পবিত্র মাহে রমজান মাস ১৪৩৮ এর সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০১৭, রোজার নিয়ত, ইফতারের দোয়া এবং রোজা ভঙ্গ ও মাকরুহ এর কারণ

পবিত্র রমযান হল ইসলামিক বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে নবম মাস। এটি সংযমের মাস। এই মাসে বিশ্বব্যাপী মুসলিমগণ সাওম পালন করে থাকেন। রমজান মাসে সাওম বা রোজা পালন ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়তম। রমজান মাসের শেষদিকে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে মুসলমানগণ ঈদুল-ফিতর পালন করে থাকেন।

আপনাদের সুবিধার্থে লেখাপড়া বিডি’তে  বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার জন্য সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী (হিজরী ১৪৩৮, ইংরেজি ২০১৭) তুলে ধরা হল। প্রদত্ত প্রথম ছকে সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী শুধুমাত্র ঢাকা জেলার জন্য প্রযোজ্য। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার সাথে ঢাকা জেলার সময়ের কিছুটা পার্থক্য আছে। ঢাকার সময়ের সাথে কিছু সময় যোগ বা বিয়োগ করে অন্যান্য কতিপয় জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী পাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে, ঢাকার সময়ের সাথে কত মিনিট যোগ বা বিয়োগ করলে অন্য জেলার সেহরি ও ইফতারের সময় পাওয়া যাবে তা জানতে এই পোস্টের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছক দেখুন।

ঢাকা জেলার পবিত্র মাহে রমজান ১৪৩৮ সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০১৭

হিজরি ১৪৩৭ রমজান জুন/জুলাই
২০১৬ ইং
বার সেহরির শেষ সময় ইফতারের সময়
০১ ২৮ মে রবিবার ৩-৪০ ৬-৪৪
০২      ২৯ মে সোমবার ৩-৪০ ৬-৪৪
০৩ ৩০ মে মঙ্গলবার ৩-৪০ ৬-৪৫
০৪ ৩১ মে বুধবার ৩-৩৯ ৬-৪৫
০৫ ০১ জুন বৃহস্পতিবার ৩-৩৯ ৬-৪৬
০৬ ০২ জুন শুক্রবার ৩-৩৯ ৬-৪৬
০৭ ০৩ জুন শনিবার ৩-৩৯ ৬-৪৬
০৮ ০৪ জুন রবিবার ৩-৩৯ ৬-৪৭
০৯ ০৫ জুন সোমবার ৩-৩৯ ৬-৪৭
১০ ০৬ জুন মঙ্গলবার ৩-৩৮ ৬-৪৭
১১ ০৭ জুন বুধবার ৩-৩৮ ৬-৪৮
১২ ০৮ জুন বৃহস্পতিবার ৩-৩৮ ৬-৪৮
১৩ ০৯ জুন শুক্রবার ৩-৩৮ ৬-৪৯
১৪ ১০ জুন শনিবার ৩-৩৮ ৬-৪৯
১৫ ১১ জুন রবিবার ৩-৩৮ ৬-৫০
১৬ ১২ জুন সোমবার ৩-৩৮ ৬-৫০
১৭ ১৩ জুন মঙ্গলবার ৩-৩৭ ৬-৫০
১৮ ১৪ জুন বুধবার ৩-৩৮ ৬-৫০
১৯ ১৫ জুন বৃহস্পতিবার ৩-৩৮ ৬-৫১
২০ ১৬ জুন শুক্রবার ৩-৩৮ ৬-৫১
২১ ১৭ জুন শনিবার ৩-৩৮ ৬-৫১
২২ ১৮ জুন রবিবার ৩-৩৮ ৬-৫১
২৩ ১৯ জুন সোমবার ৩-৩৮ ৬-৫২
২৪ ২০ জুন মঙ্গলবার ৩-৩৮ ৬-৫২
২৫ ২১ জুন বুধবার ৩-৩৮ ৬-৫২
২৬ ২২ জুন বৃহস্পতিবার ৩-৩৯ ৬-৫২
২৭ ২৩ জুন শুক্রবার ৩-৩৯ ৬-৫৩
২৮ ২৪ জুন শনিবার ৩-৩৯ ৬-৫৩
২৯ ২৫ জুন রবিবার ৩-৩৯ ৬-৫৩
৩০ ২৬ জুন সোমবার ৩-৪০ ৬-৫৩

 [সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ডাউনলোড]

ঢাকার সাথে বিভিন্ন জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়ের পার্থক্য

ঢাকার সময়ের সাথে একই হবে

সেহরি: নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, নোয়াখালী, চাঁদপুর ও নীলফামারী।

ইফতার: গাজীপুর, নেত্রকোনা, গোপালগঞ্জ, ও বাগেরহাট।

ঢাকার সময়ের সঙ্গে যোগ (+) করতে হবে

জেলা সেহরি জেলা ইফতার
দিনাজপুর, লক্ষ্মীপুর, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া ও কক্সবাজার ১ মিনিট মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ ও খুলনা ১ মিনিট
মানিকগঞ্জ, ও শরীয়তপুর ২ মিনিট নড়াইল ও টাঙ্গাইল ২ মিনিট
মাদারীপুর, ফরিদপুর, ভোলা, বরিশাল ও নওগাঁ ৩ মিনিট মাগুরা, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, যশোর ও সাতক্ষীরা ৩ মিনিট
পাবনা, রাজবাড়ী, নাটোর ও ঝালকাঠি ৪ মিনিট জামালপুর, রাজবাড়ী ও ঝিনাইদহ ৪ মিনিট
গোপালগঞ্জ, মাগুরা, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর ৫ মিনিট কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও পাবনা ৫ মিনিট
নড়াইল, বাগেরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও বরগুনা ৬ মিনিট গাইবান্ধা, নাটোর ও বগুড়া ৬ মিনিট
খুলনা, যশোর, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা ৭ মিনিট রাজশাহী, নওগাঁ, মেহেরপুর ও কুড়িগ্রাম ৭ মিনিট
রংপুর, জয়পুরহাট ও লালমনিরহাট ৮ মিনিট
সাতক্ষীরা ৯ মিনিট ৯ মিনিট
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর ও নীলফামারী ১০ মিনিট
১১ মিনিট
পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও ১২ মিনিট

ঢাকার সময় থেকে কমাতে (-) হবে

জেলা সেহরি জেলা ইফতার
গাজীপুর, পঞ্চগড়, রংপুর ও চট্টগ্রাম ১ মিনিট নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও পিরোজপুর ১ মিনিট
নরসিংদী, কুমিল্লা, ফেনী, গাইবান্ধা ও বান্দরবান ২ মিনিট ঝালকাঠি, শরীয়তপুর, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী ও সুনামগঞ্জ ২ মিনিট
লালমনিরহাট, শেরপুর, কুড়িগ্রাম ও  রাঙ্গামাটি ৩ মিনিট পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, বরগুনা, বরিশাল ও চাঁদপুর ৩ মিনিট
কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ৪ মিনিট ভোলা, লক্ষীপুর, সিলেট ও কুমিল্লা ৪ মিনিট
নেত্রকোনা ও খাগড়াছড়ি ৫ মিনিট নোয়াখালী ও মৌলভীবাজার ৫ মিনিট
হবিগঞ্জ ৬ মিনিট ফেনী ৬ মিনিট
সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার ৮ মিনিট খাগড়াছড়ি ৮ মিনিট
 সিলেট ৯ মিনিট চট্টগ্রাম ৯ মিনিট
রাঙ্গামাটি ১০ মিনিট
বান্দরবান ও কক্সবাজার ১১ মিনিট

সূত্রঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

রোজার নিয়ত :

نويت ان اصوم غدا من شهر رمضان المبارك فرضا لك ياالله فتقبل منى انك انت السميع العليم

উচ্চারণঃ নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আগামীকাল পবিত্র রমযান মাসে তোমার পক্ষ হতে ফরজ করা রোজা রাখার নিয়ত করলাম, অতএব তুমি আমার পক্ষ হতে কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

ইফতারের দোয়াঃ

اللهم لك صمت و على رزقك افطرت

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।

অর্থঃহে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক্ব দ্বারা ইফতার করছি।

রোজা ভঙ্গের কারণঃ
০১. ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে।
০২. স্ত্রী সহবাস করলে।
০৩. কুলি করার সময় হলকের নিচে পানি চলে গেলে (অবশ্য রোজার কথা স্মরণ না থাকলে রোজা ভাঙবে না)।
০৪. ইচ্ছকৃত মুখভরে বমি করলে।
০৫. নস্য গ্রহণ করা, নাকে বা কানে ওষুধ বা তেল প্রবেশ করালে।
০৬. জবরদস্তি করে কেউ রোজা ভাঙালে।
০৭. ইনজেকশান বা স্যালাইনের মাধ্যমে দেহে ওষুধ পৌঁছালে।
০৮. কংকর, পাথর বা ফলের বিচি গিলে ফেললে।
০৯. সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে ইফতার করার পর দেখা গেল সূর্যাস্ত হয়নি।
১০. পুরা রমজান মাস রোজার নিয়ত না করলে।
১১. দাঁত থেকে ছোলা পরিমান খাদ্যদ্রব্য গিলে ফেললে।
১২. ধূমপান করা, ইচ্ছাকৃত লোবান বা আগরবাতি জ্বালিয়ে ধোঁয়া গ্রহণ করলে।
১৩. মুখ ভর্তি বমি গিলে ফেললে।
১৪. রাত আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর পানাহার করলে।
১৫. মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে সুবহে সাদিকের পর জাগরিত হলে।

রোজার মাকরুহঃ
০১. অনাবশ্যক কোনো জিনিস চিবানো বা চাখা।
০২. কোনো দ্রব্য মুখে দিয়ে রাখা।
০৩. গড়গড়া করা বা নাকের ভেতর পানি টেনে নেয়া। কিন্তু পানি যদি নাক দিয়ে গলায় পৌঁছে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।

পোষ্টটি লিখেছেন: আল মামুন মুন্না

আল মামুন মুন্না এই ব্লগে 549 টি পোষ্ট লিখেছেন .

আল মামুন মুন্না, বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমিউনিটি ব্লগ সাইট "লেখাপড়া বিডি"র একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন যশোর সরকারী এম. এম. কলেজ থেকে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিষয় নিয়ে বি.বি.এ অনার্স সম্পন্ন করছেন ।


পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদেরকেও জানার সুযোগ দিন। ফেইসবুকে শিক্ষা বিষয়ক তথ্য পেতে আমাদের গ্রুপে যোগ দিন অথবা পেইজ এ লাইক দিয়ে রাখুন

One comment

  1. সবার জন্য উপকারি পোস্ট ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।