মায়ানমারে ­­­­­­সামরিক শাসনের বিলুপ্তি!!

মায়ানমারে গনতন্ত্রের ­­পথে যিনি সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তার নাম অং সান সুচি। দেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ছিলেন আপোসহীন নেত্রী। সামরিক জান্তার হাত থেকে মায়ানমারের জনগনকে তিনি বাচাঁতে চান। তারপরেও কি তিনি মায়ানমারের গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন?

Mujakkirঅং সান সুচির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এন এল ডি)১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৮৯ সালে সামরিক সরকার তাকে গৃহবন্ধি করে। ১৯৯০ সালের ­­­নিবাচনে (এন ­­­­­­­এল ডি) বিপুল ভোটে জয়লাভ করে কিন্তু সামরিক সরকার এই ফলাফলকে মেনে নিতে পারে নি। তার ঠিক পরের বছর সুচি শান্তিতে নোবেল পুরুষ্কার লাভ করেন। ২০১০ সালের নিবাচর্নের পর তাকে গৃহবন্ধি থেকে মুক্তি দেয়া হয়। অনেক কষ্ট ও স্বপ্ন পূরণের জন্য অং সান সুচি কাজ করে যাচ্ছেন। যাতে নিজের দেশে সামরিক সরকারের পরিবর্তে গনতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্টা লাভ করা যায়। অবশেষে সামরিক সরকার যারা ৫৪ বছর সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনী-সমর্থিত ক্ষমতায় ছিল তারা গত নভেম্বরে নির্বাচন দেয় এবং ফের ১,২০১৬ তারিখে মায়ানমারের নতুন ইতিহাস সৃষ্ঠি হয়। ৮নভেম্বর ২০১৫ সাল অং সান সুচি তথা মায়ানমারের নবযুগের সূচনা হয়। ১৯৬২ সালে সেনাবাহিনী ক্ষমতা­ দখলের পর এই প্রথম গনতান্ত্রিকবাবে নিবাচর্ন হয় যেখানে অং সান সুচি বিজয় লাভ করেন। ৬৬৪ সদস্যবিশিষ্ঠ পালামেন্ট অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন সদস্য রয়েছে ৩৯০ জন এবং সেনাবাহিনীর রয়েছে ১৬৬ জনের। পালামেন্ট সেনা-সমর্থিত এউএসডিপির সদস্য রয়েছে মাত্র ৪১ জন। বর্তমান প্রেসিডেন্টের নাম থেইন সেইন। আগামী মার্চের শেষ কিংবা এপ্রিলের প্রথম দিকে থেইন সেইন পদত্যাগ করবেন।

এই তো শেষ হলো নিবার্চন ও ফলাফলের পক্রিয়া কথা। তারপর শুরু করি দ্বিতীয় পক্রিয়া-ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এন এল ডি) ৮০ শতাংশের বেশি আসন পেয়ে পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। তার পরও অং সান সুচি গনতান্ত্রিক পক্রিয়ায় দেশ পরিচালনা করতে পারবেন? দেশ পরিচালনার জন্য চাই রাষ্ট্রপতি পদ না হয় প্রধানমন্ত্রীর পদ। কিন্তু হতাশা হওয়ার বিষয় হলো তিনি রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রির পদ পাবেন না। কিন্তু কেন? উনি কি এই পদের জন্য যোগ্য না? এইসবের একটাই জবাব তা হলো সংবিধানের ধারা যা তাকে এই পদ পেতে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রথম প্রশ্ন:-তিনি কেন রাষ্ঠ্রপতি হতে পারবেন না? কারণ হলো- সংবিধানের ৫৯(চ) অনুচ্ছেদের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যার স্ত্রী/স্বামী বা সন্তানরা বিদেশী নাগরিক এমন কেউই রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হতে পারবেন না। কিন্তু দেখা যায় এই সংগ্রামী নেত্রীর স্বামী ও দু সন্তান ব্রিটিশ নাগরিক। তাই তিনি রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না। তবে সুচি জোর দিয়ে বলেছেন ”তিনি প্রেসিডেন্ট হন বা না হন ক্ষমতার চাবি তার হাতেই থাকবে। এখন দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো:-তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হতে কেন পারবেন না? কারণ হলো সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর পদটি বিলুপ্ত হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী মিয়ানমারে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার বিদ্যমান। যেহেতু পধানমন্ত্রীর পদই নেই তাহলে তিনি কি অন্য কোন উপায়ে রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন? হ্যা। তা হলো যদি সংবিধানে ৫৯(চ) অনুচ্ছেদর পরিবর্তন যদি করা যায়। কিন্তু কিভাবে সংবিধানের ৫৯(চ) অনুচ্ছেদটির পরিবর্তন করা যাবে। কিন্তু পরিবর্তনের জন্য সেনাবাহিনীর সমর্থন ব্যতিত তা রহিত করা যাবে না। কারন পালামেন্ট দুই-তৃতীয়াংশ ভোটেই কেবল ঐ অনুচ্ছেদের আইনত অপসারণ করতে পারবে। কিন্তু পালামেন্টে সেনাবাহিনীর হাতে শতকরা ২৫ ভাগ মনোনীত আসন রয়েছে।তাই ইচ্ছা করলেই এনএলডি নিজের উদ্যেগে ৫৯(চ) অনুচ্ছেদটি রহিত করতে পারবে না। কিন্তু সুচি বলেছেন যে,প্রেসিডেন্ট নাও হলে তবুও তিনি দৃশ্যের বাইরে থেকে দেশ শাসন করবেন।যেমনটা দেখা যায় সোনিয়া গান্ধীর মত।সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রী না হয়ে মনমোহন সিংকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন।কিন্তু সোনিযা গান্ধী ছিলেন সকল ক্ষমতার অধিকারি।

এখন অং সান সুচির করণীয় হল তিনি সেনাবাহিনীর সাথে সমঝোতা মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা । না হলে হয়ত ৭০ বছর বয়সি এই সংগ্রামী নেত্রীর পত্যক্ষ দেশ পরিচালনা দেখা যাবে না। তাই অং সান সুচির উচিত হবে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন রোহিঙ্গা সমস্যা যেমন তাদের নাগরিকত্ব দেয়া,তাদের চলাচলের বাধা-নিষেধ তুলে নেয়া এবং তাদের বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করা। এটাই সবাই প্রত্যশা করবে নতুন সরকারের কাছ থেকে। তাহলে প্রমাণিত হবে সত্যিই অং সান সুচিকে শান্তিতে নোবেল পুরুষ্কার দেওয়া যুক্তিযুক্ত এবং তিনি রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি কি ব্যবহার করেন তাও দেখার বিষয় কারণ এই প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের পালামেন্টে কোন মুসলিম প্রতিনিধিত্ব নেই। এটা মুসলমানদের আতঙ্ক পাবার মত একটি ঘটনা। তারপরও সবার প্রত্যাশা থাকবে তিনি সকল সমস্যা দূর করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করবেন।

লেখক-

মো:মুজাক্কির হোসাইন সিদ্দিকী

অর্থনীতি(মাষ্টার্স)শেষ বর্ষ

মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ

মোবা: 01718790554 (০১৭১৮৭৯০৫৫৪)

পোষ্টটি লিখেছেন: মুজাক্কির হোসাইন সিদ্দিকী

মুজাক্কির হোসাইন সিদ্দিকী এই ব্লগে 9 টি পোষ্ট লিখেছেন .

তিনি বর্তমানে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিভাগে মাষ্টার্স করছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *