্রিল/মে
২০২০ ইং
বার সাহরির শেষ সময় ইফতারের সময়
০১ ২৫ এপ্রিল শনি ৪-০৫ মিঃ ৬-২৮ মিঃ
০২    ২৬ এপ্রিল রবি ৪-০৪ মিঃ ৬-২৯ মিঃ
০৩ ২৭ এপ্রিল সোম ৪-০৩ মিঃ ৬-২৯ মিঃ
০৪ ২৮ এপ্রিল মঙ্গল ৪-০২ মিঃ ৬-২৯ মিঃ
০৫ ২৯ এপ্রিল বুধ ৪-০১ মিঃ ৬-৩০ মিঃ
০৬ ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতি ৪-০০ মিঃ ৬-৩০ মিঃ
০৭ ১ মে শুক্র ৩-৫৯ মিঃ ৬-৩১ মিঃ
০৮ ২ মে শনি ৩-৫৮ মিঃ ৬-৩১ মিঃ
০৯ ৩ মে রবি ৩-৫৭ মিঃ ৬-৩২ মিঃ
১০ ৪ মে সোম ৩-৫৫ মিঃ ৬-৩২ মিঃ
         
১১ ৫ মে মঙ্গল ৩-৫৪ মিঃ ৬-৩৩ মিঃ
১২ ৬ মে বুধ
৩-৫৩ মিঃ ৬-৩৩ মিঃ
১৩ ৭ মে বৃহস্পতি ৩-৫২ মিঃ ৬-৩৪ মিঃ
১৪ ৮ মে শুক্র ৩-৫১ মিঃ ৬-৩৪ মিঃ
১৫ ৯ মে শনি ৩-৫০ মিঃ ৬-৩৫ মিঃ
১৬ ১০ মে রবি ৩-৫০ মিঃ ৬-৩৫ মিঃ
১৭ ১১ মে সোম ৩-৪৯ মিঃ ৬-৩৬ মিঃ
১৮ ১২ মে মঙ্গল ৩-৪৯ মিঃ ৬-৩৬ মিঃ
১৯ ১৩ মে বুধ ৩-৪৮ মিঃ ৬-৩৬ মিঃ
২০ ১৪ মে বৃহস্পতি ৩-৪৮ মিঃ ৬-৩৭ মিঃ
         
২১ ১৫ মে শুক্র ৩-৪৭ মিঃ ৬-৩৭ মিঃ
২২ ১৬ মে শনি ৩-৪৭ মিঃ ৬-৩৮ মিঃ
২৩ ১৭ মে রবি ৩-৪৬ মিঃ ৬-৩৮ মিঃ
২৪ ১৮ মে সোম ৩-৪৬ মিঃ ৬-৩৯ মিঃ
২৫ ১৯ মে মঙ্গল ৩-৪৫ মিঃ ৬-৩৯ মিঃ
২৬ ২০ মে বুধ ৩-৪৪ মিঃ ৬-৪০ মিঃ
২৭ ২১ মে বৃহস্পতি ৩-৪৪ মিঃ ৬-৪০ মিঃ
২৮ ২২ মে শুক্র ৩-৪৩ মিঃ ৬-৪১ মিঃ
২৯ ২৩ মে শনি ৩-৪৩ মিঃ ৬-৪২ মিঃ
৩০ ২৪ মে রবি ৩-৪২ মিঃ ৬-৪২ মিঃ

ঢাকার সাথে বিভিন্ন জেলার সাহরী ও ইফতারের সময়ের পার্থক্য

ঢাকার সময়ের সাথে একই হবে

সাহরী: নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, চাঁদপুর।

ইফতার: গাজীপুর, নেত্রকোনা, পিরোজপুর,মাদারীপুর।

সাহরী ও ইফতারঃ

ঢাকার সময়ের সঙ্গে যোগ (+) করতে হবে

জেলা সাহরী জেলা ইফতার
মানিকগঞ্জ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পঞ্চগড়, নীলফামারী ১ মিনিট গোপালগঞ্জ ,বাগেরহাট, ময়মনসিংহ ১ মিনিট
শরীয়তপুর, ভোলা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল ২ মিনিট মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, নড়াইল,খুলনা ২ মিনিট
নওগাঁ, ঝালকাঠি ৩ মিনিট শেরপুর, মাগুরা ৩ মিনিট
নাটোর, পাবনা, রাজবাড়ী, মাগুরা, পটুয়াখালী, গোপালগঞ্জ ৪ মিনিট সিরাজগঞ্জ,জামালপুর,রাজবাড়ী,যশোর,সাতক্ষীরা ৪ মিনিট
কুষ্টিয়া, রাজশাহী, পিরোজপুর, বরগুনা, নড়াইল, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ ৫ মিনিট কুষ্টিয়া, পাবনা, ঝিনাইদহ ৫ মিনিট
চাপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, খুলনা ৬ মিনিট চুয়াডাঙ্গা,গাইবান্ধা,বগুড়া ৬ মিনিট
 মেহেরপুর ৭ মিনিট নাটোর,মেহেরপুর,কুড়িগ্রাম,লালমনিরহাট ৭ মিনিট
সাতক্ষীরা ৮ মিনিট রাজশাহী,নওগা,রংপুর,জয়পুরহাট ৮ মিনিট
     
 –   নীলফামারী,দিনাজপুর,চাপাইনবাবগঞ্জ ১০ মিনিট
 –   পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও ১২ মিনিট
 –      

ঢাকার সময় থেকে কমাতে (-) হবে

জেলা সাহরী জেলা ইফতার
গাজীপুর, লক্ষীপুর,রংপুর,নোয়াখালী,গাইবান্ধা,কক্সবাজার ১ মিনিট শরীয়তপুর, কিশোরগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ঝালকাঠি, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ১ মিনিট
শেরপুর, জামালপুর,কুড়িগ্রাম,লালমনিরহাট,চট্রগ্রাম,নরসিংদী ২ মিনিট বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, সুনামগঞ্জ,চাঁদপুর ২ মিনিট
কুমিল্লা,ময়মনসিংহ,কিশোরগঞ্জ,ফেনী ৩ মিনিট বি.বাড়িয়া, লক্ষীপুর,ভোলা,হবিগঞ্জ ৩ মিনিট
 বি.বাড়িয়া, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন ৪ মিনিট কুমিল্লা, নোয়াখালী,সিলেট,মেীলভীবাজার ৪ মিনিট
নেত্রকোনা, খাগড়াছড়ি ৫ মিনিট ফেনী ৫ মিনিট
হবিগঞ্জ ৬ মিনিট  
সুনামগঞ্জ ৭ মিনিট
মৌলভীবাজার ৮ মিনিট খাগড়াছড়ি,চট্রগ্রাম ৮ মিনিট
 সিলেট ৯ মিনিট রাঙ্গামাটি ৯ মিনিট
    বান্দরবান,  কক্সবাজার ১০ মিনিট

সূত্রঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

 [সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ডাউনলোড]

রোজার নিয়তঃ

نويت ان اصوم غدا من شهر رمضان المبارك فرضا لك ياالله فتقبل منى انك انت السميع العليم

উচ্চারণঃ নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আগামীকাল পবিত্র রমযান মাসে তোমার পক্ষ হতে ফরজ করা রোজা রাখার নিয়ত করলাম, অতএব তুমি আমার পক্ষ হতে কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

ইফতারের দোয়াঃ

اللهم لك صمت و على رزقك افطرت

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।

অর্থঃহে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক্ব দ্বারা ইফতার করছি।

