বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ নিষিদ্ধ

এবার পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পান্তা-ইলিশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হাকিম বুধবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

Barisal_University_Pahela_Baishak

 

সংবাদ সম্মেলনে বর্ষবরণ আয়োজনের নানা দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে কোথাও পান্তা-ইলিশের মিল আছে বলে জানা নেই আমাদের। গ্রামের মানুষ রাতে ভাত থেকে গেলে তা পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখতো, যাতে নষ্ট না হয়। আর পরের দিন সকালে তা খেতো কিন্তু এটা প্রতিদিন হতো না।

আবার, গ্রামের মানুষ কি প্রতিদিন ইলিশ মাছ কিনে খেতে পারছে? বা নববর্ষের দিনে তারা কি ইলিশ মাছ খাচ্ছে?-প্রশ্ন করেন উপাচার্য।

নববর্ষের এ সময়টি হচ্ছে রূপালী ইলিশের প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে রূপালি ইলিশ খাওয়া মানে হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস করা। কাজেই নববর্ষ উদযাপনে পান্তা-ইলিশ ছাড়া সব ধরনের আয়োজনই থাকবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। যোগ করেন উপাচার্য।

তিনি আরো বলেন, বাঙালির এতিহ্য ও বাংলা নববর্ষ উদযাপনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় ১৮টি স্টল থাকছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা ছাড়াও বাইরের যে কেউ স্টল ভাড়া নিতে পারবে। তবে এজন্য তাকে ন্যূনতম একটি ফি অর্থাৎ টোকেন মানি দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাস কর্ণকাঠীতে দিনব্যাপী এ আয়োজনে আরও থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিঠা উৎসব, নাগরদোলা, চড়কি, মৃৎ শিল্প, হস্ত শিল্প, মনিহারিসহ গ্রামীণ ও লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এ উৎসবের সহযোগী হিসেবে থাকছে ডেকো ফুডস্ লিমিটেড।

সংবাদ সম্মেলনে ডেকো ফুডস্ এর এজিএম (মার্কেটিং) অনুপম চন্দ্র সাহা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ শতভাগ বাঙালির ঐতিহ্য তুলে ধরতে যে আয়োজন করছে তাতে সহযোগিতা করতে পেরে আমরা আনন্দিত।

তিনি জানান, মেলায় ডেকো ফুডের পক্ষ থেকে স্টল থাকছে। যেখানে কম মূল্যে ক্রেতারা পণ্য কিনতে পারবে। এছাড়া প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশের কথা চিন্তা করে মেলায় সেলফি জোনও থাকছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হাকিম বলেন, এ বছরের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ মিনার ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলগুলোতে জুনের মধ্যে শিক্ষার্থী উঠিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২২ ফেব্রুয়ারিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ঘোষণা করা হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. একেএম মাহাবুব হাসান, রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) মো. শফিউল আলম প্রমুখ।

পোষ্টটি লিখেছেন: লেখাপড়া বিডি ডেস্ক

লেখাপড়া বিডি ডেস্ক এই ব্লগে 949 টি পোষ্ট লিখেছেন .

লেখাপড়া বিডি বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমিউনিটি ব্লগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *