মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল ভার্সনে চালু হলো প্রাথমিক শিক্ষা

প্রাথমিক শিক্ষাকে ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল ভার্সনে চালু করা হয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখ  ‘প্রাথমিক শিক্ষা কন্টেন্ট ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল ভার্সনে রূপান্তর’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতকৃত ডিজিটাল কন্টেন্টের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এর উদ্বোধন করা হয়।
Digital Book

মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল ভার্সনে রূপান্তরিত এ কন্টেন্ট শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকরা http://digitalcontent.ictd.gov.bd/ ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য…

প্রাথমিক শিক্ষা কন্টেন্ট ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল ভার্সনে রুপান্তরকরণ এর বিস্তারিত তথ্য

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক প্রণীত প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের (প্রথম-পঞ্চম শ্রেণি) আলোকে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ক (১৭টি বইয়ের) ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্ট তৈরি করা এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। পাঠ্যপুস্তকের ধারণাসমূহ আরো আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করতে বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ছবি, চার্ট, ডায়াগ্রাম, অডিও, ভিডিও সহ মাল্টিমিডিয়া উপকরণসমূহ সংযোজন করে এ্যানিমেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ভিক্তিক শিক্ষক, প্রশিক্ষক, প্যাডাগোজি বিশেষজ্ঞ, এডুকেশন সেক্টর বিশেষজ্ঞ, চাইল্ড সাইকোলজিস্ট, কালার, প্রোগ্রামিং ও এনিমেশন বিশেষজ্ঞদের সরাসরি অংশগ্রহণ ও মতামতের ভিত্তিতে প্রতিটি অধ্যায়ের কাংখিত শিখনফলের আলোকে এই ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্টসমূহ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর ফলে –

আমদের পেইজে লাইক দিন গ্রুপে যোগ দিন
  • কন্টেন্টসমূহ শ্রেণিকক্ষে ব্যবহারের মাধ্যমে পাঠ্যবিষয়কে সহজ এবং শিখন-শেখানো প্রক্রিয়াকে অংশগ্রহণমূলক, আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক করবে
  • কন্টেন্টসমূহ শ্রেণিকক্ষে ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষকে শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক শ্রেণিকক্ষে পরিণত করা
  • পাঠদানকে অধিকতর মনযোগ-আকর্ষন করা এবং বিষয়ভিত্তিক ধারণা স্পষ্ট করা ও উন্নততর প্রয়োগ
  • পাঠ্য সম্পর্কে শিক্ষকের অনুধাবন বৃদ্ধি
  • শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্য স্ব-শিক্ষণের ব্যবস্থা করা
  • আধুনিক কম্পিউটার প্রযুক্তির সাথে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পরিচিত করানো

একটা জাতির উন্নতির চাবিকাঠি হল শিক্ষা। জ্ঞান, মেধা ও মননে আধুনিক এবং চিন্তা-চেতনায় অগ্রসর একটি সুশিক্ষিত জাতিই একটি দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। আধুনিক যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে প্রযুক্তি। শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বর্তমানে সারা বিশ্বব্যাপী। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০, জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা ২০০৯ ও ৭ম পঞ্চবাষির্কী পরিকল্পনায় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কম্পিউটার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত।

সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা, কম্পিউটারসহ আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা লাভ এবং তা আয়ত্ত ও প্রয়োগ করা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এছাড়াও জাতিসংঘ গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’য় (এসডিজি) সকলের জন্য টেকসই গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষার উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন বর্তমান যুগের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারের বিষয়। টেকসই গুণগত মানসম্মত শিক্ষায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্টের ভূমিকা আজ সর্বজনস্বীকৃত।

শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদান পদ্ধতি ও বিষয়বস্তু আকর্ষণীয় ও আনন্দময় করে তোলা অতি জরুরি। মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে বিকশিত চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি এবং অনুসন্ধিৎসু মননের অধিকারী হয়ে সকল শিক্ষার্থী যাতে প্রতিস্তরে মানসম্পন্ন প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জন করতে পারে তা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্টের ব্যবহার অত্যাবশ্যক। দেশজ আবহ ও উপাদান সমপৃক্ততার মাধ্যমে শিক্ষাকে শিক্ষার্থীর চিন্তা-চেতনা ও সৃজনশীলতার উজ্জীবন এবং তার জীবন-ঘনিষ্ঠ জ্ঞান বিকাশে সহায়ক।

জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় ও মানব জীবনে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব সর্বাধিক ও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। শিক্ষার এই স্তর পরবর্তী সকল স্তরের ভিত্তি সৃষ্টি করে বলে যথাযথ মানসম্পন্ন উপযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষা অপরিহার্য। বিদ্যালয়ে আনন্দময় অনুকূল পরিবেশ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সহায়ক। এলক্ষ্যে উন্নতবিশ্বে শিক্ষার একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকেই কম্পিউটারকে শিক্ষাদানের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে কম্পিউটারকে শিক্ষাদানের উপকরণ  হিসেবে ব্যবহারের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে নানারকম উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রায় ১৫০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি করে মিল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু গুণগত মানসম্পন্ন ও যথাযথ মাল্টিমিডিয়া শিক্ষা কন্টেন্টের অপ্রাপ্যতা এই উদ্যেগের কাক্সিক্ষত প্রত্যাশা পূরণে বাধাগ্রস্তÍ করতে পারে। আলোচ্য কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত মিল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে একই মানের মাল্টিমিডিয়া শিক্ষা কন্টেন্ট ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করবে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের রূপকল্প ২০২১: ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্র্যাক (বাংলা, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ক ১২টি বইয়ের) ও সেভ দ্য চিলড্রেন (ইংরেজি বিষয়ের ৫টি বইয়ের) কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।

প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় গৃহীতব্য কার্যক্রমসমূহ এবং কার্যক্রমসমূহের সম্ভাব্য ফলাফল/প্রভাব

মূল কার্যক্রমসমূহফলাফল/ প্রভাব
ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্ট প্রস্তÍতকরণ: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তÍক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক প্রণীত প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের আলোকে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও পরিবেশ পরিচিতি/বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ক (১৭টি বইয়ের) ইন্টার-অ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল কন্টেন্ট প্রস্তÍতকরণ।মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে এনিমেশনকৃত ডিজিটাল কন্টেন্টসমূহ ব্যবহারের মাধ্যমে পাঠ্য বিষয়কে সহজ এবং পাঠদান প্রক্রিয়াকে অংশগ্রহণমূলক, আনন্দদায়ক ও শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক শ্রেণিকক্ষে পরিণত করা যাবে। পাঠদান অধিকতর মনযোগ-আকর্ষক হবে।
ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্ট সংকলন: একটি উন্মুক্ত ওয়েবসাইট/ ক্লাইডে থাকবে যেখানে সাধারণ মানুষ ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্টসমূহ ডাইনলোড করতে পারবে। কর্মসূচির আওতায় প্রণীতব্য কন্টেন্টসমূহ সড়নরষব বহধনষব হবে। এছাড়াও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কন্টেন্টসমূহ বিনামূল্যে বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয়/অধিদপ্তর কে ১৫,০০০ (পনের হাজার) ডিভিডি প্রিন্ট করে প্রদান করা হবে।ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্টসমূহ বিনামূল্যে ডাইনলোড করে অথবা যে কোন মোবাইলের মাধ্যমে যে কেউ স্ব-শিক্ষণে বা ক্লাসরুমে ব্যবহারের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক ধারণা স্পষ্ট ও উন্নততর করতে পারবে।
ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্ট স্ত্রিপ্ট তৈরি প্রশিক্ষণ: ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্ট স্ত্রিপ্ট তৈরিতে প্রাথমিক শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিষয়-ভিত্তিক বিশেষজ্ঞগণ সম্পৃক্ত থাকবেন। এলক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে কর্মশালার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।সংশ্লিষ্ট সকল প্রশিক্ষণার্থী হাতে-কলমে স্ত্রিপ্ট তৈরি করা শিখবেন এবং পরবর্তীতে স্ত্রিপ্ট তৈরি করতে পারবেন। বিষয়ভিত্তিক ধারণা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের অনুধাবন বৃদ্ধি করবে।

এই প্রকল্পের আওতায় এনসিটিবি কর্তৃক প্রণীত প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের নিমোক্ত বইয়ের সকল অধ্যায়ের ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করা হচ্ছে-

শ্রেণিবাংলাইংরেজিগণিতবিজ্ঞানবাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়
১মপ্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
২য়প্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
৩য়
৪র্থ
৫ম

পোষ্টটি লিখেছেন: লেখাপড়া বিডি ডেস্ক

লেখাপড়া বিডি ডেস্ক এই ব্লগে 837 টি পোষ্ট লিখেছেন .

Ads by Wizards

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।