রোজা ভঙ্গের কারণঃ
০১. ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে।
০২. স্ত্রী সহবাস করলে।
০৩. কুলি করার সময় হলকের নিচে পানি চলে গেলে (অবশ্য রোজার কথা স্মরণ না থাকলে রোজা ভাঙবে না)।
০৪. ইচ্ছকৃত মুখভরে বমি করলে।
০৫. নস্য গ্রহণ করা, নাকে বা কানে ওষুধ বা তেল প্রবেশ করালে।
০৬. জবরদস্তি করে কেউ রোজা ভাঙালে।
০৭. ইনজেকশান বা স্যালাইনের মাধ্যমে দেহে ওষুধ পৌঁছালে।
০৮. কংকর, পাথর বা ফলের বিচি গিলে ফেললে।
০৯. সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে ইফতার করার পর দেখা গেল সূর্যাস্ত হয়নি।
১০. পুরা রমজান মাস রোজার নিয়ত না করলে।
১১. দাঁত থেকে ছোলা পরিমান খাদ্যদ্রব্য গিলে ফেললে।
১২. ধূমপান করা, ইচ্ছাকৃত লোবান বা আগরবাতি জ্বালিয়ে ধোঁয়া গ্রহণ করলে।
১৩. মুখ ভর্তি বমি গিলে ফেললে।
১৪. রাত আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর পানাহার করলে।
১৫. মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে সুবহে সাদিকের পর জাগরিত হলে।

রোজার মাকরুহঃ
০১. অনাবশ্যক কোনো জিনিস চিবানো বা চাখা।
০২. কোনো দ্রব্য মুখে দিয়ে রাখা।
০৩. গড়গড়া করা বা নাকের ভেতর পানি টেনে নেয়া। কিন্তু পানি যদি নাক দিয়ে গলায় পৌঁছে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।

তারাবীহ নামাজের নিয়ত

বাংলা উচ্চারণ: (নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তা আলা রাকয়াতাই সিলাতিৎ তারাবীহী সুন্নাতু রাসূলিল্লা-হি তাআলা মুতাওয়াজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।)

অর্থ : আমি ক্বিলামুখী হয়ে দুই রাকাআ’ত তারাবিহ সুন্নাত নামাজ আল­াহর জন্য আদায়ের নিয়্যত করছি, আল­াহু আকবার। (যদি জামাআ’তের সহিত নামাজ হয় তবে- এই ইমামের ইমামতিতে জামাআ’তের সহিত)।

তারাবীহ নামাজের দোয়া:

বাংলা উচ্চারণ: (সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি সুবহানা জিল্ ইজ্জাতি ওয়াল আজমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারুতি সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদান সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বানা ওয়া রাব্বুল মালা-ইকাতি ওয়াররুহ।)
(প্রত্যেক চার রাকয়াত নামাযের পর এই মোনাজাত পড়িতে হইবে।)

তারাবি নামাজের মোনাজাত:

বাংলা উচ্চারণ: (আল্লা-হুম্মা ইন্না নাস আলুকাল্ জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনান্নারি ইয়া খালিকাল জান্নাতা ওয়ান্নারি বিরাহমাতিকা ইয়া আজীজু, ইয়া গাফ্ফারু, ইয়া কারীমু, ইয়া সাত্তারু, ইয়া রাহিমু ,ইয়া জাব্বারু ইয়া খালেকু, ইয়া রাররূ, আল্লাহুমা আজির না মিনান্নারি, ইয়া মূজিরু ইয়া মুজিরু, বিরাহ্মাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।)

পোষ্টটি লিখেছেন: আল মামুন মুন্না

আল মামুন মুন্না এই ব্লগে 651 টি পোষ্ট লিখেছেন .

আল মামুন মুন্না, বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমিউনিটি ব্লগ সাইট "লেখাপড়া বিডি"র প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন যশোর সরকারী এম. এম. কলেজ থেকে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিষয় নিয়ে বি.বি.এ অনার্স ও আজম খান সরকারী কমার্স কলেজ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন।

আমদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন পেইজে লাইক দিন গ্রুপে যোগ দিন


One comment

  1. labiba Afrin/Online Shopping Bangladesh

    সবার জন্য উপকারি পোস্ট ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *